কম শুক্রাণু (ওলিগোস্পার্মিয়া): কারণ ও প্রতিকার
কম শুক্রাণু বা ওলিগোস্পার্মিয়া হলো পুরুষদের বন্ধ্যাত্বের অন্যতম প্রধান কারণ। প্রতি মিলিলিটার বীর্যে শুক্রাণুর সংখ্যা ১৫ মিলিয়নের কম হলে তাকে ওলিগোস্পার্মিয়া বলা হয়। আর সম্পূর্ণ শুক্রাণুহীন অবস্থাকে অ্যাজোস্পার্মিয়া বলা হয়।
কম শুক্রাণুর হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা
কম শুক্রাণুর হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার বড় সুবিধা হলো এটি প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করে শুক্রাণুর সংখ্যা ও মান উন্নত করতে সাহায্য করে। এ ধরনের চিকিৎসা হরমোন বা অন্যান্য কঠিন ওষুধের ঝুঁকি এড়াতে সাহায্য করে এবং উপসর্গের পাশাপাশি সমস্যার মূল কারণও নিরাময় করে। এটি নির্দিষ্ট জীবনধারা ও শারীরিক কারণের ওপর ভিত্তি করে পৃথকভাবে প্রস্তুত করা যেতে পারে, যা একেকজনের জন্য ভিন্ন হতে পারে। হোমিওপ্যাথি কোমল উপায়ে শুক্রাণুর সংখ্যা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।
শুক্রাণু কমে যাওয়ার কারণসমূহ
১. মেডিকেল কারণ
ক। ভারিকোসেল: অণ্ডকোষের শিরা স্ফীত হয়ে শুক্রাণুর উৎপাদন কমাতে পারে এবং শুক্রাণুর গুণমান নষ্ট করতে পারে।
খ। হরমোনের ভারসাম্যহীনতা: হাইপোথ্যালামাস, পিটুইটারি গ্রন্থি এবং অণ্ডকোষ থেকে উৎপন্ন হরমোনগুলোর ভারসাম্যহীনতা শুক্রাণুর উৎপাদনে বাধা দেয়।
গ। সংক্রমণ: কিছু সংক্রমণ, যেমন অর্কাইটিস ও এপিডিডাইমাইটিস, শুক্রাণুর সংখ্যা কমাতে পারে।
ঘ। অণ্ডকোষ না নামা (ক্রিপ্টোরকিডিজম): অণ্ডকোষ সময়মতো স্ক্রোটামে না নামলে শুক্রাণু উৎপাদনে সমস্যা হয়।
ঙ। জেনেটিক সমস্যা: যেমন ক্লাইনফেল্টার সিন্ড্রোম, যা শুক্রাণু উৎপাদনকে প্রভাবিত করে।
চ। শুক্রাণুতে আক্রমণকারী অ্যান্টিবডি: শরীরের ইমিউন সিস্টেম শুক্রাণুকে আক্রমণ করতে পারে।
ছ। টিউমার: অণ্ডকোষের টিউমার শুক্রাণু উৎপাদন কমাতে পারে।
জ। বীর্য উৎপাদনের পথে বাধা বা আঘাত: আঘাত, সংক্রমণ বা অস্ত্রোপচারের ফলে শুক্রাণু চলাচলের পথ বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
ঝ। বীর্যপাতের সমস্যা: রেট্রোগ্রেড ইজাকুলেশন সমস্যায় শুক্রাণু মূত্রাশয়ে চলে যায়, যা বীর্যে শুক্রাণু কমিয়ে দেয়।
২. ওষুধ ও অস্ত্রোপচার
কিছু ওষুধ, যেমন কেমোথেরাপি, স্টেরয়েড, অ্যান্টিবায়োটিক শুক্রাণুর সংখ্যা কমিয়ে দিতে পারে। এছাড়া ইনগুইনাল হার্নিয়া, প্রস্টেট, বা মূত্রাশয়ের অস্ত্রোপচার শুক্রাণু উৎপাদন কমাতে পারে।
৩. জীবনযাত্রা ও পরিবেশগত কারণ
ক। অতিরিক্ত মদ্যপান ও ধূমপান
খ। মানসিক চাপ ও হতাশা
গ। মাদক ব্যবহার, যেমন কোকেন ও মারিজুয়ানা
ঘ। স্থূলতা ও অতিরিক্ত ওজন
ঙ। দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করা
চ। ভারী ধাতু বা রাসায়নিকের সংস্পর্শে আসা
ছ। এক্স-রে-এর সংস্পর্শ
জ। গরম পানির টব বা সোনার অতিরিক্ত ব্যবহার
৪. অজানা কারণ (আইডিওপ্যাথিক ওলিগোস্পার্মিয়া)
কিছু ক্ষেত্রে শুক্রাণু কম থাকার কোনও নির্দিষ্ট কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না।
কম শুক্রাণুর লক্ষণ ও উপসর্গ
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে, শুক্রাণু কম থাকার কোনও বিশেষ লক্ষণ দেখা যায় না। পুরুষেরা সাধারণত বন্ধ্যাত্বের সময় এই সমস্যা সম্পর্কে জানতে পারেন। তবে কিছু নির্দিষ্ট কারণের উপর নির্ভর করে নিচের উপসর্গগুলো দেখা দিতে পারে:
১। ইরেকটাইল ডিসফাংশন (যৌনমিলনের জন্য যথেষ্ট ইরেকশন বজায় রাখতে অক্ষমতা)
২। যৌন আকাঙ্ক্ষার হ্রাস
৩। অণ্ডকোষে ব্যথা বা ফোলাভাব
৪। অণ্ডকোষে গিঁট
৫। মুখ ও শরীরে লোম কমে যাওয়া
৬। জীবনযাত্রার পরিবর্তন যা শুক্রাণুর সংখ্যা বৃদ্ধি করতে সহায়ক
৭। ধূমপান ও মদ্যপান এড়িয়ে চলা
৮। অতিরিক্ত ওজন থাকলে তা কমানো
৯। নিয়মিত ব্যায়াম করা
১০। মানসিক চাপ কমানো
১১। পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা
১২। মাদক এড়িয়ে চলা
১৩। গরম পানির টব ও সোনা ব্যবহার এড়ানো
এই পরিবর্তনগুলো শুক্রাণুর সংখ্যা ও মান উন্নত করতে সহায়ক।
হোমিও চিকিৎসাং শুক্রানু বাড়ানোও ওষুধ আছে। এ সমস্যা সহ যে কোনো যৌন সমস্যায় যোগাযোগ করুন 01710050200