গলব্লাডারের আর মূত্রতন্ত্রের বিভিন্ন অংশে (যেমন- কিডনি, ব্লাডার, ইউরেটার ইত্যাদি) স্টোন সবচেয়ে বেশী হয়। এগুলো ছাড়াও কিন্তু শরীরের অন্যান্য নালী বা গ্রন্থিতেও বিশেষতঃ লালাগ্রন্থী, প্যাংক্রিয়াসে স্টোন হতে পারে।
পাথর সৃষ্টির কেন ?
শরীরের বিভিন্ন স্থানে স্টোন হওয়ার কারণও বিভিন্ন। যেমন—
গলস্টোন: গলব্লাডারের মধ্যে থাকে পিত্তরস বা বাইল। লিভারে তৈরি হয়ে বাইল পিত্তথলিতে জমা হয়ে ঘনীভূত হয়। গলব্লাডার মাঝে মাঝে সংকুচিত হয়ে এই ঘনীভূত বাইলকে বাইল ডাক্টের মাধ্যমে অস্ত্রে বার করে দেয়। বাইল ফ্যাট জাতীয় খাদ্য হজমে সাহায্য করে। বাইলের মূল উপাদান তিনটি—কোলেস্টেরল, বাইল পিগমেন্ট ও বাইল সল্ট। কোনো কারণে এই কোলেস্টরল ও বাইল সল্টের অনুপাতের হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটলে কোলেস্টরল থিতিয়ে পড়ে জমতে জমতে পাথর সৃষ্টি হয়। একে ‘লিথোজেনিক বাইল’বলে।
গলব্লাডারের পাম্প করার ক্ষমতা হ্রাস পেলে বা অতিরিক্ত গর্ভনিরোধক বড়ি খেলেও একই ঘটনা ঘটতে পারে। এগুলোকে কোলেস্টেরল স্টোন বলে।
আবার হিমোলাইটিক অ্যানিমিয়া রোগে রক্তকণিকার বিভাজন বেশি হলে বাইল পিগমেন্টের মাত্রা বেড়ে গিয়ে পিগমেন্ট স্টোন তৈরি হয়। এটিও এক ধরণের গলস্টোন।
কিডনি স্টোন: কিডনির ভেতর যে তরল পরিশ্রুত হয়, তাতে ক্যালসিয়াম অক্সালেট, ইউরিক অ্যাসিড, ফসফেট ইত্যাদি খনিজ পদার্থ থাকে। জল কম খেলে বা শরীরে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেশি থাকলে এই খনিজ লবনগুলো ঘনীভূত হয়ে স্টোন সৃষ্টি করে। আবার প্যারাথাইরয়েড হরমোনের গন্ডগোল থাকলে ক্যালসিয়াম মেটাবলিজম বিঘ্নিত হয়ে স্টোন ফর্মেশন হয়। বারবার কিডনিতে পাথর হলে বা বাচ্চাদের কিডনিতে পাথর দেখা গেলে এই কারণটির দিকে লক্ষ্য রেখে ওষুধ দিতে হবে। না হলে অনর্থক অপারেশন করে হয়রান হতে হবে।
ব্লাডার স্টোন: ঘনঘন প্রস্রাবের ইনফেকশন, প্রস্টেটের বৃদ্ধি বা নার্ভের সমস্যার জন্য প্রস্রাব ঠিকমতো বার না হলে মিনারেল জমে ব্লাডারে পাথর তৈরি হয়। স্যালাইভারি স্টোন : এই স্টোন সাধারণত ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় তৈরি হয়। মুখের বা গলার ক্যানসারে রেডিয়েশন থেরাপির পর, কিছু অ্যালার্জি, এপিলেপ্সি বা সাইকিয়াট্রিক ওষুধ দীর্ঘদিন খেলে লালাগ্রন্থী থেকে লালারস ঠিকমতো বেরোতে না পেরে জমে গিয়ে স্টোন সৃষ্টি করে। তাই এক্ষেত্রে বারবার জল খেয়ে মুখ ভিজিয়ে রাখতে হবে।
প্যাংক্রিয়াস স্টোন : কোনো কারণে প্যাংক্রিয়াসের নালী ছোট হয়ে গেলে প্যাংক্রিয়াটিক এনজাইমগুলো জমে গিয়ে পাথরের আকার নেয়। প্যাংক্রিয়াসের টিউমার, গলস্টোন থেকে প্যাংক্রিয়াসের নালীর অবস্ট্রাকশন, মদ্যপান, গলব্লাডার বা প্যাংক্রিয়াসের প্রদাহ, রক্তে ক্যালসিয়ামের মাত্রা বৃদ্ধি ইত্যাদি কারণে এই জাতীয় স্টোন তৈরি হয়।
এ ব্যাপারে চিকিৎসা নিতে কল করুন ০১৭১০০৫০২০০


Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.