সিস্ট-টিউমার: কারণ, লক্ষণ ও প্রকারভেদসিস্ট

সিস্ট কী?

সিস্ট হলো শরীরের ভেতরে বা ত্বকের নিচে তৈরি হওয়া এক ধরণের ছোট থলি বা পকেট। এর ভেতরে সাধারণত তরল, বায়ু বা নরম কোনো চটচটে উপাদান থাকে। বেশিরভাগ সিস্টই ভয়ের কিছু নয়, অর্থাৎ এগুলো ক্যান্সার নয় (বিনাইন)। এগুলো শরীরের যেকোনো জায়গায় হতে পারে এবং আকারে মটরদানার মতো ছোট থেকে শুরু করে বেশ বড়ও হতে পারে।

সিস্ট ও ফোড়ার পার্থক্য: সিস্টে সাধারণত ব্যথা থাকে না। কিন্তু যদি কোনো কারণে এতে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ঘটে এবং ভেতরে পুঁজ জমে যায়, তবে তাকে অ্যাবসেস বা ফোড়া বলা হয়। তখন জায়গাটি লাল হয়ে যায় এবং প্রচণ্ড ব্যথা হতে পারে।

সিস্ট ও ফোড়া কেন হয়? (কারণসমূহ): সিস্ট হওয়ার নির্দিষ্ট কারণ এর ধরণের ওপর নির্ভর করে। তবে সাধারণ কিছু কারণ হলো:
(ক) শরীরের তেল নিঃসরণকারী গ্রন্থি বা নালী বন্ধ হয়ে যাওয়া।

(খ) কোনো কারণে সংক্রমণ বা ইনফেকশন হওয়া।

(গ) দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ বা ইনফ্লামেশন।

(ঘ) অনেক সময় এটি বংশগত কারণেও হতে পারে।

সিস্ট ও ফোড়ার লক্ষণসমূহ: অনেক সময় সিস্টের কোনো লক্ষণ থাকে না। তবে কিছু বিষয় দেখে এটি চেনা যায়:

দৃশ্যমান পিণ্ড: ত্বক, স্তন বা চোখের পাতার ওপর হাত দিলে নরম বা শক্ত পিণ্ড অনুভব করা যায়।

অভ্যন্তরীণ সিস্ট: লিভার বা ফুসফুসের ভেতরের সিস্টগুলো বাইরে থেকে বোঝা যায় না। অন্য কোনো রোগের জন্য আল্ট্রাসাউন্ড বা সিটি স্ক্যান করলে এগুলো ধরা পড়ে।

ব্যথা ও অস্বস্তি: যদি সিস্ট বড় হয়ে যায় বা ফেটে যায়, তবে ব্যথা হতে পারে। যেমন—ওভারিয়ান সিস্টের কারণে তলপেটে ব্যথা বা অনিয়মিত মাসিক হতে পারে।

তরল নির্গত হওয়া: ত্বকের নিচের সিস্ট সংক্রমিত হলে মাঝেমধ্যে দুর্গন্ধযুক্ত হলুদ তরল বের হতে পারে।

সাধারণ কিছু সিস্টের ধরণ

১. সেবাসিয়াস ও এপিডারময়েড সিস্ট: এগুলো সাধারণত মুখ, ঘাড় ও পিঠে হয়। ত্বকের নিচের তেল গ্রন্থি বন্ধ হয়ে এই পিণ্ড তৈরি হয়।

২. সিস্টিক ব্রণ: এটি এক ধরণের মারাত্মক ব্রণ। এতে ত্বকের গভীরে পুঁজভর্তি বড় ও বেদনাদায়ক দানা তৈরি হয়, যা সেরে গেলেও দাগ রেখে যায়।

৩. ক্যালাজিয়ন: চোখের পাতার ওপরে বা নিচে তৈরি হওয়া ছোট ব্যথাহীন দানা।

৪. গ্যাংলিয়ন: কব্জি বা হাতের জয়েন্টের কাছে তৈরি হওয়া গোলাকার পিণ্ড। এটি স্নায়ুর ওপর চাপ দিলে ব্যথা হতে পারে।

৫. পিলোনাডাল সিস্ট: মেরুদণ্ডের একদম শেষ প্রান্তে (নিতম্বের ভাঁজে) এটি হয়। এতে অনেক সময় চুল বা ত্বকের মরা কোষ জমে ইনফেকশন হয়ে যায়।

৬. বেকার’স সিস্ট: হাঁটুর পেছনের দিকে তরল জমে ফুলে যাওয়া। এতে হাঁটু ভাঁজ করতে বা সোজা করতে সমস্যা হয়।

৭. ব্রেস্ট বা স্তন সিস্ট: স্তনের ভেতর তরল ভর্তি থলি। মাসিকের আগে এটি আকারে বড় হতে পারে এবং ব্যথা করতে পারে।

৮. ডারময়েড সিস্ট: এটি জন্মগত। এই সিস্টের ভেতরে আশ্চর্যজনকভাবে চুল, দাঁত বা ত্বকের টিস্যু পাওয়া যেতে পারে।

৯. বেকার’স সিস্ট: এটি হাঁটুর পেছনের অংশে তরল পূর্ণ একটি সিস্ট। একে পপলাইটিয়াল সিস্টও বলা হয়। এর ফলে হাঁটুতে ব্যথা বা শক্ত হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা হতে পারে।

১০. ব্রেস্ট সিস্ট (স্তন সিস্ট): স্তনের ভেতরে তরল পূর্ণ পিণ্ড। এটি একক বা একাধিক হতে পারে। পিরিয়ডের আগে এর আকার বাড়তে পারে এবং ব্যথা অনুভূত হতে পারে।