Blog

  • ৯৬ শতাংশ অ্যান্টিবায়োটিক শিশুদের শরীরে কাজ করছে না

    ৯৬ শতাংশ অ্যান্টিবায়োটিক শিশুদের শরীরে কাজ করছে না

    রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের শিশু নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (পিআইসিইউ) পরিচালিত সাম্প্রতিক এক গবেষণায় চিকিৎসকদের চোখ কপালে ওঠার মতো তথ্য সামনে এসেছে। সেখানে চিকিৎসাধীন শিশুদের শরীরে প্রথম সারির প্রায় সব অ্যান্টিবায়োটিকই অকার্যকর হয়ে পড়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, আক্রান্ত শিশুদের শরীরে ৯৬ শতাংশ অ্যান্টিবায়োটিকই কোনো কাজ করছে না। ফলে চিকিৎসকদের হাতে এখন ‘শেষ অস্ত্র’ হিসেবে মাত্র দুটি অ্যান্টিবায়োটিক অবশিষ্ট রয়েছে।

    চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত চার মাস ধরে রামেক হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগের ইনচার্জ ডা. আবু হেনা মোস্তফা কামালের নেতৃত্বে এই গবেষণাটি পরিচালিত হয়। সহগবেষক হিসেবে ছিলেন ডা. ওয়াহিদা খাতুন, ডা. নাসরিন সুলতানা, ডা. সুলতানা আক্তার, ডা. শামীমা নাসরিন ও ডা. সিরাজুম মুনির। পিআইসিইউতে থাকা শিশুদের শরীরে একের পর এক অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগেও কোনো সুফল না পেয়ে চিকিৎসকেরা এই গবেষণাটি করার সিদ্ধান্ত নেন, যা পরবর্তীতে জার্নাল অব টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনে প্রকাশিত হয়।

    গবেষণার জন্য পিআইসিইউতে চিকিৎসাধীন ৪৯টি শিশুর শরীর থেকে জীবাণু সংগ্রহ করা হয়, যার মধ্যে ৩০টি গ্রাম-নেগেটিভ ও ১৯টি গ্রাম-পজিটিভ জীবাণু ছিল। দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ঘটাচ্ছে ‘অ্যাসিনেটোব্যাক্টার বাউমানি কমপ্লেক্স’ নামের জীবাণু, যা মোট সংক্রমণের ২৪ দশমিক ৫ শতাংশ। এছাড়া ক্লেবসিয়েলা নিউমোনিয়া এবং স্ট্যাফাইলোকক্কাস হিমোলিটিকাসের মতো মারাত্মক জীবাণুর উপস্থিতিও পাওয়া গেছে।

    পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গ্রাম-নেগেটিভ জীবাণুর ক্ষেত্রে প্রথম সারির অ্যান্টিবায়োটিক ইমিপেনেমের প্রতি প্রতিরোধ ৯৬ দশমিক ৭ শতাংশ এবং মেরোপেনেম ও পাইপেরাসিলিন-টাজোব্যাক্টামের প্রতি ৯৬ দশমিক ৪ শতাংশ। অর্থাৎ, এসব ওষুধ জীবাণু দমনে পুরোপুরি ব্যর্থ। চিকিৎসকদের হাতে বাকি থাকা দুটি অস্ত্র হলো টাইজেসাইক্লিন ও কলিস্টিন। তবে কলিস্টিনের ক্ষেত্রেও ভবিষ্যতে সম্পূর্ণ প্রতিরোধী হয়ে ওঠার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে, গ্রাম-পজিটিভ জীবাণুর ক্ষেত্রে লাইনেজলিড ও ডাস্টোমাইসিন এখনো কার্যকর থাকলেও, গত এপ্রিলে প্রথমবারের মতো তিনটি টেইকোপ্লানিন-প্রতিরোধী জীবাণু শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া সিপ্রোফ্লক্সাসিন ও লেভোফ্লক্সাসিনের প্রতিরোধ ক্ষমতাও আশঙ্কাজনক স্তরে পৌঁছেছে এবং অ্যারিথ্রোমাইসিনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা এখন শতভাগ।

    সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই প্রতিরোধের হার জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত সংগৃহীত জীবাণুর ক্ষেত্রে প্রথম সারির ছয়টি অ্যান্টিবায়োটিকের প্রতি প্রতিরোধ ক্ষমতা যেখানে ছিল ৮৩ দশমিক ৮ শতাংশ, সেখানে এপ্রিল মাসে পাওয়া প্রতিটি গ্রাম-নেগেটিভ জীবাণুর ক্ষেত্রেই এই প্রতিরোধ ক্ষমতা এক লাফে শতভাগে পৌঁছায়। গবেষকেরা একে পুরো হাসপাতালজুড়ে সংক্রমণ প্রতিরোধী হয়ে ওঠার একটি মারাত্মক সংকেত হিসেবে দেখছেন।

    গবেষণায় আরও দেখা গেছে, আগে থেকে অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করা শিশুদের মধ্যে একাধিক ওষুধ-প্রতিরোধী (এমডিআর) জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকি সাধারণ শিশুদের চেয়ে প্রায় সাত গুণ বেশি। এই এমডিআর জীবাণুতে আক্রান্ত শিশুদের সুস্থ হতে গড়ে ১৪ দিন সময় লাগছে, যেখানে সাধারণ শিশুরা মাত্র ৬ দিনেই সেরে ওঠে।

    তবে গবেষণার কিছু সীমাবদ্ধতার কথাও উল্লেখ করেছেন চিকিৎসকেরা। যেহেতু এটি মাত্র ৪৯টি নমুনার ওপর ভিত্তি করে একটি মাত্র হাসপাতালে করা হয়েছে এবং জীবাণুর জিনগত বিশ্লেষণ করা সম্ভব হয়নি, তাই এর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। এই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে গবেষকেরা অবিলম্বে অকারণে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার বন্ধ করা, হাসপাতালে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং সারা দেশের প্রকৃত চিত্র জানতে জরুরি ভিত্তিতে জাতীয় তদারকির আহ্বান জানিয়েছেন। একই সাথে শিশুদের এমনভাবে পরিচর্যার মধ্যে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন, যাতে তারা অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগের মতো অসুস্থতাই এড়াতে পারে। সূত্র- আজকের পত্রিকা

  • ক্যানসার চিকিৎসায় অবিশ্বাস্য বিপ্লব: এক ইনজেকশনেই উধাও টিউমার

    ক্যানসার চিকিৎসায় অবিশ্বাস্য বিপ্লব: এক ইনজেকশনেই উধাও টিউমার

    ক্যানসার চিকিৎসায় এক অভূতপূর্ব ও নজিরবিহীন সাফল্যের দেখা পেয়েছেন চিকিৎসকরা। নতুন একটি ক্যানসারবিরোধী ইনজেকশনের আন্তর্জাতিক পরীক্ষা চালিয়ে তারা এমন ফলাফল পেয়েছেন, যা রোগীর শরীরে থাকা সম্পূর্ণ টিউমার নির্মূল করে দিতে পারে। চিকিৎসকরা এই ফলাফলকে ‘অভূতপূর্ব’ এবং গবেষকরা একে ‘নজিরবিহীন’ বলে অভিহিত করেছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়েছে।

    চূড়ান্ত ব্যর্থ রোগীদের ওপর অভাবনীয় ট্রায়াল

    প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বের ১১টি দেশে এই আন্তর্জাতিক ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা (ট্রায়াল) চালানো হয়। ট্রায়ালে এমন সব রোগীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল যাদের শরীরে ক্যানসার মারাত্মকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে কিংবা পুনরায় ফিরে এসেছে। সবচেয়ে বড় কথা, কেমোথেরাপি ও ইমিউনোথেরাপি—উভয় চিকিৎসায় যাদের কোনো সুফল পাওয়া যায়নি এবং যাদের ক্যানসার এই প্রচলিত চিকিৎসার বিরুদ্ধে প্রতিরোধী (রেজিস্ট্যান্ট) হয়ে উঠেছে, তাদের শরীরেই এই ইনজেকশন দেওয়া হয়।

    ফলাফলে দেখা গেছে, ‘অ্যামিভ্যান্টাম্যাব’ (Amivantamab) নামের এই ইনজেকশন এক-তৃতীয়াংশের বেশি রোগীর টিউমার ছোট করতে পেরেছে। অনেকের ক্ষেত্রে চিকিৎসা শুরুর মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই উল্লেখযোগ্য উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে এবং ১৫ জন রোগীর শরীরের টিউমার সম্পূর্ণভাবে গলে গেছে। লন্ডনের ইনস্টিটিউট অব ক্যানসার Research (আইসিআর)-এর জৈবিক ক্যানসার চিকিৎসাবিষয়ক অধ্যাপক কেভিন হ্যারিংটন বলেন, “যাদের জন্য চিকিৎসার বিকল্প খুবই সীমিত, তাদের ক্ষেত্রে এটি নজিরবিহীন ও শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া। এই উপকারিতা দেখা সত্যিই আশাব্যঞ্জক।”

    রয়্যাল মার্সডেন এনএইচএস ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের কনসালট্যান্ট অনকোলজিস্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করা হ্যারিংটন জানান, এই চিকিৎসার মাধ্যমে প্রতি বছর হাজার হাজার ক্যানসার রোগী উপকৃত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্যানসার সম্মেলন ‘আমেরিকান সোসাইটি অব ক্লিনিক্যাল অনকোলজি’র (অ্যাসকো) বার্ষিক সভায় এই ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করার কথা রয়েছে।

    পরীক্ষার পরিসংখ্যান ও কার্যকারিতার পরিধি

    বিশ্বের ষষ্ঠ সর্বাধিক প্রচলিত ক্যানসার হলো মাথা ও ঘাড়ের ক্যানসার। এই ট্রায়ালে মূলত মাথা ও ঘাড়ের ক্যানসারে আক্রান্ত ১০২ জন রোগীকে অ্যামিভ্যান্টাম্যাব ইনজেকশন দেওয়া হয়েছিল। তাদের মধ্যে ৪৩ জনের টিউমার ছোট হয়ে গেছে বা সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে গেছে। বিস্তারিতভাবে বলতে গেলে, ২৮ জনের টিউমার উল্লেখযোগ্যভাবে সংকুচিত হয়েছে এবং ১৫ জনের টিউমার পুরোপুরি নির্মূল হয়েছে।

    গবেষকরা জানিয়েছেন, ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রেও এই ইনজেকশন একই ধরনের চমকপ্রদ ফলাফল দেখিয়েছে। বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠান জনসন অ্যান্ড জনসনের আবিষ্কৃত অ্যামিভ্যান্টাম্যাব বর্তমানে প্রায় ৬০টি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। ফুসফুস এবং মাথা ও ঘাড়ের ক্যানসারের পাশাপাশি মলাশয় (কোলোরেক্টাল), মস্তিষ্ক ও পাকস্থলীর ক্যানসারের ক্ষেত্রেও এর কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হচ্ছে।

    যেভাবে কাজ করে এই ‘স্মার্ট’ ইনজেকশন

    এই ইনজেকশনটি প্রচলিত কেমোথেরাপির চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা এবং এটি তিনটি ভিন্ন উপায়ে ক্যানসারের বিরুদ্ধে নিখুঁতভাবে কাজ করে:

    • প্রথমত: এটি ‘ইজিএফআর’ (এপিডার্মাল গ্রোথ ফ্যাক্টর রিসেপ্টর) নামের এমন একটি প্রোটিনকে ব্লক বা বাধা দেয়, যা মূলত ক্যানসার টিউমারের বৃদ্ধি দ্রুত ত্বরান্বিত করে।
    • দ্বিতীয়ত: এটি ‘এমইটি’ (MET) নামের একটি বিশেষ পথ বন্ধ করে দেয়, যে পথটি ব্যবহার করে ক্যানসারের কোষগুলো প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতিকে ফাঁকি দিয়ে বেঁচে থাকে।
    • তৃতীয়ত: এটি রোগীর শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা বা ইমিউন সিস্টেমকে তীব্রভাবে সক্রিয় করে তোলে, যা সরাসরি টিউমারের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সহায়তা করে।

    সালাইনের ঝামেলাহীন সহজ চিকিৎসা

    অন্যান্য সাধারণ ক্যানসার চিকিৎসার মতো অ্যামিভ্যান্টাম্যাব ইনজেকশন শিরায় স্যালাইনের মাধ্যমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে দিতে হয় না। এটি ত্বকের নিচে ছোট একটি ইনজেকশনের মাধ্যমে শরীরে পুশ করা হয়। ফলে এর চিকিৎসা অত্যন্ত দ্রুত, সহজ এবং হাসপাতালের বহির্বিভাগে (আউটডোর) পরিচালনা করাও সুবিধাজনক। প্রতি তিন সপ্তাহে একবার দেওয়া এই চিকিৎসার বেশির ভাগ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াই ছিল অত্যন্ত মৃদু বা মাঝারি মাত্রার। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার জটিলতার কারণে ১০ জনের মধ্যে একজনেরও কম রোগীকে এই চিকিৎসা বন্ধ করতে হয়েছে।

    স্বাভাবিক জীবনে ফিরছেন রোগীরা: কার্ল ওয়ালশের গল্প

    এই চিকিৎসায় প্রথম দিকেই অলৌকিক সুফল পান ৫৬ বছর বয়সী কার্ল ওয়ালশ। ২০২৪ সালের মে মাসে তার জিবে ক্যানসার ধরা পড়েছিল। এরপর ২০২৫ সালের জুলাইয়ে তিনি রয়্যাল মার্সডেনে ‘অরিগ্যামি-৪’ নামের ওই ট্রায়ালে যোগ দেন। ইংল্যান্ডের বার্মিংহামের বাসিন্দা ওয়ালশ তার অভিজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, আমি এখন প্রায় স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারছি। ট্রায়াল শুরু করার আগে জিভের ফোলা ও তীব্র ব্যথার কারণে ঠিকমতো কথা বলতে পারতাম না, খেতেও অনেক কষ্ট হতো। চিকিৎসা শুরুর পর ফোলা ও ব্যথা নাটকীয়ভাবে কমে গেছে।

    তিনি আরও জানান, চিকিৎসার মাত্র দুই চক্রের পর থেকেই তার খাদ্যাভ্যাস স্বাভাবিক হতে শুরু করে এবং ছয় মাসের মধ্যে তিনি সব ধরনের খাবার চিবিয়ে খেতে পারছিলেন। তার কথাবার্তাও এখন পুরোপুরি স্বাভাবিক।

    কঠিন ক্যানসারেও দীর্ঘ জীবনের আশা

    গবেষকরা বিশেষভাবে জানিয়েছেন, এই আন্তর্জাতিক ক্লিনিক্যাল পরীক্ষাটি মূলত মাথা ও ঘাড়ের ক্যানসারে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ওপর পরিচালিত হলেও, এতে হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস (এইচপিভি) পজিটিভ ওরোফ্যারিন্জিয়াল স্কোয়ামাস সেল কার্সিনোমার রোগীরা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; কারণ এইচপিভি নেগেটিভ এই ধরনের ক্যানসারের চিকিৎসা করা চিকিৎসাবিজ্ঞানে সবচেয়ে কঠিন বলে বিবেচিত হয়। প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতিগুলো কাজ করা বন্ধ করে দেওয়ার পর এই ধরনের ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীদের বাঁচার সম্ভাবনা যেখানে খুবই কম থাকে, সেখানে অ্যামিভান্টাম্যাব নেওয়া রোগীরা চিকিৎসা শুরুর পর গড়ে প্রায় সাড়ে ১২ মাস বেঁচে ছিলেন।

    আইসিআরের প্রধান নির্বাহী অধ্যাপক ক্রিস্টিয়ান হেলিন এই সাফল্যের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, এই গবেষণা দেখিয়েছে যে, কীভাবে কঠোর বৈজ্ঞানিক গবেষণার মাধ্যমে একদম নতুন চিকিৎসা পদ্ধতি তৈরি করা সম্ভব। যা সীমিত চিকিৎসার সুযোগ থাকা শেষ ধাপের রোগীদের ক্ষেত্রেও অর্থপূর্ণ অগ্রগতি এনে দিতে পারে। এই প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে এই মাত্রার ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া এবং বেঁচে থাকার আশাব্যাঞ্জক হার অর্জন করা নিঃসন্দেহে ক্যানসার চিকিৎসার ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ।

  • ঈদে খাওয়ার ক্ষেত্রে মানা উচিৎ ১৪ পরামর্শ

    ঈদে খাওয়ার ক্ষেত্রে মানা উচিৎ ১৪ পরামর্শ

    ঈদে অতিরিক্ত খাওয়ার কারণে হজমের সমস্যা, গ্যাস, অ্যাসিডিটি, ওজন বৃদ্ধি বা রক্তচাপ বাড়তে পারে। তাই কিছু খাবার একটু সাবধানে খাওয়া ভালো—

    ১। অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত গরু/খাসির মাংস
    ২। ভুঁড়ি ও কলিজা বেশি পরিমাণে
    ৩। অতিরিক্ত তেল-মসলাযুক্ত রান্না
    ৪। বিরিয়ানি, কাচ্চি, রোস্ট বারবার খাওয়া
    ৫। কোমল পানীয় ও অতিরিক্ত মিষ্টি
    ৬। সেমাই, জর্দা, কেক-পেস্ট্রি বেশি পরিমাণে
    ৭। ভাজাপোড়া খাবার
    ৮। রাত জেগে ভারী খাবার খাওয়া
    ৯। সুস্থ থাকার কিছু সহজ টিপস
    ১০। অল্প অল্প করে বারবার খান
    ১১। পর্যাপ্ত পানি পান করুন
    ১২। সালাদ ও ফল রাখুন খাবারের তালিকায়
    ১৩। হাঁটাচলা বা হালকা ব্যায়াম করুন
    ১৪। একবেলায় অনেক ধরনের ভারী খাবার এড়িয়ে চলুন

  • নতুন ভাইরাস হান্টাভাইরাসে আক্রান্ত ৬, মহামারি নিয়ে ডব্লিউএইচও’র বার্তা

    নতুন ভাইরাস হান্টাভাইরাসে আক্রান্ত ৬, মহামারি নিয়ে ডব্লিউএইচও’র বার্তা

    বিশ্বজুড়ে যখন নতুন করে হান্টাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে, তখন এই ভাইরাসটি নিয়ে অবস্থান পরিষ্কার করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। শুক্রবার (৮ মে) এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, একটি প্রমোদতরীতে প্রাদুর্ভাবের পর এখন পর্যন্ত ছয়জনের দেহে হান্টাভাইরাসের সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়া গেছে। এর মধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন তিনজন। তবে এটি করোনার মতো নতুন কোনো বৈশ্বিক মহামারির শুরু নয় বলে আশ্বস্ত করেছে সংস্থাটি।

    ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, ল্যাবরেটরিতে নিশ্চিত হওয়া ছয়টি কেসই মূলত ‘অ্যান্ডিস ভাইরাস’ হিসেবে চিহ্নিত। এই প্রাদুর্ভাব মূলত ‘এমভি হন্ডিয়াস’ নামক একটি জাহাজে সীমাবদ্ধ। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় জাহাজের সবাইকে মাস্ক পরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং যারা আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসছেন, তাদের উন্নত সুরক্ষামূলক সরঞ্জাম ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ মারিয়া ভ্যান কারকোহভ সংবাদ সম্মেলনে জানান, হান্টাভাইরাসের ছড়ানোর ধরন কোভিড বা ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো নয়। এটি সাধারণত আক্রান্তের খুব কাছাকাছি সংস্পর্শে এলে ছড়ায়।

    তিনি জোর দিয়ে বলেন, এটি নতুন কোনো কোভিড মহামারির শুরু নয়। বর্তমান পরিস্থিতি ছয় বছর আগের পরিস্থিতির মতোও নয়, বরং এটি কেবল একটি নির্দিষ্ট জাহাজের প্রাদুর্ভাব।

    প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আক্রান্ত এক দম্পতি আর্জেন্টিনা, চিলি ও উরুগুয়েতে পাখি পর্যবেক্ষণ সফরে গিয়েছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, তারা এমন কিছু স্থানে গিয়েছিলেন যেখানে হান্টাভাইরাস বহনকারী নির্দিষ্ট প্রজাতির ইঁদুরের উপস্থিতি ছিল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস ঘেব্রেয়েসাস জানিয়েছেন, ভাইরাসটি কীভাবে ছড়িয়েছে তা নিয়ে আরও বিস্তারিত তদন্তের জন্য আর্জেন্টিনার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।

    যদিও আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তবে এটি জনাকীর্ণ পরিবেশে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বড় বিপর্যয় তৈরি করবে না বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

  • ভয়াবহ সংঘর্ষে শাহরিয়ার কবির নিহত

    ভয়াবহ সংঘর্ষে শাহরিয়ার কবির নিহত

    ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভারস্থ রেডিও কলোনি এলাকায় এক তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই ভয়াবহ সংঘর্ষে শাহরিয়ার কবির নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন এবং অন্তত পাঁচজন গুরুতর আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বর্তমানে ওই এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং থমথমে পরিস্থিতি সামাল দিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রেডিও কলোনি এলাকায় সামান্য কথা কাটাকাটি বা কোনো একটি সাধারণ বিষয়কে কেন্দ্র করে দুটি পক্ষ বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যেই সেই বাগবিতণ্ডা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ভয়াবহ সংঘর্ষে রূপ নেয়। দুই পক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এসময় শাহরিয়ার কবির গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হলে তাকে উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    সংঘর্ষে আহত অপর পাঁচজনকে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। এই ঘটনার পর নিহত শাহরিয়ারের অনুসারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ওই অংশে যানবাহনের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয় এবং আতঙ্কিত হয়ে আশপাশের দোকানপাট বন্ধ করে দেন ব্যবসায়ীরা।

    খবর পেয়ে সাভার মডেল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালায়। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ উদঘাটনসহ জড়িতদের চিহ্নিত করতে কাজ চলছে। নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

  • হার্ট অ্যাটাকে দিনে ৭০০ মানুষের মৃত্যু হয়

    হার্ট অ্যাটাকে দিনে ৭০০ মানুষের মৃত্যু হয়

    দেশে প্রতিদিন হার্ট অ্যাটাকে অন্তত সাতশ মানুষের মৃত্যু। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসসহ অসংক্রামক রোগ (এনসিডি) নিয়ে মানুষের মধ্যে এখনও পর্যাপ্ত সচেতনতা নেই। সংক্রামক রোগের পাশাপাশি এসব অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধেও সমান গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।

    বুধবার (২২ এপ্রিল) সকালে খুলনা সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে ‘খুলনা জেলায় ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে কেন্দ্র করে এনসিডি মোকাবিলা মডেলের প্রচার ও বাস্তবায়ন’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

    সেমিনারে বক্তারা উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে প্রতিদিন এক চামচের বেশি লবণ ও পাঁচ চামচের বেশি চিনি গ্রহণ না করার পরামর্শ দেন। পাশাপাশি প্রতিদিন তিন বেলা খাবারের পর ১০ মিনিট করে মোট ৩০ মিনিট হাঁটার অভ্যাস গড়ে তোলার ওপর জোর দেন।

    খুলনা সিভিল সার্জন কার্যালয় ও এশিয়া আর্সেনিক নেটওয়ার্কের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মো. মুজিবুর রহমান। তিনি বলেন, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ক্যান্সার, প্রতিবন্ধিতা ও মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যাসহ অসংক্রামক রোগ বর্তমানে বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি হিসেবে দেখা দিয়েছে।

    এসব রোগ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থাপনা ছাড়া অকালমৃত্যু কমানোর কোনো বিকল্প নেই।

    মুজিবুর রহমান আরও বলেন, একসময় সংক্রামক রোগ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে মনে করে কিছুটা উপেক্ষা করা হয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতি হাম পরিস্থিতি প্রমাণ করে-স্বাস্থ্যখাতে কোনো বিষয়ই অবহেলা করার সুযোগ নেই। এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া, যেখানে নিয়মিত কার্যক্রম, মনিটরিং ও টেকসই বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

    খুলনা বিভাগীয় এই স্বাস্থ্য পরিচালক জানান, খুলনা বিভাগে চলমান হাম টিকাদান কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী প্রায় ১৬ লাখ শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৯৬-৯৭ শতাংশ অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শতভাগ কভারেজ নিশ্চিত করতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

    এশিয়া আর্সেনিক নেটওয়ার্কের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. শেখ আখতার আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন ডা. মো. এ সালাম, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এনসিডি প্রোগ্রামের ফোকাল পারসন ডা. রাহাত ইকবাল চৌধুরী এবং বাংলাদেশে জাপানি মিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি শিনজু কারাওয়াসা। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন খুলনার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মো. মিজানুর রহমান প্রমুখ।

  • দেশে লাফিয়ে বাড়ছে হামের প্রকোপ, মৃত্যু আরও ১২

    দেশে লাফিয়ে বাড়ছে হামের প্রকোপ, মৃত্যু আরও ১২

    দেশে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে হামের প্রকোপ। গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত হয়ে ২ জন এবং এই রোগের উপসর্গ নিয়ে আরও ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। রোববার (৫ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

    শনিবার সকাল ৮টা থেকে রবিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশের হাম সংক্রমণ পরিস্থিতির বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয় এই বিজ্ঞপ্তিতে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে একজন রোগী ঢাকা বিভাগে এবং অন্য একজন ময়মনসিংহ বিভাগে মারা গেছে। এ ছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে খুলনা বিভাগে ৫ জন, রাজশাহী বিভাগে ৩ জন এবং চট্টগ্রাম বিভাগে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ৫৪ জন এবং সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৯৭৪ জন। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে আজ ৫ এপ্রিল (সকাল ৮টা) পর্যন্ত সারা দেশে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯২৯ জন এবং সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৪৭০ জন।

    এ ছাড়া গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৩ হাজার ৩৮০ জন রোগী।