১১. নারী জননাঙ্গের সিস্ট
ওভারিয়ান সিস্ট (ডিম্বাশয়ের সিস্ট): ডিম্বাশয়ে তৈরি হওয়া তরল ভর্তি থলিকে ওভারিয়ান সিস্ট বলে। এটি এক বা উভয় ডিম্বাশয়েই হতে পারে। সাধারণত সন্তান জন্মদানে সক্ষম নারীদের মধ্যে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। অনেক ক্ষেত্রে কোনো লক্ষণ থাকে না, তবে কিছু ক্ষেত্রে নিচের উপসর্গগুলো দেখা দিতে পারে:
- তলপেটে ব্যথা এবং পেট ফাঁপা বা ফোলা ভাব।
- মাসিকের আগে বা মাসিক চলাকালীন পেলভিক এরিয়া বা শ্রোণীতে ব্যথা।
- সহবাসের সময় ব্যথা।
- কোমরের নিচের অংশে এবং উরুতে ব্যথা।
বার্থোলিন সিস্ট: যোনিপথকে পিচ্ছিল রাখার জন্য এর দুই পাশে দুটি ‘বার্থোলিন গ্রন্থি’ থাকে। এই গ্রন্থির মুখ বন্ধ হয়ে গেলে যোনিপথের ঠিক পাশেই ছোট তরল ভর্তি পিণ্ড তৈরি হয়, একে বার্থোলিন সিস্ট বলে। এটি সাধারণত ব্যথাহীন হয়। তবে এতে সংক্রমণ (ইনফেকশন) হলে জায়গাটি লাল হয়ে ফুলে যায়, গরম হয়ে ওঠে এবং প্রচণ্ড ব্যথা অনুভূত হয়। এর ফলে হাঁটাচলা করতে, বসতে বা সহবাসের সময় সমস্যা হতে পারে এবং জ্বর আসতে পারে।
নাবোথিয়ান সিস্ট: জরায়ু মুখের (Cervix) উপরিভাগে তৈরি হওয়া মিউকাস বা শ্লেষ্মা ভর্তি পিণ্ডকে নাবোথিয়ান সিস্ট বলা হয়। এগুলো সাধারণত কোনো ব্যথার সৃষ্টি করে না এবং কোনো লক্ষণও থাকে না। অন্য কোনো সমস্যায় ডাক্তার জরায়ু পরীক্ষা করার সময় সাধারণত এটি ধরা পড়ে। তবে এতে সংক্রমণ হলে যোনিপথে অস্বাভাবিক নিঃসরণ, দুই মাসিকের মধ্যবর্তী সময়ে রক্তপাত বা তলপেটে ব্যথা হতে পারে।
ভ্যাজাইনাল সিস্ট (যোনীপথের সিস্ট): যোনিপথের দেয়ালে বা নিচে তৈরি হওয়া তরল, পুঁজ বা বায়ুভর্তি পিণ্ডকে ভ্যাজাইনাল সিস্ট বলে। এগুলো সাধারণত কোনো সমস্যা করে না। কিন্তু সিস্টটি আকারে বড় হয়ে গেলে ব্যথা, চুলকানি এবং সহবাসের সময় অস্বস্তি হতে পারে। সেই সঙ্গে ইনফেকশনের ঝুঁকিও বেড়ে যায়।
১২. পুরুষ জননাঙ্গের সিস্ট
এপিডিডাইমাল সিস্ট (Epididymal Cyst): একে ‘স্পার্মাটোসিলে’ (Spermatocele) বলা হয়। অণ্ডকোষের পেছনে থাকা ‘এপিডিডাইমিস’ নামক নালীতে (যেখানে শুক্রাণু জমা থাকে) এই তরল ভর্তি পিণ্ডটি তৈরি হয়। সাধারণত এটি কোনো উপসর্গ তৈরি করে না, তবে আকারে বড় হয়ে গেলে অণ্ডকোষে ভারী ভাব, অস্বস্তি বা ব্যথা হতে পারে। অণ্ডকোষের পেছনে ও ওপরের দিকে পূর্ণতা বা ফোলা ভাব অনুভূত হতে পারে।
অন্যান্য: উপরের তালিকা ছাড়াও আমাদের শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ও গ্রন্থিতে সিস্ট হতে পারে। যেমন— লিভার (যকৃৎ), ফুসফুস, কিডনি, মস্তিষ্ক, অগ্ন্যাশয় এবং থাইরয়েড গ্রন্থি।
