Blog

  • দেশের প্রায় দুই কোটি মানুষ সিওপিডিতে ভুগছেন

    দেশের প্রায় দুই কোটি মানুষ সিওপিডিতে ভুগছেন

    ক্রনিক অবস্ট্রাক্টিভ পালমোনারি ডিজিজ বা সিওপিডি হলো শ্বাসতন্ত্রের জটিল রোগ। এটি একটি গুচ্ছ রোগ যা ক্রনিক ব্রংকাইটিস, এমফাইসিমা ও ক্রনিক অ্যাজমার যেকোনো একটি, দুটি বা তিনটির সহাবস্থান। রোগটিকে একসঙ্গে বলে সিওপিডি।

    সিওপিডিকে অনেকে অ্যাজমা বলে ভুল করে থাকেন। আসলে সিওপিডি আর অ্যাজমা এক নয়। অসংক্রামক রোগগুলোর মধ্যে সিওপিডি অন্যতম। হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের পর পৃথিবীব্যাপী এটি মৃত্যুর তৃতীয় কারণ। বাংলাদেশে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে প্রায় ১২.৫ ভাগ লোক সিওপিডিতে ভুগছেন যা মোট জনসংখ্যার প্রায় দুই কোটি। শহরাঞ্চলের তুলনায় গ্রামীণ এলাকায় সিওপিডির প্রাদুর্ভাব বেশি।

    তবে ধুমপান পরিহার, দুষণমুক্ত পরিবেশে বসবাস, মুখে মাস্ক ব্যবহার করা, ফুসফুসের পুনর্বাসন কার্যক্রম গ্রহণ, ব্যালেন্স ডায়েট গ্রহণ, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগটি সনাক্তকরণ এবং যথাযথ চিকিৎসার মাধ্যমে রোগটি প্রতিরোধসহ রোগীর জীবনমান উন্নত করা যায়।

    বিশ্ব সিওপিডি দিবস ২০২৫ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১৯ নভেম্বর) এভারকেয়ার হসপিটাল ঢাকার রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগের আয়োজনে শ্বাসতন্ত্রের রোগ প্রতিরোধ ও চিকিৎসা বিষয়ক বৈজ্ঞানিক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

    অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন এভারকেয়ার হসপিটালের সিইও ও এমডি ডা. রত্নদ্বীপ চাস্কার। বিশ্ব সিওপিডি দিবসের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন গ্রুপ ডিরেক্টর, মেডিকেল সার্ভিসেস ডা. আরিফ মাহমুদ।

    দিবসের প্রেক্ষাপট নিয়ে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন এভারকেয়ার হসপিটাল ঢাকার রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ও চিফ কো-অর্ডিনেটর ডা. এস. এম. আবদুল্লাহ আল মামুন।

    তিনি বলেন, সিওপিডি দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসকষ্টজনিত রোগ, যা উপেক্ষা করলে জীবনমান দ্রুত কমে যায়। অথচ অনেক রোগীই জানেন না যে তারা সিওপিডিতে ভুগছেন।

    অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. দেলোয়ার হোসেন এবং জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক কালের কণ্ঠের সম্পাদক কবি হাসান হাফিজ।

    সেমিনারের বৈজ্ঞানিক সেশনে Role of NIV in COPD— বিষয়ের উপর বিশেষ প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এভারকেয়ার হসপিটাল ঢাকার রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. জিয়াউল হক এবং Surgical Management of COPD বিষয়ের উপর প্রবন্ধ উপস্থাপনা করেন থোরাসিক সার্জারির সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. মো. শাহিনুর রহমান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ডা. ফয়সাল ও ডা. তিসা। সমন্বয় করেন ডা. মাহফুজ আহমেদ চৌধুরী।

    অনুষ্ঠানে বক্তারা আরো বলেন, সিওপিডি প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, উন্নত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা এবং নিয়মিত চেক-আপ অত্যন্ত জরুরি। এছাড়াও ধূমপান ত্যাগ, বাসস্থানের ধোঁয়া কমানো, সময়মতো চিকিৎসা নেওয়া এবং নিয়মিত ফুসফুসের কার্যক্রম পরীক্ষা করা অপরিহার্য।

  • ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে মিষ্টি ছাড়াও আরও যা ক্ষতিকর

    ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে মিষ্টি ছাড়াও আরও যা ক্ষতিকর

    আমরা অনেকে মনে করি শর্করা বৃদ্ধির পেছনে মিষ্টি খাবার দায়ী। যে কারণে স্বাস্থ্যের কথা ভেবে আমরা মিষ্টি খাবার খাওয়া বাদ দিই। কারণ চিনি সরাসরি রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি করে। তবে শুধু মিষ্টিই এ সমস্যার জন্য দায়ী নয়। অনেক সময় অন্যান্য খাবারও রক্তের সুগার বাড়াতে পারে।

    কোন খাবারগুলো থেকে রক্তের শর্করা বাড়তে পারে সে ব্যাপারে আলোচনা করা হলো—

    ফলের জুস: ফলেই প্রাকৃতিক চিনি থাকে। কিন্তু জুসে ফাইবার থাকে না, ফলে ফ্রুক্টোজ দ্রুত রক্তে শোষিত হয় এবং সুগার বৃদ্ধি পায়।

    মধু ও গুড়: চিনি বাদ দিয়ে অনেকেই মধু বা গুড় খায়। তবে এগুলোর মূল উপাদানও গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজ। তাই এগুলোও রক্তের সুগার বাড়াতে পারে, যদিও চিনির তুলনায় সামান্য কম।

    সাদা চাল: সাদা চালের রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেট শরীরে প্রবেশের পর দ্রুত গ্লুকোজে পরিণত হয়। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা তীব্রভাবে বেড়ে যেতে পারে।

    সস: কেচাপ, মেয়োনিজ বা অন্যান্য সসে প্রিজারভেটিভ থাকে এবং চিনি থাকে বেশি।

    স্টার্চযুক্ত সবজি: আলু বা অন্যান্য স্টার্চযুক্ত সবজিতে শ্বেতসারের পরিমাণ বেশি। এগুলোও রক্তের শর্করা দ্রুত বাড়াতে পারে।

    তাই এগুলো নিয়মিত খাওয়া থেকে বিরত থাকা ভালো।

  • পা ফাটার কারণ যে ৪ রোগ দায়ী

    পা ফাটার কারণ যে ৪ রোগ দায়ী

    সুন্দর সাজগোজের পরেও পায়ে যদি কালচে ছোপ বা ফাটা গোড়ালি থাকে, তবে তা পুরো সৌন্দর্যকেই ম্লান করে দিতে পারে। খালি পায়ে হাঁটা বা জুতো খুলে বসার সময়ে অনেকেই এই কারণে অস্বস্তিতে ভোগেন। বেশিরভাগ সময়ই আমরা মনে করি, পা ফাটার কারণ হলো শীতের মরসুম, যত্নের অভাব বা পুষ্টির ঘাটতি।

    তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল মরসুম বদল বা অবহেলা নয়, পা ফাটা ও ত্বকের অস্বাভাবিকতার নেপথ্যে কিছু গুরুতর শারীরিক সমস্যাও থাকতে পারে।

    পা ফাটার নেপথ্যে থাকতে পারে যে ৪ রোগ:
    ১. হেরিডিটরি পামোপ্লান্টার কেরাটোডার্মা (Hereditary Palmoplantar Keratoderma): এটি একটি জিনবাহিত রোগ। এই রোগে আক্রান্তদের ত্বক অস্বাভাবিকভাবে পুরু হয়ে যায়—স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি মোটা হয় এবং অনেকটা কাঠের মতো শক্ত মনে হয়। এর ফলে রোগীর হাত ও পা খুব বেশি পরিমাণে ফাটে। এর কোনো দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা নেই, তবে রেটিনয়েডস জাতীয় ওষুধ এবং ফিজিওথেরাপি দিয়ে রোগীর কষ্ট সাময়িকভাবে কমানো হয়।

    ২. এগজ়িমা (Eczema) বা অ্যাটপিক ডার্মাটাইটিস: এই চর্মরোগের প্রভাবেও পায়ের ত্বক ফাটতে পারে। এগজিমার সবচেয়ে পরিচিত উপসর্গটি হলো অ্যাটপিক ডার্মাটাইটিস, যা শরীরের যেকোনো স্থানে হতে পারে। যদিও এই রোগের সঠিক কারণ সম্পর্কে চিকিৎসকেরা নিশ্চিত নন, তবে এর কারণে পা ফাটার সমস্যা দেখা যায়।

    ৩. সোরিয়াসিস (Psoriasis): এটি সাধারণত একটি দীর্ঘস্থায়ী রোগ। সোরিয়াসিসে আক্রান্ত হলে পায়ের তালুতে খোসার মতো করে চামড়া উঠতে শুরু করে, যা ক্ষেত্রবিশেষে গোড়ালি পর্যন্ত ছড়িয়ে গিয়ে পা ফাটার সমস্যা তৈরি করে।

    ৪. পিটিরিয়াসিস রুবরা পাইলারিস (Pityriasis Rubra Pilaris – PRP): এটিও একটি জিনগত রোগ। পিআরপি-তে আক্রান্ত রোগীদের শীতকালে হাত-পা অত্যন্ত শুষ্ক হয়ে যায় এবং সোরিয়াসিসের মতোই পা ফাটতে থাকে।

    মনে রাখবেন: যদি পর্যাপ্ত যত্ন নেওয়ার পরেও পা ফাটা বা পায়ের ত্বকে অস্বাভাবিকতা দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকে, তবে দেরি না করে একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

  • ৭০ বয়সেও রোগমুক্ত থাকার উপায় ফাঁস করল গবেষণা

    ৭০ বয়সেও রোগমুক্ত থাকার উপায় ফাঁস করল গবেষণা

    সাধারণত মনে করা হয়, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জটিল রোগ-ব্যাধির ঝুঁকিও বেড়ে যায়। জীবনযাত্রা অত্যন্ত সুশৃঙ্খল রাখা সত্ত্বেও অনেকে আকস্মিক অসুস্থতার শিকার হন—এমন অভিজ্ঞতা বিরল নয়। তবে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক যুগান্তকারী গবেষণা বলছে, একটি বিশেষ খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করলে ৭০ বছর বয়সেও মারাত্মক দুরারোগ্য ব্যাধি থেকে নিজেকে মুক্ত রাখা সম্ভব।

    গবেষণা কী বলছে?
    হার্ভার্ডের পুষ্টি বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে প্রায় এক লাখ মানুষের খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যের ওপর নিবিড় পর্যবেক্ষণ চালিয়েছেন। এই গবেষণায় তারা দেখেছেন, যারা একটি নির্দিষ্ট খাদ্যতালিকা মেনে চলেছেন, তারা বার্ধক্যেও সুস্থ থাকার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছেন।

    এই বিশেষ ডায়েটটির নাম দেওয়া হয়েছে এএইচইআই (AHEI)। গবেষণার ফল অনুযায়ী, যারা নিয়মিত এই ডায়েট অনুসরণ করেছেন, তাদের মধ্যে ৮৬ শতাংশ মানুষ ৭০ বছর বয়সেও হৃদ্‌রোগ, ডায়াবেটিস এবং ক্যানসারের মতো জটিল রোগে আক্রান্ত হননি। অন্যদিকে, যারা এই বিশেষ খাদ্যাভ্যাস মানেননি, তাদের মধ্যে রোগাক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বেশি দেখা গিয়েছে।

    এএইচইআই ডায়েট আসলে কী?
    এএইচইআই-এর পুরো নাম হলো আল্টারনেটিভ হেলদি ইটিং ইনডেক্স (Alternative Healthy Eating Index)। এটি হার্ভার্ড টি.এইচ. চ্যান স্কুল অফ পাবলিক হেলথের পুষ্টি বিশেষজ্ঞদের দ্বারা দীর্ঘ বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি একটি বিশেষ খাদ্যতালিকা, যার মূল লক্ষ্য হলো ক্রনিক বা দুরারোগ্য ব্যাধি প্রতিরোধ করা।

    এই স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকার মূল ভিত্তি চারটি—

    ১. উদ্ভিজ্জ খাবারের প্রাচুর্য: খাবারের থালায় শাকসবজি, ফলমূল, দানাশস্য (হোল গ্রেইন), বাদাম এবং ডালজাতীয় খাবারের পরিমাণ বাড়াতে হবে।

    ২. স্বাস্থ্যকর ফ্যাটের অন্তর্ভুক্তি: নিয়মিত খাদ্যতালিকায় স্বাস্থ্যকর ফ্যাট যোগ করা জরুরি। যেমন: অলিভ অয়েল, ঘি, সর্ষের তেল, অ্যাভোকাডো, তৈলাক্ত মাছ (যেমন—স্যামন বা ইলিশ), বাদাম এবং বীজ জাতীয় খাবার।

    ৩. পরিমিত প্রাণিজ খাদ্য: মাছ, ডিম এবং দইয়ের মতো দুগ্ধজাত খাবার পরিমিত পরিমাণে খাওয়া যেতে পারে।

    ৪. যে খাবারগুলো পরিহার করতে হবে: চিনিযুক্ত পানীয় ও রেড মিট: অতিরিক্ত মিষ্টি পানীয়, খাসির মাংস বা যেকোনো ধরনের রেড মিট এবং প্রক্রিয়াজাত মাংস (যেমন—সসেজ, বেকন, সালামি) কঠোরভাবে বর্জন করতে হবে।

    অস্বাস্থ্যকর ফ্যাট ও শস্য: বেশি নোনতা খাবার, পাম অয়েল, বনস্পতি ঘি-এর মতো ট্রান্স ফ্যাটযুক্ত খাবার কম খেতে হবে।

    পরিশোধিত শস্যের বিকল্প: ময়দা, সুজি ও সাদা ভাতের পরিবর্তে আটা, ব্রাউন রাইস, ওট্‌স, জোয়ার, বাজরা বা রাগি জাতীয় শস্য বেছে নিতে হবে।

    এই ডায়েট মেনে চললে বার্ধক্যের প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া বজায় রেখেও জটিল রোগ থেকে দূরে থাকা সম্ভব বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।

  • ডাস্ট অ্যালার্জির চিকিৎসা

    ডাস্ট অ্যালার্জির চিকিৎসা

    ডাস্ট অ্যালার্জি হলো ধুলো এবং ধুলোর মাইটের (ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র জীব) সংস্পর্শে আসার কারণে সৃষ্ট একটি অ্যালার্জিজনিত প্রতিক্রিয়া। ধুলোর মাইটগুলো প্রধানত বিছানার চাদর, তোষক এবং আসবাবপত্রের মধ্যে পাওয়া যায়। উষ্ণ, আর্দ্র এবং স্যাঁতসেঁতে জায়গায় বসবাসকারী এবং যাদের পারিবারিকভাবে একটুতেই এ ধরণের সমস্যা হয় তাদের জন্য আজকের আলোচনা।

    ডাস্ট এলার্জির প্রধান লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে হাঁচি, নাক দিয়ে জল পড়া, চোখ এবং নাকে চুলকানি। এছাড়াও শ্বাস নিতে অসুবিধা, কাশি, এবং মুখের ভেতরের তালুতে চুলকানি হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদী ধুলো অ্যালার্জি হাঁপানির মতো দীর্ঘস্থায়ী রোগের কারণ হতে পারে।

    প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতিতে অ্যান্টি-অ্যালার্জিক ওষুধ এবং নেজাল স্প্রে ব্যবহার করা হয়, যা শুধুমাত্র সাময়িকভাবে এ সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করে এবং দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।

    এর বিপরীতে, হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা নিরাপদ, প্রাকৃতিক এবং স্থায়ী আরোগ্য দিতে সক্ষম। এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বৃদ্ধি করে, ফলে দ্রুত সমস্যা সমাধান হয়। প্রাকৃতিক উপাদান থেকে তৈরি হওয়ায় হোমিওপ্যাথিক ওষুধগুলি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ামুক্ত। এটি সব বয়সের মানুষের জন্য কার্যকর। হোমিওপ্যাথিতে প্রতিটি রোগীর স্বতন্ত্র উপসর্গগুলির উপর ভিত্তি করে নির্দিষ্ট ঔষধ নির্বাচন করা হয়, তাই এটি একটি লক্ষণ-ভিত্তিক বিজ্ঞান। একজন অভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা করালে মৃদু থেকে মাঝারি তীব্রতার বেশিরভাগ রোগীই সম্পূর্ণ আরোগ্য লাভ করেন।

    ধুলো অ্যালার্জির জন্য সেরা ৬টি হোমিওপ্যাথিক ঔষধ এবং তাদের ব্যবহার:

    ১. Natrum Mur (ন্যাট্রাম মিউর): এটি তীব্র হাঁচি এবং নাক-চোখ দিয়ে জল পড়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে উপযোগী।

    ২. Arsenic Album (আর্সেনিক অ্যালবাম): শুষ্ক, গভীর কাশির জন্য এটি অত্যন্ত কার্যকর, বিশেষ করে যে কাশি মধ্যরাতের পর বাড়ে এবং যার সাথে দুর্বলতা ও শ্বাসকষ্ট থাকে।

    ৩. Euphrasia (ইউফ্রেশিয়া): লাল, জলীয় এবং চুলকানিযুক্ত চোখের সমস্যার জন্য এটি সবচেয়ে কার্যকর। ৪. Arundo (আরুন্ডো): নাক এবং মুখের ভেতরের তালুতে তীব্র চুলকানি, হাঁচি ও ঘ্রাণশক্তির হ্রাসের ক্ষেত্রে উপকারী।

    ৫. Pothos Foetidus (পোথোস ফিটিডাস): এটি শ্বাস নিতে অসুবিধা (বিশেষ করে ধুলো ইনহেল করার পর হাঁপানি বেড়ে গেলে), কাশি এবং প্রচণ্ড হাঁচির জন্য সেরা ঔষধ।

    ৬. Ammonium Carbonicum (অ্যামোনিয়াম কার্বনিকাম): নাক বন্ধ (নাসাল কনজেশন) সমস্যার জন্য এটি খুবই উপযোগী, যেখানে রোগী নাকের মাধ্যমে শ্বাস নিতে পারে না বা নাকের ডগা বন্ধ থাকে।

    উপসংহার: হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা ধুলো অ্যালার্জির চিকিৎসায় কার্যকরী এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ামুক্ত সমাধান দিতে পারে। তবে প্রতিটি ক্ষেত্রে ঔষধ সেবনের আগে একজন রেজিস্টার্ড হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক।

  • হোমিওপ্যাথি কি সত্যিই ধীরে কাজ করে?

    হোমিওপ্যাথি কি সত্যিই ধীরে কাজ করে?

    হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে একটি বহুল প্রচলিত ধারণা হলো, এর ওষুধগুলো ধীরগতিতে কাজ করে। অনেকে এটিকে অ্যালোপ্যাথির মতো দ্রুত ফলদায়ী মনে করেন না। তবে, হোমিওপ্যাথির অনুরাগী ও বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই ধারণাটি চিকিৎসা পদ্ধতির কার্যকারিতা বোঝার ভুলের ফল এবং বেশ কিছু ক্ষেত্রে হোমিওপ্যাথি দ্রুত ও স্থায়ী আরোগ্য লাভে সক্ষম।

    প্রচলিত ধারণার কারণ ও ব্যাখ্যা
    হোমিওপ্যাথি ধীরগতির—এই ধারণা তৈরির পেছনে প্রধানত দুটি কারণ রয়েছে:

    ১. দীর্ঘমেয়াদি বা ক্রনিক রোগের চিকিৎসা: সাধারণত, যে রোগগুলো অ্যালোপ্যাথিতে নিরাময় করা কঠিন বা যেখানে দীর্ঘকাল ধরে স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ সেবন করতে হয় (যেমন গুরুতর অ্যালার্জি, আর্থ্রাইটিস, বা কিছু চর্মরোগ), সেই ক্রনিক রোগগুলির ক্ষেত্রেই রোগীরা শেষ ভরসা হিসেবে হোমিওপ্যাথিতে আসেন। এই দীর্ঘস্থায়ী রোগগুলোর মূল কারণ দূর করতে কিছুটা সময় লাগা স্বাভাবিক, তাই চিকিৎসার ফলও ধীরে ধীরে প্রকাশ পায়।

    ২. গভীরভাবে কাজ করার প্রক্রিয়া: অ্যালোপ্যাথি প্রায়শই রোগের উপসর্গকে দ্রুত দমন করে, কিন্তু হোমিওপ্যাথি রোগের মূল কারণ (Root Cause) এবং ব্যক্তির সামগ্রিক জীবনশক্তির (Vital Force) ওপর কাজ করে। এই মৌলিক পরিবর্তন আসতে কিছুটা সময় লাগে, যা আরোগ্যকে করে তোলে স্থায়ী ও টেকসই।

    হোমিওপ্যাথির পক্ষে যুক্তি: দ্রুত আরোগ্যলাভ সম্ভব কখন?
    হোমিওপ্যাথি শুধুমাত্র দীর্ঘমেয়াদি নয়, বরং সঠিক ক্ষেত্রে এটি দ্রুত আরোগ্যলাভেও অত্যন্ত কার্যকর।

    তীব্র (Acute) রোগের ক্ষেত্রে: সাধারণ ঠান্ডা লাগা, জ্বর, গলা ব্যথা, আঘাতজনিত ব্যথা (ট্রমা), বা হঠাৎ ডায়রিয়ার মতো তীব্র বা অ্যাকিউট রোগগুলোর চিকিৎসায় হোমিওপ্যাথি দ্রুত ফল দিতে পারে। সঠিক মাত্রার সঠিক হোমিওপ্যাথিক ওষুধ প্রয়োগ করলে কিছু ঘণ্টার মধ্যেই উপসর্গের উন্নতি দেখা যায়।

    জরুরি পরিস্থিতিতে কার্যকারিতা: আঘাত বা দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে আরনিকা মন্টানার (Arnica Montana) মতো ওষুধগুলো দ্রুত ব্যথা ও ফোলা কমাতে এবং রক্ত জমাট বাঁধা রোধে ব্যবহৃত হয়।

    ক্ষতিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার অনুপস্থিতি: অ্যালোপ্যাথিক ওষুধ দ্রুত ফল দিলেও প্রায়শই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়। কিন্তু হোমিওপ্যাথির ওষুধগুলো নিরাপদ হওয়ায় শরীর দ্রুত সাড়া দেয় এবং রোগীর সামগ্রিক স্বাস্থ্যের কোনো ক্ষতি হয় না। এটি বিশেষত শিশু ও সংবেদনশীল রোগীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

    মূল কথা: গতি নয়, স্থায়িত্বই আসল লক্ষ্য
    হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকরা জোর দেন, ওষুধের গতি নির্ভর করে রোগীর রোগের প্রকৃতি, তীব্রতা, এবং রোগীর শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ওপর।

    ‘হোমিওপ্যাথির মূল লক্ষ্য হলো দ্রুত উপসর্গ দমন করা নয়, বরং রোগের মূল কারণ দূর করে স্থায়ী স্বাস্থ্য ফিরিয়ে আনা। যেখানে অ্যালোপ্যাথি মাসের পর মাস ধরে ওষুধ খেতে বলে, সেখানে হোমিওপ্যাথি হয়তো সম্পূর্ণ আরোগ্যের জন্য কিছুটা বেশি সময় নেয়, কিন্তু রোগটি বারবার ফিরে আসার আশঙ্কা কমিয়ে দেয়।’

    অতএব, হোমিওপ্যাথি ধীরগতির এই ধারণাটি প্রযোজ্য নয়। বরং, এটি একটি বিজ্ঞানসম্মত চিকিৎসা পদ্ধতি যা রোগীর সার্বিক স্বাস্থ্য, জীবনীশক্তি এবং রোগমুক্তির দীর্ঘস্থায়িত্বের ওপর বেশি গুরুত্ব দেয়।

  • গোড়ালি ব্যথার কারণ

    গোড়ালি ব্যথার কারণ

    গোড়ালির ব্যথা (Ankle Pain) শুধু চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে না, এর তীব্র যন্ত্রণাও একজন ব্যক্তির মানসিক অবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। গোড়ালি হলো পা এবং পায়ের পাতার সংযোগস্থল। এই অস্থিসন্ধি গঠনে অংশ নেয় পায়ের টিবিয়া ও ফিবুলা (Leg bones) এবং পায়ের পাতার ট্যালাস (Talus bone) হাড়। আঘাত, মচকে যাওয়া বা গেঁটে বাত (আর্থ্রাইটিস)-এর মতো বিভিন্ন কারণে গোড়ালিতে ব্যথা হতে পারে।

    গোড়ালির ব্যথার কারণসমূহ

    গোড়ালির ব্যথার কয়েকটি প্রধান কারণ হলো:

    আঘাত, মচকানো (Sprain) ও টান: গোড়ালিতে আঘাতের প্রধান কারণ হলো মচকে যাওয়া বা স্প্রেইন। হঠাৎ ভুল পদক্ষেপ বা পড়ে যাওয়ার কারণে গোড়ালির লিগামেন্টগুলিতে (অস্থিবন্ধনী) অতিরিক্ত টান পড়া বা আংশিক ছিঁড়ে যাওয়ার ফলেই স্প্রেইন হয়। অন্যান্য আঘাত ভোঁতা বস্তুর ধাক্কা বা গোড়ালির পেশিতে অতিরিক্ত টান থেকেও হতে পারে। এর ফলে ব্যথা ও ফোলা প্রধান লক্ষণ হিসেবে দেখা দেয়।

    আর্থ্রাইটিস বা বাত
    গেঁটে বাত (Gout): রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে গেলে এই প্রদাহজনিত ব্যথা হয়, যা গোড়ালির জোড়াতেও হতে পারে।

    রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস (Rheumatoid Arthritis): এটি একটি অটো-ইমিউন রোগ, যা জয়েন্টগুলোতে ব্যথা, ফোলা, শক্ততা এবং দীর্ঘমেয়াদে বিকৃতি সৃষ্টি করে। গোড়ালির জোড়াও এতে আক্রান্ত হতে পারে।

    টেন্ডিনাইটিস (Tendinitis): এটি টেন্ডনগুলির (পেশিকে হাড়ের সাথে সংযোগকারী কর্ড) প্রদাহ। অ্যাকিলিস টেন্ডন (Achilles Tendon) বা টেন্ডো অ্যাকিলিস (Tendo Achilles) সহ পায়ের পেশিগুলোকে পায়ের পাতার হাড়ের সাথে যুক্ত করা টেন্ডনগুলোতে প্রদাহ হলে গোড়ালিতে ব্যথা হয়।

    টার্সাল টানেল সিনড্রোম (Tarsal Tunnel Syndrome): গোড়ালিতে থাকা টিবিয়াল নার্ভের ক্ষতির ফলে এই সমস্যা দেখা দেয়।

    গোড়ালির ব্যথায় হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা
    হোমিওপ্যাথি গোড়ালির ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে একটি অত্যন্ত কার্যকরী চিকিৎসা প্রদান করে। আঘাত, স্প্রেইন, আর্থ্রাইটিস বা টেন্ডিনাইটিসের মতো যেকোনো কারণে সৃষ্ট গোড়ালির ব্যথাকে প্রাকৃতিক উপায়ে কার্যকরভাবে চিকিৎসা করা সম্ভব। এটি নতুন বা দীর্ঘদিনের পুরনো, ক্রনিক উভয় ধরনের ব্যথার ক্ষেত্রেই কাজ করে।

    হোমিওপ্যাথি কেন কার্যকর?
    মূল কারণের চিকিৎসা: প্রচলিত চিকিৎসা মূলত ব্যথানাশক এবং প্রদাহবিরোধী ওষুধের উপর নির্ভর করে, যা সাময়িক উপশম দিলেও দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে। অন্যদিকে, হোমিওপ্যাথি ব্যথার মূল কারণকে (যেমন স্প্রেইন, আর্থ্রাইটিস, টেন্ডিনাইটিস) নিরাময় করার উপর জোর দেয়। ফলে সাময়িক উপশমের পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদী ফল পাওয়া যায় এবং রোগটি গোড়া থেকে নিরাময় হয়।

    পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ামুক্ত: হোমিওপ্যাথিতে ব্যবহৃত প্রাকৃতিক উপাদানগুলি উচ্চ মাত্রায় লঘু (Highly diluted) আকারে ব্যবহৃত হয়, যা কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই প্রাকৃতিক নিরাময়কে উৎসাহিত করে। এটি ব্যবহারের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ।

    চিকিৎসা নির্বাচন পদ্ধতি
    গোড়ালির ব্যথার চিকিৎসার জন্য সঠিক হোমিওপ্যাথিক ঔষধ নির্বাচন প্রতিটি রোগীর জন্য ব্যক্তিগতভাবে করা হয়। প্রেসক্রিপশন চূড়ান্ত করার আগে একজন হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার একাধিক বিষয় বিবেচনা করেন:

    ব্যথার প্রকৃতি (কেমন ধরনের ব্যথা)।

    ব্যথা কোথায় ছড়ায় বা বিকিরণ করে।

    কোন অবস্থায় ব্যথা বাড়ে বা কমে (Worsening and Relieving Factors)।

    আনুষঙ্গিক উপসর্গ, যেমন: ফোলা, শক্তভাব (stiffness), স্পর্শকাতরতা (tenderness) ইত্যাদি।

    ব্যথার মূল কারণ
    সঠিকভাবে নির্বাচিত ঔষধের মাধ্যমে গোড়ালির ব্যথার ক্ষেত্রে দুর্দান্ত ফল পাওয়া যায় এবং ব্যথা, শক্ততা, ফোলাভাব বা গরমভাবের মতো সংশ্লিষ্ট উপসর্গগুলোও দূর হয়ে যায়।

    গুরুত্বপূর্ণ দ্রষ্টব্য: নিজে নিজে চিকিৎসা না করে, গোড়ালির ব্যথার যেকোনো পরিস্থিতিতে একজন হোমিওপ্যাথিক ডাক্তারের তত্ত্বাবধানে একটি সঠিক কোর্স সম্পন্ন করা উচিত।

  • ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়ক যে ৩ সবজি

    ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়ক যে ৩ সবজি

    পরিবেশে দূষণের মাত্রা বৃদ্ধি এবং দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসে অস্বাস্থ্যকর উপাদানের ব্যবহার বাড়ার ফলে ক্যানসারের ঝুঁকি এখন অনেকটাই বেশি। চিকিৎসকদের মতে, অনেক সময় আমাদের কিছু দৈনন্দিন অভ্যাসই ক্যানসারের জন্য দায়ী। তাই সচেতন হয়ে এখন থেকেই ক্যানসার প্রতিরোধের অভ্যাস গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।

    বাজারে সহজে পাওয়া যায় এমন কিছু সবজি রয়েছে, যেগুলোর মধ্যে প্রাকৃতিকভাবেই ক্যানসার প্রতিরোধী ক্ষমতা বিদ্যমান। এই সবজিগুলো নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখলে রোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। নিচে এমন তিনটি সবজির উপকারিতা তুলে ধরা হলো:

    ১. গাজর: গাজরে প্রচুর পরিমাণে বিটা ক্যারোটিন থাকে, যা মূলত এক ধরনের ভিটামিন ‘এ’। এই উপাদানটি দেহের ‘অক্সিডেটিভ স্ট্রেস’ কমাতে সাহায্য করে, ফলে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এছাড়াও, গাজরে উচ্চ মাত্রায় ফাইবার বা আঁশ থাকে, যা পেট পরিষ্কার রাখতে সহায়ক। এর ফলে পাকস্থলী ও মলাশয়ের ক্যানসারের ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায়।

    ২. রসুন: রসুনের অসংখ্য স্বাস্থ্যগুণের মধ্যে অন্যতম হলো এর ক্যানসার প্রতিরোধী ক্ষমতা। এতে থাকা ‘অ্যালিসিন’ নামের একটি যৌগ ক্যানসার কোষ ধ্বংসে সাহায্য করে এবং শরীরের ডিএনএ-এর গঠন অক্ষুণ্ণ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে এর গুণাগুণ ধরে রাখার জন্য রান্নার প্রক্রিয়া জরুরি। বেশি আঁচে রান্না করলে রসুনের এই উপকারী গুণ নষ্ট হয়ে যায়। তাই কাঁচা রসুন বা থেঁতো করে নেওয়ার ১০ মিনিটের মধ্যে এটি গ্রহণ করা সবচেয়ে উপকারী।

    ৩. ব্রকলি: সবুজ সবজিগুলোর মধ্যে ব্রকলি হলো অন্যতম পুষ্টিকর একটি সবজি। এর মধ্যে সালফোরাফেন নামক একটি যৌগ থাকে, যা ক্যানসার কোষের বৃদ্ধি রোধ করতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। গবেষণা অনুসারে, বড় আকারের ব্রকলির তুলনায় ছোট ব্রকলিতে এই উপাদানের পরিমাণ বেশি থাকে। তাই নিয়মিত খাদ্যতালিকায় ছোট ব্রকলি রাখা আরও বেশি উপকারী।

  • রংপুরের পীরগঞ্জে অ্যানথ্রাক্স উপসর্গের ৬ রোগী শনাক্ত

    রংপুরের পীরগঞ্জে অ্যানথ্রাক্স উপসর্গের ৬ রোগী শনাক্ত

    রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায় অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গে আক্রান্ত আরও ছয়জন রোগীর সন্ধান পাওয়া গেছে। অসুস্থ গরুর মাংস কাটা ও বিতরণের সঙ্গে জড়িত থাকার পর এদের শরীরের বিভিন্ন অংশে ঘা দেখা দেওয়ায় মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) সকালে পাঁচজনের এবং এর আগে গত রোববার অপর একজনের নমুনা সংগ্রহ করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।

    পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মাসুদ রানা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সর্বশেষ আক্রান্ত এসব রোগীর বাড়ি উপজেলার দাঁড়িয়াপুরে। তাদের মধ্যে চারজন পুরুষ ও একজন নারী রয়েছেন, যারা শরীরের ঘা নিয়ে হাসপাতালে এসেছিলেন।

    আক্রান্তদের পরিবারের সদস্যরা জানান, স্থানীয় টুটুল মিয়ার একটি গাভি অসুস্থ হলে গত ১১ নভেম্বর সেটি জবাই করে গ্রামবাসীদের মধ্যে মাংস বিতরণ করা হয়। এরপর ১২ অক্টোবর মাংস কাটাকাটির সঙ্গে যারা জড়িত ছিলেন, তাদের শরীরেই অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ হিসেবে ঘা দেখা দিতে শুরু করে।

    স্থানীয় শান্তি বেগম নামে এক নারী জানান, তার ভাশুরের অসুস্থ গরু জবাইয়ের পর ৮-৯ জনের শরীরে অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ দেখা দেয়। তবে তারা রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে না গিয়ে শুধু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ব্যবস্থাপত্র নিয়ে বাড়িতে ফিরে গেছেন।

    জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত সোমবার পর্যন্ত রংপুর জেলায় পীরগাছায় ৩৮, কাউনিয়ায় ১৮, মিঠাপুকুরে ১২, গঙ্গাচড়ায় ৭ এবং পীরগঞ্জে ১ জনসহ মোট ৭৮ জন সন্দেহজনক অ্যানথ্রাক্স রোগী শনাক্ত হয়েছিল। এর মধ্যে ২৪ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। তবে পীরগঞ্জে নতুন পাওয়া এই ছয় রোগীর তথ্য এখনো মোট হিসাবে যুক্ত হয়নি।

    জেলা সিভিল সার্জন শাহীন সুলতানা জানান, জেলায় অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১১। তবে অ্যানথ্রাক্স সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ার কারণ হলো—উপসর্গযুক্ত রোগীর শরীরে কাঁচা ঘা থাকলেই কেবল নমুনা সংগ্রহ করা যায়; ঘা শুকিয়ে গেলে নমুনা নেওয়া সম্ভব হয় না।

    উল্লেখ্য, গত জুলাই ও সেপ্টেম্বরে রংপুরের পীরগাছায় অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ নিয়ে দুই নারী ও একজন পুরুষের মৃত্যু হলে বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসে। এছাড়া গত ৪ অক্টোবর অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ নিয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রমেক) গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের রোজিনা বেগম (৪৫) মারা যান।

  • টাইফয়েড টিকার কার্যকারিতা ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে গবেষণায় ভয়াবহ তথ্য

    টাইফয়েড টিকার কার্যকারিতা ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে গবেষণায় ভয়াবহ তথ্য

    দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো শুরু হয়েছে জাতীয় টাইফয়েড টিকাদান কর্মসূচি। গত রোববার (১২ অক্টোবর) আনুষ্ঠানিকভাবে এ কর্মসূচির শুরু হয় । ৯ মাস থেকে ১৫ বছরের কম বয়সি প্রায় ৫ কোটি শিশুকে এ টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার। মাসব্যাপী এ ক্যাম্পেইনে শিশুদের বিনামূল্যে ইনজেকটেবল টাইফয়েড টিকা দেওয়া হচ্ছে।

    এ কর্মসূচিটি সফলের জন্য স্বাস্থ্য বিভাগ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফ ব্যাপক প্রচার চালাচ্ছে। স্বাস্থ্য বিভাগের প্রচারে বলা হয়েছে— ‘টিকাটি নিরাপদ ও কার্যকর। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার যাচাই করা এবং সৌদি হালাল সেন্টার কর্তৃক হালাল সনদপ্রাপ্ত’।

    এর আগে পাকিস্তান ও নেপালেও শিশুদের এই টিকা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে নেপালে এই টিকার কার্যকরিতা নিয়ে ২০ হাজার শিশুর মধ্যে একটি গবেষণা চালানো হয়েছে। বিশ্বখ্যাত মেডিকেল জার্নাল ল্যানসেট গ্লোবাল হেলথ গবেষণাপত্রটি প্রকাশ করেছে। সেখানে বিস্ময়কর তথ্য উঠে এসেছে।

    ল্যানসেটের গবেষণায় বলা হয়েছে— দক্ষিণ এশিয়ায় বিশেষ করে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও নেপালে টাইফয়েডের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। সম্প্রতি পাকিস্তানে সেফালোস্পোরিন অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্ট টাইফয়েড ছড়িয়েছিল। এ পরিস্থিতিতে টাইফয়েড থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় হতে পারে ভ্যাকসিন।

    অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং নেপালের পাটান অ্যাকাডেমি অব হেলথ সায়েন্সেসের গবেষকরা যৌথভাবে নেপালের ললিতপুর মেট্রোপলিটন শহরে এ গবেষণা চালান। এতে ৯ মাস থেকে ১৬ বছর বয়সি সুস্থ প্রায় ২০ হাজার ১৪ জন শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। শিশুদের দৈবচয়নের ভিত্তিতে দুটি দলে ভাগ করা হয়। একটি দলকে ভারত বায়োটেক ইন্টারন্যাশনালের তৈরি টাইফয়েড কনজুগেট টিকা (টিসিভি) দেওয়া হয়। অন্য দলটিকে দেওয়া হয় মেনিনজাইটিস ‘এ’ রোগের টিকা।

    টিকা দেওয়ার পর প্রায় এক বছর ধরে সব শিশুর স্বাস্থ্যের ওপর নিবিড়ভাবে নজর রাখা হয়। রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া টাইফয়েড রোগীদের তথ্য সংগ্রহ করে দুদলের মধ্যে তুলনা করা হয়। গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, যারা টাইফয়েড কনজুগেট টিকা (টিসিভি) পেয়েছিল, তাদের মধ্যে টাইফয়েডে আক্রান্ত হওয়ার হার নাটকীয়ভাবে কম, মাত্র ৭ জনের টাইফয়েড শনাক্ত হয়। বিপরীতে মেনিনজাইটিস টিকা পাওয়া কন্ট্রোল গ্রুপের মধ্যে ৩৪ জন টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়। এ তথ্য বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হন যে, এই টিকার কার্যকারিতা ৭৯ শতাংশ। অর্থাৎ টিকাটি টাইফয়েড হওয়ার ঝুঁকি বহুলাংশে কমিয়ে আনে।

    গবেষণার ফলাফলে বলা হয়েছে, টিকাটি প্রথম বছরে ৮১ শতাংশ এবং দ্বিতীয় বছরে ৭৯ শতাংশ কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে। ‘টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন (টিসিভি)’ নামের এই টিকা ৯ মাস বয়সি শিশু থেকে শুরু করে ১৬ বছর বয়স পর্যন্ত সবার জন্য নিরাপদ। টিকা দেওয়ার পর সামান্য জ্বর বা ইনজেকশনের স্থানে ব্যথা ছাড়া বড় কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা যায়নি।

    টাইফয়েড একটি ব্যাকটেরিয়াজনিত মারাত্মক সংক্রামক রোগ, যা মূলত দূষিত খাবার ও পানির মাধ্যমে ছড়ায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) ২০১৯ সালের তথ্যমতে, বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর প্রায় ৯০ লাখ মানুষ টাইফয়েডে আক্রান্ত হন এবং তাদের মধ্যে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার মানুষ মারা যায়। আক্রান্তদের একটি বড় অংশই শিশু ও কিশোর বয়সি।

    টাইফয়েড টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
    টিকা দেওয়ার পর কিছু মৃদু ও সাময়িক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। টিসিভি টিকা পাওয়া শিশুদের মধ্যে ৯ শতাংশের সামান্য জ্বর এসেছিল। এ ছাড়া ইনজেকশনের জায়গায় হালকা ব্যথা, ফোলাভাব বা লাল হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনাও দেখা যায়। তবে কোনো চিকিৎসা ছাড়াই এসব উপসর্গ সেরে যায়। এ গবেষণার ওপর ভিত্তি করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ইতিমধ্যে টাইফয়েড-প্রবণ দেশগুলোকে তাদের জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিতে টিসিভি অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করেছে।

    প্রসঙ্গত, এ টাইফয়েট টিকা নিয়ে বিভ্রান্তিকর প্রচার চালাচ্ছে একশ্রেণির মানুষ। এটি ঠিক নয়। অনেকের মধ্যে শিশুকে টিকা দেওয়া নিয়ে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিও পাওয়া যাচ্ছে। সামাজিক মাধ্যমে টিকাবিরোধী কিংবা টিকা না নিতে উদ্বুদ্ধ করে এক ধরনের প্রচারও দৃষ্টিতে এসেছে। শিশুর জন্য এখনই এ টিকা নেওয়া ঠিক হবে কিনা’ কিংবা ‘পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কেমন হবে’— এ ধরনের নানা উদ্বেগের কারণে অনেক অভিভাবক তার শিশুর নাম টিকার জন্য নিবন্ধন করানো থেকে বিরত রয়েছেন বলে জানা গেছে।

    এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোভিডের জন্য বুস্টার ডোজ পর্যন্ত নিয়েও অনেকে কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন। সে কারণেই টিকা নিয়ে ‘এক ধরনের অনাস্থা’ কারও কারও মধ্যে দেখা যাচ্ছে। তবে টাইফয়েডের টিকা নিয়ে ‘উদ্বেগ কিংবা অনাস্থার’ কোনো কারণ নেই বলেও জানিয়েছেন তারা।

    উল্লেখ্য, দেশে ৯ মাস থেকে ১৫ বছর বয়সি শিশু, কিশোর-কিশোরীদের বিনামূল্যে এ টিকা দেওয়ার কর্মসূচি নিয়েছে সরকার এবং ১৮ দিনের এই টিকাদান ক্যাম্পেইনের লক্ষ্য হচ্ছে— ৪ কোটি ৯০ লাখ শিশুকে টাইফয়েডের টিকা দেওয়া।