Category: অন্যান্য

  • হোমিওপ্যাথি কি সত্যিই ধীরে কাজ করে?

    হোমিওপ্যাথি কি সত্যিই ধীরে কাজ করে?

    হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে একটি বহুল প্রচলিত ধারণা হলো, এর ওষুধগুলো ধীরগতিতে কাজ করে। অনেকে এটিকে অ্যালোপ্যাথির মতো দ্রুত ফলদায়ী মনে করেন না। তবে, হোমিওপ্যাথির অনুরাগী ও বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই ধারণাটি চিকিৎসা পদ্ধতির কার্যকারিতা বোঝার ভুলের ফল এবং বেশ কিছু ক্ষেত্রে হোমিওপ্যাথি দ্রুত ও স্থায়ী আরোগ্য লাভে সক্ষম।

    প্রচলিত ধারণার কারণ ও ব্যাখ্যা
    হোমিওপ্যাথি ধীরগতির—এই ধারণা তৈরির পেছনে প্রধানত দুটি কারণ রয়েছে:

    ১. দীর্ঘমেয়াদি বা ক্রনিক রোগের চিকিৎসা: সাধারণত, যে রোগগুলো অ্যালোপ্যাথিতে নিরাময় করা কঠিন বা যেখানে দীর্ঘকাল ধরে স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ সেবন করতে হয় (যেমন গুরুতর অ্যালার্জি, আর্থ্রাইটিস, বা কিছু চর্মরোগ), সেই ক্রনিক রোগগুলির ক্ষেত্রেই রোগীরা শেষ ভরসা হিসেবে হোমিওপ্যাথিতে আসেন। এই দীর্ঘস্থায়ী রোগগুলোর মূল কারণ দূর করতে কিছুটা সময় লাগা স্বাভাবিক, তাই চিকিৎসার ফলও ধীরে ধীরে প্রকাশ পায়।

    ২. গভীরভাবে কাজ করার প্রক্রিয়া: অ্যালোপ্যাথি প্রায়শই রোগের উপসর্গকে দ্রুত দমন করে, কিন্তু হোমিওপ্যাথি রোগের মূল কারণ (Root Cause) এবং ব্যক্তির সামগ্রিক জীবনশক্তির (Vital Force) ওপর কাজ করে। এই মৌলিক পরিবর্তন আসতে কিছুটা সময় লাগে, যা আরোগ্যকে করে তোলে স্থায়ী ও টেকসই।

    হোমিওপ্যাথির পক্ষে যুক্তি: দ্রুত আরোগ্যলাভ সম্ভব কখন?
    হোমিওপ্যাথি শুধুমাত্র দীর্ঘমেয়াদি নয়, বরং সঠিক ক্ষেত্রে এটি দ্রুত আরোগ্যলাভেও অত্যন্ত কার্যকর।

    তীব্র (Acute) রোগের ক্ষেত্রে: সাধারণ ঠান্ডা লাগা, জ্বর, গলা ব্যথা, আঘাতজনিত ব্যথা (ট্রমা), বা হঠাৎ ডায়রিয়ার মতো তীব্র বা অ্যাকিউট রোগগুলোর চিকিৎসায় হোমিওপ্যাথি দ্রুত ফল দিতে পারে। সঠিক মাত্রার সঠিক হোমিওপ্যাথিক ওষুধ প্রয়োগ করলে কিছু ঘণ্টার মধ্যেই উপসর্গের উন্নতি দেখা যায়।

    জরুরি পরিস্থিতিতে কার্যকারিতা: আঘাত বা দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে আরনিকা মন্টানার (Arnica Montana) মতো ওষুধগুলো দ্রুত ব্যথা ও ফোলা কমাতে এবং রক্ত জমাট বাঁধা রোধে ব্যবহৃত হয়।

    ক্ষতিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার অনুপস্থিতি: অ্যালোপ্যাথিক ওষুধ দ্রুত ফল দিলেও প্রায়শই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়। কিন্তু হোমিওপ্যাথির ওষুধগুলো নিরাপদ হওয়ায় শরীর দ্রুত সাড়া দেয় এবং রোগীর সামগ্রিক স্বাস্থ্যের কোনো ক্ষতি হয় না। এটি বিশেষত শিশু ও সংবেদনশীল রোগীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

    মূল কথা: গতি নয়, স্থায়িত্বই আসল লক্ষ্য
    হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকরা জোর দেন, ওষুধের গতি নির্ভর করে রোগীর রোগের প্রকৃতি, তীব্রতা, এবং রোগীর শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ওপর।

    ‘হোমিওপ্যাথির মূল লক্ষ্য হলো দ্রুত উপসর্গ দমন করা নয়, বরং রোগের মূল কারণ দূর করে স্থায়ী স্বাস্থ্য ফিরিয়ে আনা। যেখানে অ্যালোপ্যাথি মাসের পর মাস ধরে ওষুধ খেতে বলে, সেখানে হোমিওপ্যাথি হয়তো সম্পূর্ণ আরোগ্যের জন্য কিছুটা বেশি সময় নেয়, কিন্তু রোগটি বারবার ফিরে আসার আশঙ্কা কমিয়ে দেয়।’

    অতএব, হোমিওপ্যাথি ধীরগতির এই ধারণাটি প্রযোজ্য নয়। বরং, এটি একটি বিজ্ঞানসম্মত চিকিৎসা পদ্ধতি যা রোগীর সার্বিক স্বাস্থ্য, জীবনীশক্তি এবং রোগমুক্তির দীর্ঘস্থায়িত্বের ওপর বেশি গুরুত্ব দেয়।

  • ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়ক যে ৩ সবজি

    ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়ক যে ৩ সবজি

    পরিবেশে দূষণের মাত্রা বৃদ্ধি এবং দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসে অস্বাস্থ্যকর উপাদানের ব্যবহার বাড়ার ফলে ক্যানসারের ঝুঁকি এখন অনেকটাই বেশি। চিকিৎসকদের মতে, অনেক সময় আমাদের কিছু দৈনন্দিন অভ্যাসই ক্যানসারের জন্য দায়ী। তাই সচেতন হয়ে এখন থেকেই ক্যানসার প্রতিরোধের অভ্যাস গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।

    বাজারে সহজে পাওয়া যায় এমন কিছু সবজি রয়েছে, যেগুলোর মধ্যে প্রাকৃতিকভাবেই ক্যানসার প্রতিরোধী ক্ষমতা বিদ্যমান। এই সবজিগুলো নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখলে রোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। নিচে এমন তিনটি সবজির উপকারিতা তুলে ধরা হলো:

    ১. গাজর: গাজরে প্রচুর পরিমাণে বিটা ক্যারোটিন থাকে, যা মূলত এক ধরনের ভিটামিন ‘এ’। এই উপাদানটি দেহের ‘অক্সিডেটিভ স্ট্রেস’ কমাতে সাহায্য করে, ফলে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এছাড়াও, গাজরে উচ্চ মাত্রায় ফাইবার বা আঁশ থাকে, যা পেট পরিষ্কার রাখতে সহায়ক। এর ফলে পাকস্থলী ও মলাশয়ের ক্যানসারের ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায়।

    ২. রসুন: রসুনের অসংখ্য স্বাস্থ্যগুণের মধ্যে অন্যতম হলো এর ক্যানসার প্রতিরোধী ক্ষমতা। এতে থাকা ‘অ্যালিসিন’ নামের একটি যৌগ ক্যানসার কোষ ধ্বংসে সাহায্য করে এবং শরীরের ডিএনএ-এর গঠন অক্ষুণ্ণ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে এর গুণাগুণ ধরে রাখার জন্য রান্নার প্রক্রিয়া জরুরি। বেশি আঁচে রান্না করলে রসুনের এই উপকারী গুণ নষ্ট হয়ে যায়। তাই কাঁচা রসুন বা থেঁতো করে নেওয়ার ১০ মিনিটের মধ্যে এটি গ্রহণ করা সবচেয়ে উপকারী।

    ৩. ব্রকলি: সবুজ সবজিগুলোর মধ্যে ব্রকলি হলো অন্যতম পুষ্টিকর একটি সবজি। এর মধ্যে সালফোরাফেন নামক একটি যৌগ থাকে, যা ক্যানসার কোষের বৃদ্ধি রোধ করতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। গবেষণা অনুসারে, বড় আকারের ব্রকলির তুলনায় ছোট ব্রকলিতে এই উপাদানের পরিমাণ বেশি থাকে। তাই নিয়মিত খাদ্যতালিকায় ছোট ব্রকলি রাখা আরও বেশি উপকারী।

  • রংপুরের পীরগঞ্জে অ্যানথ্রাক্স উপসর্গের ৬ রোগী শনাক্ত

    রংপুরের পীরগঞ্জে অ্যানথ্রাক্স উপসর্গের ৬ রোগী শনাক্ত

    রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায় অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গে আক্রান্ত আরও ছয়জন রোগীর সন্ধান পাওয়া গেছে। অসুস্থ গরুর মাংস কাটা ও বিতরণের সঙ্গে জড়িত থাকার পর এদের শরীরের বিভিন্ন অংশে ঘা দেখা দেওয়ায় মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) সকালে পাঁচজনের এবং এর আগে গত রোববার অপর একজনের নমুনা সংগ্রহ করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।

    পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মাসুদ রানা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সর্বশেষ আক্রান্ত এসব রোগীর বাড়ি উপজেলার দাঁড়িয়াপুরে। তাদের মধ্যে চারজন পুরুষ ও একজন নারী রয়েছেন, যারা শরীরের ঘা নিয়ে হাসপাতালে এসেছিলেন।

    আক্রান্তদের পরিবারের সদস্যরা জানান, স্থানীয় টুটুল মিয়ার একটি গাভি অসুস্থ হলে গত ১১ নভেম্বর সেটি জবাই করে গ্রামবাসীদের মধ্যে মাংস বিতরণ করা হয়। এরপর ১২ অক্টোবর মাংস কাটাকাটির সঙ্গে যারা জড়িত ছিলেন, তাদের শরীরেই অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ হিসেবে ঘা দেখা দিতে শুরু করে।

    স্থানীয় শান্তি বেগম নামে এক নারী জানান, তার ভাশুরের অসুস্থ গরু জবাইয়ের পর ৮-৯ জনের শরীরে অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ দেখা দেয়। তবে তারা রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে না গিয়ে শুধু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ব্যবস্থাপত্র নিয়ে বাড়িতে ফিরে গেছেন।

    জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত সোমবার পর্যন্ত রংপুর জেলায় পীরগাছায় ৩৮, কাউনিয়ায় ১৮, মিঠাপুকুরে ১২, গঙ্গাচড়ায় ৭ এবং পীরগঞ্জে ১ জনসহ মোট ৭৮ জন সন্দেহজনক অ্যানথ্রাক্স রোগী শনাক্ত হয়েছিল। এর মধ্যে ২৪ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। তবে পীরগঞ্জে নতুন পাওয়া এই ছয় রোগীর তথ্য এখনো মোট হিসাবে যুক্ত হয়নি।

    জেলা সিভিল সার্জন শাহীন সুলতানা জানান, জেলায় অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১১। তবে অ্যানথ্রাক্স সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ার কারণ হলো—উপসর্গযুক্ত রোগীর শরীরে কাঁচা ঘা থাকলেই কেবল নমুনা সংগ্রহ করা যায়; ঘা শুকিয়ে গেলে নমুনা নেওয়া সম্ভব হয় না।

    উল্লেখ্য, গত জুলাই ও সেপ্টেম্বরে রংপুরের পীরগাছায় অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ নিয়ে দুই নারী ও একজন পুরুষের মৃত্যু হলে বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসে। এছাড়া গত ৪ অক্টোবর অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ নিয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রমেক) গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের রোজিনা বেগম (৪৫) মারা যান।

  • যেসব কারণে চোখ শুষ্ক হয়, লক্ষণ ও চিকিৎসা কী?

    যেসব কারণে চোখ শুষ্ক হয়, লক্ষণ ও চিকিৎসা কী?

    নাম থেকেই বোঝা যায়, শুষ্ক চোখ (Dry Eyes) হলো চোখের জলের মাধ্যমে চোখের পর্যাপ্ত তৈলাক্তকরণের অভাবে সৃষ্ট একটি চিকিৎসাগত অবস্থা। চোখের জলের পরিমাণ বা গুণমান কমে গেলে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। চোখের জল বা টিয়ার ফিল্মটি তিনটি স্তর দিয়ে তৈরি: চর্বিযুক্ত তেল, জলীয় তরল এবং শ্লেষ্মা। এই সংমিশ্রণই চোখকে তৈলাক্ত ও মসৃণ রাখে। এই স্তরগুলোর কোনো একটিতে সমস্যা হলে চোখ শুষ্ক হতে পারে।

    চোখ শুষ্কতায় কোন চিকিৎসা ভালো:
    শুষ্ক চোখের জন্য হোমিওপ্যাথিতে অত্যন্ত কার্যকর চিকিৎসা রয়েছে। শুষ্ক চোখের জন্য হোমিওপ্যাথিক ওষুধগুলো প্রাকৃতিক উপাদান থেকে তৈরি বলে সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং এর কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। এটি শুষ্ক চোখ এবং এর উপসর্গগুলি—যেমন চোখের ব্যথা, চুলকানি, চোখ লাল হওয়া, চোখে জ্বালাপোড়া এবং চোখে বালি পড়ার মতো অনুভূতি—থেকে মুক্তি দেয়। হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার প্রথম লক্ষ্য হলো তীব্র লক্ষণগুলি থেকে মুক্তি দেওয়া এবং পরবর্তীতে দীর্ঘস্থায়ী সমস্যাটি দূর করার জন্য কাজ করা। প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতিতে, সমস্যার তীব্রতা অনুসারে নির্দিষ্ট অ্যান্টিবায়োটিক, চোখের ড্রপ বা অশ্রু উদ্দীপক ওষুধ দেওয়া হয়। এই পদ্ধতিগুলো অস্থায়ী উপশম দেয়, কারণ এগুলি মূল কারণের চিকিৎসা করে না। উপরন্তু, দীর্ঘ সময় ধরে এই ওষুধগুলির ব্যবহারে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যেতে পারে। হোমিওপ্যাথিক ওষুধের কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া না থাকলেও, সমস্যার তীব্রতার ওপর নির্ভর করে এটি স্থায়ী ফল দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করে।

    শুষ্ক চোখ বিভিন্ন কারণে দেখা দিতে পারে। হোমিওপ্যাথিক ওষুধগুলো শুষ্ক চোখের মূল কারণকে আক্রমণ করে, যেমন অ্যালার্জিক অবস্থা, অটোইমিউন রোগ, হরমোনজনিত সমস্যা, চোখের গ্রন্থিগুলির প্রদাহ ইত্যাদি। মূল কারণটি সমাধান করা গেলে দারুণ এবং দীর্ঘস্থায়ী ফল পাওয়া যায়, অনেক ক্ষেত্রে যা স্থায়ীও হয়।

    শুষ্ক চোখের জন্য হোমিওপ্যাথিক ওষুধ নির্বাচন ব্যক্তিগতকরণের সূত্র অনুসারে করা হয়। এর অর্থ হলো শুষ্ক চোখের প্রতিটি ক্ষেত্রেই একই হোমিওপ্যাথিক ওষুধ দেওয়া হয় না। বরং প্রতিটি রোগীর ক্ষেত্রে তার অনন্য, অদ্ভুত এবং বৈশিষ্ট্যযুক্ত লক্ষণ অনুসারে ওষুধ নির্ধারণ করা হয়। তাই ব্যক্তিগত প্রেসক্রিপশনের জন্য একজন হোমিওপ্যাথিক ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করা এবং নিজে ওষুধ ব্যবহার করা (স্ব-ষধ) এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়।

    চোখের শুষ্কতায় হোমিও চিকিৎসায় পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই
    শুষ্ক চোখের জন্য হোমিওপ্যাথিক ওষুধগুলো প্রাকৃতিক, মৃদু, ব্যবহারের জন্য ১০০ শতাংশ নিরাপদ এবং এর কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। কারণ হোমিওপ্যাথিক ওষুধ প্রাকৃতিক উপাদান থেকে তৈরি এবং এগুলো অত্যন্ত লঘু মাত্রায় ব্যবহৃত হয়, যা কখনোই কোনো বিষাক্ত প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে না। এই ওষুধগুলো দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবহার করলেও কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায় না।

    চোখ শুষ্কতা কী?
    বয়স্ক ব্যক্তি এবং ভিটামিন এ-এর অভাবযুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে শুষ্ক চোখ সাধারণত বেশি দেখা যায়। শুষ্ক বাতাসের সংস্পর্শ, কন্টাক্ট লেন্স ব্যবহার, কম চোখ পলক ফেলা বা অতিরিক্ত সময় ধরে কম্পিউটারে কাজ করাও শুষ্ক চোখের কারণ বলে মনে করা হয়। অন্যান্য কারণগুলির মধ্যে রয়েছে হরমোনের পরিবর্তন, মেনোপজের সময়কাল, কিছু অটোইমিউন রোগ যেমন সজোগ্রেনস সিনড্রোম (যা শুষ্ক চোখ ও শুষ্ক মুখ দ্বারা চিহ্নিত), অ্যালার্জিক চোখের অবস্থা এবং চোখের পাতার প্রদাহ।

    শুষ্ক চোখের ৩ প্রকারভেদ:
    ১. জলীয় ঘাটতিজনিত শুষ্ক চোখ (Aqueous Deficient Dry Eye): এই অবস্থায়, ল্যাক্রিমাল গ্রন্থিগুলি সুস্থ চোখের জন্য প্রয়োজনীয় পর্যাপ্ত অশ্রু উৎপন্ন করতে পারে না। এটি খুব সাধারণ নয়।

    ২. বাষ্পীভবনজনিত শুষ্ক চোখ (Evaporative Dry Eye): এই ধরণের ক্ষেত্রে, পর্যাপ্ত পরিমাণে অশ্রু উৎপন্ন হলেও তা খুব দ্রুত বাষ্পীভূত হয়ে যায়। এটি মূলত মাইবোমিয়ান গ্রন্থির কর্মহীনতার কারণে ঘটে।

    ৩. মিশ্র শুষ্ক চোখ (Mixed Dry Eye): এটি জলীয় অশ্রুর ঘাটতির সাথে চোখের জলের ফিল্মের অস্থিরতার কারণে ঘটে।

    শুষ্ক চোখের লক্ষণ:
    শুষ্ক চোখের লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে চোখে ব্যথা, চুলকানি, চোখ লাল হয়ে যাওয়া এবং চোখে বালি পড়ার মতো অনুভূতি। এছাড়া আলোতে সংবেদনশীলতা, চোখে জ্বালাপোড়া, চোখে খোঁচা লাগার অনুভূতি এবং দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যাওয়াও কিছু লোকের ক্ষেত্রে দেখা যায়।

  • ‘এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স’র কারণে অনেক শিশু মারা যাচ্ছে

    ‘এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স’র কারণে অনেক শিশু মারা যাচ্ছে

    প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার বলেছেন, টাইফয়েড প্রতিরোধে সকলকে সতর্ক থাকতে হবে।

    আজ রোববার (১২ অক্টোবর) ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজে টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইন ২০২৫ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতাকালে তিনি এ কথা বলেন।

    তিনি বলেন, আমাদের দেশে টাইফয়েডের প্রকোপ বেশি এবং এর চিকিৎসাও ব্যয়বহুল। তাছাড়া ‌‘এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স’ বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক এন্টিবায়োটিকও কার্যকর হয় না। এর ফলে আমাদের দেশে প্রতিবছর অনেক শিশু মারা যায়। তাই আমাদেরকে খাদ্য গ্রহণে সতর্কতা, নিয়মিত হাত ধোয়া, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং টিকা গ্রহণে গুরুত্ব দিতে হবে।

    উপদেষ্টা আরও বলেন, টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইনের ব্যাপক প্রচার করতে হবে, যাতে অন্যান্য শিশুরাও টিকা গ্রহণে আগ্রহী হয়।

    ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাবের হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. সাইদুর রহমান, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার টিম লিড সুধীর যোশী, ইউনিসেফ, বাংলাদেশের চিফ অফ হেলথ চন্দ্রশেখর সোলায়মান বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন।

    এরপর তিনি লেক সার্কাস উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় টিকা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন।

    এক মাসব্যাপী এই কর্মসূচিতে ৯ মাস থেকে ১৫ বছরের কম বয়সি সব শিশু এবং প্রাক-প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণি/সমমান সব শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে ১ ডোজ টাইফয়েড টিকা দেওয়া হবে।

  • অটিজম নিরাময়ের ১০ সূত্র

    অটিজম নিরাময়ের ১০ সূত্র

    অটিজম নিরাময় বা উন্নতির জন্য বিশেষজ্ঞরা দশটি সোনালী সূত্রের ওপর জোর দিয়েছেন, যা মূলত অভিভাবক ও পরিচর্যাকারীদের জন্য একটি নির্দেশিকা। এই সূত্রগুলো শুধু চিকিৎসা বা থেরাপির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং সন্তানের প্রতি আশাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি, প্রাথমিক গ্রহণ (acceptance) এবং আনন্দের মাধ্যমে নিরন্তর সংযোগ বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেয়।

    প্রথম তিনটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি
    ১. আশা রাখুন: অটিজম নিরাময়ের পথে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রথম সূত্রটি হলো প্রচুর আশা রাখা। সম্প্রতি গবেষণায় অটিজম থেকে আরোগ্যের ঘটনা নিশ্চিত হওয়ায়, কোনো চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পক্ষ থেকে ‘অটিজম নিরাময়যোগ্য নয়’—এমন কথা বলে অভিভাবকদের নিরুৎসাহিত করা অনুচিত। এই আশাই বাবা-মাকে চিকিৎসার বিভিন্ন পদ্ধতি এবং থেরাপি চালিয়ে যেতে উৎসাহিত করে।

    ২. রোগ নির্ণয় দ্রুত গ্রহণ করুন: দ্বিতীয় সূত্রটি হলো রোগ নির্ণয়কে দ্রুততার সাথে গ্রহণ করা। যত দ্রুত এই সমস্যাকে মেনে নেওয়া যায়, তত দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব, যা আরোগ্যের সম্ভাবনাকে সরাসরি বাড়িয়ে তোলে। এমনকি মৃদু অটিজমের ক্ষেত্রেও সময় নষ্ট না করে চিকিৎসা শুরু করা অপরিহার্য, কারণ এটি নিজে থেকে সেরে ওঠে না।

    ৩. হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শুরু করুন: তৃতীয় সোনালী সূত্রটি হলো হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শুরু করা। যদিও সব ক্ষেত্রে এটি কার্যকর নাও হতে পারে, তবে যে-সব শিশু এতে সাড়া দেয়, তাদের জন্য এটি জীবন পরিবর্তনকারী হতে পারে। আরোগ্যের সম্ভাবনা অনেকাংশে নির্ভর করে শিশুর বয়সের ওপর—২-৩ বছর বয়সে চিকিৎসা শুরু করলে সাফল্যের হার বেশি থাকে। তবে বিশেষজ্ঞ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজ থেকে ওষুধ ব্যবহার করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

    সারাদিন নিরন্তর সংযোগ ও থেরাপির গুরুত্ব
    ৪. সংযুক্ত রাখুন, সংযুক্ত রাখুন, সংযুক্ত রাখুন: চতুর্থ সূত্র হলো শিশুকে সারাদিন নিরন্তর সংযোগের মধ্যে রাখা। শিশুর সঙ্গে শুধু উপস্থিত থাকাই যথেষ্ট নয়, বরং সক্রিয়ভাবে তার সঙ্গে যুক্ত থাকতে হবে। শিশুকে একা ছেড়ে দিলে সে তার নিজস্ব জগতে হারিয়ে যেতে পারে।

    ৫. থেরাপি কোনো রকেট বিজ্ঞান নয়: থেরাপি বা চিকিৎসার পঞ্চম সূত্রটি হলো এর সরলতা অনুধাবন করা। থেরাপির উদ্দেশ্য হলো শিশুকে তার চারপাশের পরিবেশের সঙ্গে যুক্ত রাখা এবং আনন্দময় খেলার মাধ্যমে এই কাজ করা। ব্যয়বহুল বা জটিল থেরাপির চেয়ে সহজ, মজাদার এবং সক্রিয় অংশগ্রহণমূলক কার্যকলাপ অনেক বেশি কার্যকর। শিশুকে সরাসরি শেখানো বা পড়ানো এড়িয়ে যেতে হবে, কারণ শেখার ৯০-৯৫ শতাংশই ঘটে পরিবেশের সাথে সংযুক্ত থাকার মাধ্যমে নিষ্ক্রিয়ভাবে (passively)।

    ৬. সংযোগ ও আনন্দ একসাথে: ষষ্ঠ সূত্রটি হলো শিশুকে আনন্দের মাধ্যমে সংযুক্ত রাখা। সংযোগ স্থাপনের সময় শিশুটিকে অবশ্যই খুশি থাকতে হবে, কোনোভাবেই বিরক্ত, হতাশ বা রাগান্বিত করা যাবে না। তার ক্ষমতা বা ধৈর্যের সীমা অতিক্রম করে তাকে সংযুক্ত রাখার চেষ্টা এড়িয়ে চলতে হবে—এতে রাগ, বিরক্তি এবং ট্যানট্রামস (আচরণগত সমস্যা) তৈরি হওয়া রোধ করা যায়।

    ৭. নেতিবাচক প্রভাব এড়িয়ে চলুন: সপ্তম সূত্রটি হলো ‘নেতিবাচক প্রভাব’ (Negating Effect) এড়ানো। দিনের মাত্র এক-দু’ঘণ্টা থেরাপি দিয়ে বাকি সময় শিশুকে একা ছেড়ে দিলে থেরাপির ইতিবাচক ফল নষ্ট হয়ে যেতে পারে। কষ্টসাধ্য হলেও, শিশুকে সারাদিন সংযুক্ত রাখার চেষ্টা করতে হবে, যাতে সে তার নিজস্ব মানসিক জগতে ফিরে যেতে না পারে।

    আবেগ নিয়ন্ত্রণ, খাদ্য ও পরিবেশ
    ৮. শিশুর আবেগ বুঝুন: অষ্টম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূত্রটি হলো শিশুর আবেগ ও অনুভূতিগুলো বোঝা। কান্না, রাগ বা অস্থিরতার মতো নেতিবাচক আবেগগুলো শিশুকে তার খোলসের মধ্যে ঢুকিয়ে দেয় এবং তার অগ্রগতিতে বাধা সৃষ্টি করে। শিশু যদি কোনো নেতিবাচক আবেগ দেখায়, তবে বুঝতে হবে কোনো কিছু তাকে কষ্ট দিচ্ছে। সেই কারণ খুঁজে বের করে দ্রুত তা দূর করতে হবে।

    ৯. শর্করা (চিনি) নিয়ন্ত্রণ করুন: নবম সূত্রটি হলো শিশুর শর্করার (চিনি) পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা। চিনি গ্রহণে শিশুর অতিরিক্ত হাইপার-অ্যাকটিভিটি (অতিসক্রিয়তা) বেড়ে যেতে পারে, যা তার মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটায় এবং থেরাপির কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়।

    ১০. বাড়িকে থেরাপি সেন্টার বানান: দশম সূত্রটি হলো নিজস্ব বাড়িকে থেরাপি সেন্টারে রূপান্তরিত করা। নিয়মিত স্কুলে শিশুকে পাঠালে দিনের অনেকটা মূল্যবান সময় নষ্ট হয় (স্কুলে যাওয়া-আসা এবং প্রস্তুতির কারণে প্রায় ৮০% সময়)। যদি কোনো স্কুলে এক-থেকে-এক ভিত্তিতে সক্রিয় থেরাপি (যেমন: ABA) এবং সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা না যায়, তবে সাধারণ স্কুল এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ। এমনকি থেরাপি সেন্টারে যাওয়ার যাতায়াত সময় বেশি হলে বাড়িতেই মজাদার খেলার মাধ্যমে শিশুকে নিরন্তর সংযুক্ত রাখা শ্রেয়।

  • প্রস্রাবে রক্তক্ষরণ বা হেমাটুরিয়ার কারণ, চিকিৎসা কী?

    প্রস্রাবে রক্তক্ষরণ বা হেমাটুরিয়ার কারণ, চিকিৎসা কী?

    প্রস্রাবের সাথে রক্ত যাওয়া বা হেমাটুরিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক লক্ষণ, যা যেকোনো বয়সের মানুষের হতে পারে। হেমাটুরিয়ার কারণে প্রস্রাবের রং ধোঁয়াটে, গোলাপি, হালকা লাল, গাঢ় লাল বা বাদামি দেখায়। মূত্রতন্ত্রের কিডনি, ইউরেটার, মূত্রথলি বা ইউরেথ্রা—এই অংশগুলোর যেকোনো একটিতে সমস্যার কারণে প্রস্রাবে রক্ত আসতে পারে।

    হেমাটুরিয়ার সম্ভাব্য কারণসমূহ
    প্রস্রাবে রক্ত আসার পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। সঠিক চিকিৎসা শুরু করার জন্য এই কারণগুলো চিহ্নিত করা অত্যন্ত জরুরি। প্রধান কারণগুলো হলো:

    সংক্রমণ: মূত্রতন্ত্রের সংক্রমণ (UTI), সিস্টাইটিস (মূত্রথলির প্রদাহ), বা পাইলোনেফ্রাইটিস (কিডনি সংক্রমণ)।

    কিডনির রোগ: গ্লোমেরুলোনেফ্রাইটিস বা কিডনিতে পাথর (Renal Calculus)।

    প্রস্টেটজনিত সমস্যা: প্রস্টেটের প্রদাহ (Prostatitis) বা প্রস্টেট গ্রন্থির বৃদ্ধি।

    আঘাত ও অস্ত্রোপচার: মূত্রতন্ত্রে কোনো আঘাত লাগা বা শল্যচিকিৎসার যন্ত্রপাতি ব্যবহারের কারণে।

    অন্যান্য কারণ: কিছু নির্দিষ্ট ওষুধ সেবন, অতিরিক্ত কঠোর ব্যায়াম এবং মূত্রতন্ত্রের ক্যান্সার।

    হেমাটুরিয়ার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা
    হোমিওপ্যাথি শাস্ত্রে হেমাটুরিয়ার চিকিৎসার জন্য অনেক কার্যকর ওষুধ রয়েছে। তবে, প্রতিটি ক্ষেত্রেই রোগের মূল কারণ এবং রোগীর সার্বিক লক্ষণের ওপর ভিত্তি করে ওষুধ নির্বাচন করা হয়। এর লক্ষ্য হলো কেবল লক্ষণ দমন না করে, রোগের মূল কারণ দূর করে সম্পূর্ণ আরোগ্য নিশ্চিত করা।

  • চিকিৎসকের অস্পষ্ট হাতের লেখা নিয়ে যে বার্তা দিল আদালত

    চিকিৎসকের অস্পষ্ট হাতের লেখা নিয়ে যে বার্তা দিল আদালত

    প্রযুক্তির এই যুগে যখন সবাই কীবোর্ডে অভ্যস্ত, তখন একজন চিকিৎসকের হাতে লেখা প্রেসক্রিপশন বা রিপোর্টের অস্পষ্টতা ডেকে আনছে জীবনের ঝুঁকি। এই গুরুতর পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবার কঠোর পদক্ষেপ নিল ভারতের বিচার ব্যবস্থা।

    পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্ট সম্প্রতি ঐতিহাসিক এক রায়ে ঘোষণা করেছে, ‘স্পষ্ট চিকিৎসাপত্র (legible medical prescription) পাওয়া রোগীর একটি মৌলিক অধিকার।’

    আদালতের মতে, অস্পষ্ট লেখা জীবন ও মৃত্যুর মধ্যে পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।

    এই আদেশের সূচনা হয় একটি ধর্ষণ ও প্রতারণার মামলার শুনানির সময়। বিচারপতি জসগুরপ্রীত সিং পুরি অভিযোগকারী নারীর একটি ‘মেডিকো-লিগ্যাল রিপোর্ট’ দেখে বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ হন। রিপোর্টটি এতটাই দুর্বোধ্য ছিল যে, তিনি তার রায়ে লেখেন, ‘একটি শব্দ বা অক্ষরও পাঠযোগ্য ছিল না,’ যা আদালতের বিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছে।

    বিচারপতি পুরি তার পর্যবেক্ষণে আধুনিক প্রযুক্তির সহজলভ্যতা সত্ত্বেও সরকারি চিকিৎসকদের হাতে লেখা দুর্বোধ্য প্রেসক্রিপশনকে ‘চমকে যাওয়ার মতো’ বলে উল্লেখ করেন। এই গুরুতর সমস্যার সমাধানে তিনি একগুচ্ছ নির্দেশ জারি করেছেন:

    ১. তাৎক্ষণিক নির্দেশ: ডিজিটাল ব্যবস্থা পুরোপুরি চালু না হওয়া পর্যন্ত সকল চিকিৎসককে অবশ্যই বড় হাতের অক্ষরে (Capital Letters) স্পষ্টভাবে প্রেসক্রিপশন লিখতে হবে।
    ২. পাঠ্যসূচিতে পরিবর্তন: কেন্দ্রীয় সরকারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, মেডিকেল কলেজের পাঠ্যক্রমে হস্তলিপি শেখার ক্লাস অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
    ৩. ডিজিটালের সময়সীমা: দেশজুড়ে ডিজিটাল প্রেসক্রিপশন চালু করার জন্য দুই বছরের একটি কঠোর সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

    চিকিৎসকদের হাতের লেখা নিয়ে মজা প্রচলিত থাকলেও, এর বাস্তব ফল মারাত্মক হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি অস্পষ্ট প্রেসক্রিপশন ভুল ব্যাখ্যার সুযোগ তৈরি করে, যার পরিণতি হয় মর্মান্তিক।

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি পুরোনো রিপোর্ট অনুযায়ী, শুধু অস্পষ্ট লেখার কারণেই সেখানে বছরে আনুমানিক ৭ হাজার প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যু ঘটেছিল। ভারতেও একাধিকবার ভুল ওষুধ সেবনের কারণে স্বাস্থ্য সঙ্কট এবং মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

    তেলেঙ্গানার ফার্মাসিস্ট চিলুকুরি পরমাত্মা যিনি এ নিয়ে জনস্বার্থ মামলাও করেছিলেন, তিনি জানান, এক দশক আগে মেডিকেল কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া (MCI) স্পষ্টভাবে লেখার নির্দেশ দিলেও, এখনও তাদের দোকানে দুর্বোধ্য প্রেসক্রিপশন আসে। কলকাতার নামকরা ফার্মেসি ‘ধনবান্তরী’-এর প্রধান নির্বাহীও একই কথা জানান; তারা কর্মীদের অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করে অনেক সময় চিকিৎসকদের ফোন করে প্রেসক্রিপশন নিশ্চিত করেন, কারণ সঠিক ওষুধ দেওয়া রোগীর জীবন রক্ষার জন্য অত্যন্ত জরুরি।

    ভারতের ৩ লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি সদস্যের প্রতিনিধিত্বকারী ইন্ডিয়ান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (IMA)-এর সভাপতি ডা. দিলীপ ভানুশালী আদালতের আদেশে সমাধানের পথে সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি স্বীকার করেন, বড় শহরগুলিতে ডিজিটাল প্রেসক্রিপশন শুরু হলেও, গ্রামীণ ও ছোট শহরগুলিতে এখনও হাতে লেখাই চলে। এর প্রধান কারণ হিসেবে তিনি ভিড় এবং অতিরিক্ত কাজের চাপকে দায়ী করেন। তার মতে, একজন চিকিৎসক দিনে ৭০ জন রোগী দেখলে হাতে স্পষ্ট লেখা বজায় রাখা কার্যত অসম্ভব।

    তবে আদালত স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে—এই ধরনের যুক্তি গ্রাহ্য হবে না। রোগীকে স্পষ্ট প্রেসক্রিপশন দেওয়া এখন থেকে আইনি বাধ্যবাধকতা। সূত্র—বিবিসি

  • ডায়াবেটিক ফুট আলসার: কারণ, ঝুঁকি ও প্রতিকার

    ডায়াবেটিক ফুট আলসার: কারণ, ঝুঁকি ও প্রতিকার

    ডায়াবেটিস শরীরে শুধু রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দেয় না, বরং এর কারণে দেখা দিতে পারে নানা ধরনের চর্মরোগ। এদের মধ্যে অন্যতম এবং গুরুতর একটি সমস্যা হলো ডায়াবেটিক ফুট আলসার, যা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তির পায়ে তৈরি হওয়া একটি খোলা ঘা বা ক্ষত। সময়মতো এবং সঠিক চিকিৎসা না হলে এটি মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে, এমনকি অঙ্গচ্ছেদের (amputation) ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে।

    আলসার সৃষ্টির প্রধান কারণ
    ডায়াবেটিক ফুট আলসার সৃষ্টির মূলে কাজ করে মূলত তিনটি প্রধান কারণ:

    ১. পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথি (Peripheral Neuropathy):
    ডায়াবেটিস পায়ের স্নায়ুকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, যাকে পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথি বলা হয়। এর ফলে পায়ে ব্যথার অনুভূতি কমে যায় বা সম্পূর্ণ লোপ পায়। একজন ডায়াবেটিক রোগী হয়তো পায়ে কোনো ধারালো বস্তুর আঘাত বা জুতার ঘষা অনুভব করতে পারেন না। ফলে ছোট আঘাতও নজরের বাইরে থেকে যায় এবং আলসারে পরিণত হওয়ার সুযোগ পায়। এর পাশাপাশি, এই রোগীদের ক্ষত নিরাময় প্রক্রিয়াও বিলম্বিত হয়।

    ২. শুষ্ক ত্বক ও ক্যালাস (Callus) গঠন:
    ডায়াবেটিসের কারণে ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়, যা পায়ে ক্যালাস (ত্বকের পুরু, শক্ত অঞ্চল) গঠনে সহায়তা করে। বারবার ঘষা লাগার ফলে এই ক্যালাস যখন উঠে যায় বা ফেটে যায়, তখন তা আলসারে রূপ নিতে পারে।

    ৩. রক্তনালীর ক্ষতি (Decreased Blood Flow):
    ডায়াবেটিস রক্তনালীকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে, যার ফলে পায়ের নিচের অংশে রক্ত ​​চলাচল কমে যায়। রক্তপ্রবাহ হ্রাস পাওয়ায় ক্ষতস্থানে সংক্রমণ হওয়ার এবং তা ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।

    ফুট আলসারের লক্ষণসমূহ
    ডায়াবেটিক ফুট আলসার দেখা দিলে সাধারণত যেসব লক্ষণ প্রকাশ পায়:

    ক্ষতস্থান থেকে তরল নিঃসরণ (drainage)।

    পায়ের আক্রান্ত স্থানে লালচে ভাব এবং ফোলা।

    ক্ষতস্থান থেকে দুর্গন্ধ নির্গত হওয়া।

    পায়ে ব্যথা বা অবসন্নতা (numbness) অনুভব করা।

    গুরুতর ক্ষেত্রে, রক্ত সরবরাহের অভাবে আলসারের চারপাশে কালো অঞ্চল তৈরি হওয়া।

    আক্রান্ত স্থানে কোষের মৃত্যু অর্থাৎ গ্যাংগ্রিন (gangrene) দেখা দেওয়া।

    ঝুঁকি সৃষ্টিকারী কারণ এবং জটিলতা
    ডায়াবেটিক ফুট আলসারের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে কিছু বিষয়, যেমন—

    ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা: রক্তে শর্করার মাত্রা অনিয়ন্ত্রিত থাকলে।

    পায়ের বিকৃতি: পায়ে এমন কোনো গঠনগত সমস্যা, যা পায়ের নির্দিষ্ট অংশে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে।

    ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার অভাব: পায়ের সঠিক যত্ন না নেওয়া।

    ত্রুটিপূর্ণ জুতা ব্যবহার: বেমানান বা আঁটসাঁট জুতা পরা।

    তামাক সেবন এবং স্থূলতা (obesity)।

    আলসারের জটিলতার মধ্যে রয়েছে: সংক্রমণ, গ্যাংগ্রিন, সেলুলাইটিস (ত্বকের গভীর স্তরে ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ) এবং অস্টিওমাইলাইটিস (হাড়ের গুরুতর সংক্রমণ)। সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে এই জটিলতাগুলো অঙ্গচ্ছেদের দিকে নিয়ে যেতে পারে।

    প্রতিরোধ ও হোমিওপ্যাথিক ব্যবস্থাপনা
    প্রতিরোধের উপায়
    ডায়াবেটিক ফুট আলসার প্রতিরোধে নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলি অত্যন্ত জরুরি:

    রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ: ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

    পায়ের সঠিক স্বাস্থ্যবিধি: নিয়মিত পা পরিষ্কার ও শুকনো রাখা।

    উপযুক্ত জুতা পরিধান: আরামদায়ক এবং সঠিকভাবে ফিট হওয়া জুতা ব্যবহার করা।

    নিয়মিত মোজা পরিবর্তন: পরিষ্কার মোজা পরিধান করা।

    সঠিকভাবে নখ কাটা: নখ কোণাকুণি না কেটে সোজা করে কাটা।

    ধূমপান ত্যাগ: তামাক সেবনের অভ্যাস থাকলে তা পরিহার করা।

    হোমিওপ্যাথিক ব্যবস্থাপনা
    হোমিওপ্যাথিক ওষুধ ডায়াবেটিক ফুট আলসারের চিকিৎসায় সহায়ক হতে পারে। এই চিকিৎসা পদ্ধতি আলসারের নিরাময়ে সাহায্য করার পাশাপাশি এর সাথে সম্পর্কিত লক্ষণ যেমন—লালচে ভাব, নিঃসরণ, দুর্গন্ধ, চুলকানি ও জ্বালাপোড়া কমাতেও সহায়ক। এগুলো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন প্রাকৃতিক ওষুধ হিসেবে পরিচিত।

    তবে মনে রাখা জরুরি:

    হোমিওপ্যাথিতে ডায়াবেটিক ফুট আলসারের জন্য কোনো নির্দিষ্ট ওষুধ নেই। রোগীর সামগ্রিক লক্ষণ এবং অবস্থা বিবেচনা করে উপযুক্ত ওষুধ নির্বাচন করা হয়।

    হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা কেবলমাত্র আলসারের মৃদু ক্ষেত্রে নির্দেশিত।

    গুরুতর বা জটিল ক্ষেত্রে অবিলম্বে প্রচলিত আধুনিক চিকিৎসার সাহায্য নেওয়া উচিত, কারণ এসব ক্ষেত্রে হোমিওপ্যাথি কোনো সাহায্য করতে পারে না এবং বিলম্বে পরিস্থিতি মারাত্মক হতে পারে।

    যেকোনো হোমিওপ্যাথিক ওষুধ ব্যবহারের আগে অবশ্যই একজন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া বাঞ্ছনীয়। কোনো অবস্থাতেই স্ব-চিকিৎসা করা উচিত নয়।

  • জন্মনিয়ন্ত্রণ: পুরুষের অনাগ্রহ, সব ভার নারীর কাঁধে

    জন্মনিয়ন্ত্রণ: পুরুষের অনাগ্রহ, সব ভার নারীর কাঁধে

    পরিবার পরিকল্পনায় বাংলাদেশে নারীর অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়লেও এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে পুরুষদের অংশগ্রহণ এখনো হতাশাজনক। গত ৫০ বছরে পুরুষের জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির ব্যবহার মাত্র ৮ শতাংশ বেড়ে ৯ শতাংশে পৌঁছেছে, যার প্রায় পুরোটাই কনডম-নির্ভর। এর বিপরীতে, এখনো ৯১ শতাংশ পুরুষ কোনো ধরনের পদ্ধতি ব্যবহার করেন না।

    এমন প্রেক্ষাপটে আজ ২৬ সেপ্টেম্বর দেশে পালিত হচ্ছে বিশ্ব জন্মনিরোধ দিবস, যার স্লোগান—‘পরিকল্পিত পরিবার, সুস্থ সমাজ’। সরকারি তথ্যে দেখা যায়, ১৯৭৫ সালে যেখানে মাত্র ৮ শতাংশ দম্পতি পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি গ্রহণ করতেন, বর্তমানে সেই হার বেড়ে হয়েছে ৬৪ শতাংশ। তবে এই সাফল্যের সিংহভাগ কৃতিত্ব নারীর।

    পুরুষের অংশগ্রহণ: ৫০ বছরে মাত্র ১ শতাংশ স্থায়ী পদ্ধতি
    বাংলাদেশ জনমিতি ও স্বাস্থ্য জরিপ (বিডিএইচএস) অনুযায়ী, ১৯৭৫ সালে মাত্র ০.৭ শতাংশ পুরুষ কনডম ব্যবহার করতেন। সর্বশেষ ২০২২-২৩ সালের জরিপে পুরুষের জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির ব্যবহার ৯ শতাংশে পৌঁছেছে। এর মধ্যে ৭ শতাংশ কনডম এবং মাত্র ২ শতাংশ পুরুষ স্থায়ী পদ্ধতি এনএসভি (ছুরিবিহীন ভ্যাসেকটমি) ব্যবহার করেন। অর্থাৎ, ৫০ বছরে পুরুষদের মধ্যে স্থায়ী পদ্ধতি ব্যবহারের হার বেড়েছে মাত্র ১ শতাংশ।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুরুষদের মধ্যে জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি নিয়ে এখনো ব্যাপক ভুল ধারণা রয়েছে। কনডম ও এনএসভি-এর কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া না থাকা সত্ত্বেও অনেক পুরুষ মনে করেন, এতে শারীরিক ক্ষমতা হ্রাস বা স্বাস্থ্যহানি হয়।

    নারীর অভিজ্ঞতা: ঝুঁকি নিয়ে একার লড়াই
    কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার মরিয়ম আক্তার (২৬) এবং অন্যান্য প্রত্যন্ত অঞ্চলের নারীদের অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, গর্ভনিরোধ ব্যবস্থায় নারীর একক দায়ভার এখনো দেশের বাস্তবতা। মরিয়ম আক্তার জানান, ১৬ বছর বয়সে বিয়ে এবং প্রথম সন্তানের পর খুব দ্রুতই আবার গর্ভবতী হন, যা গর্ভপাত হয়। এরপর স্বামীর সহযোগিতা না পাওয়ায় তিনি একাই ঝুঁকি নিয়ে ইনজেকশন ও পিল গ্রহণ করেছেন। তাঁর ভাষায়, হাসপাতালে যেতে চেয়েছিলাম, স্বামী যেতে দেননি। নিজের তাগিদে ইনজেকশন নিয়েছি, পিল খেয়েছি।

    একই চিত্র দেখা যায় কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর গ্রামের লাকি রানী (৩৩) ও বিলকিস বেগমের (৩৭) ক্ষেত্রেও। পিল খাওয়ায় অনিয়ম এবং সরবরাহ না থাকার কারণে তাঁরা দুজনেই অনিচ্ছাকৃতভাবে গর্ভধারণ করেন, যার ফলস্বরূপ একজন গর্ভপাতের শিকার হন। এটি প্রমাণ করে, পদ্ধতি গ্রহণের একক দায়িত্ব নারীর কাঁধে থাকায় তা প্রায়শই ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।

    পদ্ধতি ব্যবহারে বড়ির প্রাধান্য, পুরুষের বন্ধ্যকরণ মাত্র ১ শতাংশ
    বিডিএইচএস ২০২২-২৩ সালের গবেষণা অনুযায়ী, জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির মধ্যে খাওয়ার বড়ির ব্যবহার সবচেয়ে বেশি (২৭ শতাংশ)। এরপর রয়েছে ইনজেকশন (১১ শতাংশ), কনডম (৮ শতাংশ) এবং নারী বন্ধ্যাকরণ (৫ শতাংশ)। এর বিপরীতে পুরুষ বন্ধ্যাকরণ মাত্র ১ শতাংশে সীমাবদ্ধ।

    মেরী স্টোপস বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর কিশওয়ার ইমদাদ জোর দিয়ে বলেন, জন্ম নিয়ন্ত্রণ কেবল একটি স্বাস্থ্যগত বিষয় নয়, এটি নারীর অধিকার, মর্যাদা ও ভবিষ্যৎ গঠনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। তিনি জানান, প্রায় ১০ শতাংশ প্রজনন বয়সী দম্পতির মধ্যে এখনো অপূর্ণ চাহিদা বিদ্যমান, অর্থাৎ তাঁরা সন্তান না চাইলেও পদ্ধতি ব্যবহার করছেন না।

    মেরী স্টোপস বাংলাদেশের পার্টনারশিপ অ্যান্ড ফান্ডরাইজিং প্রধান মনজুন নাহার মনে করেন, বাঙালি সমাজে জন্ম নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব এখনো অনেকাংশে নারীর কাঁধে। তিনি বলেন, জন্ম নিয়ন্ত্রণ একটি যৌথ দায়িত্ব, যা স্বামী-স্ত্রী দুজনের সম্মিলিত অংশগ্রহণ ছাড়া টেকসই হতে পারে না।

    তরুণ প্রজন্ম ও ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ততার আহ্বান
    পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের ক্লিনিক্যাল কন্ট্রাসেপশন সার্ভিসেস ডেলিভারি প্রোগ্রামের (সিসিএসডিপি) লাইন ডিরেক্টর ডা. রফিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম এগোলেও তরুণ প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করা জরুরি। সঠিক তথ্য ও পরামর্শের অভাবে অনিচ্ছাকৃত গর্ভধারণ বাড়ছে, যা মাতৃস্বাস্থ্যের ঝুঁকি তৈরি করছে।

    ডা. তালুকদারের মতে, এক্ষেত্রে স্থানীয় ধর্মীয় নেতা, সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং সেবাগ্রহীতা পরিবারগুলোকে সচেতনতার কাজে যুক্ত করতে হবে। তিনি আরও বলেন, নারী যখন স্থায়ী পদ্ধতি গ্রহণ করেন, তখন পেট কেটে অস্ত্রোপচার করতে হয়। অন্যদিকে, পুরুষের স্থায়ী পদ্ধতি এনএসভি গ্রহণ অনেক সহজ। পুরুষত্ব হারানোর ভ্রান্ত ধারণার কোনো ভিত্তি নেই। এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে পারলে জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির কার্যকারিতা ও সমাজের স্বাস্থ্য নিশ্চিত করা সম্ভব।