গলব্লাডারের আর মূত্রতন্ত্রের বিভিন্ন অংশে (যেমন- কিডনি, ব্লাডার, ইউরেটার ইত্যাদি) স্টোন সবচেয়ে বেশী হয়। এগুলো ছাড়াও কিন্তু শরীরের অন্যান্য নালী বা গ্রন্থিতেও বিশেষতঃ লালাগ্রন্থী, প্যাংক্রিয়াসে স্টোন হতে পারে।
পাথর সৃষ্টির কেন ?
শরীরের বিভিন্ন স্থানে স্টোন হওয়ার কারণও বিভিন্ন। যেমন—
গলস্টোন: গলব্লাডারের মধ্যে থাকে পিত্তরস বা বাইল। লিভারে তৈরি হয়ে বাইল পিত্তথলিতে জমা হয়ে ঘনীভূত হয়। গলব্লাডার মাঝে মাঝে সংকুচিত হয়ে এই ঘনীভূত বাইলকে বাইল ডাক্টের মাধ্যমে অস্ত্রে বার করে দেয়। বাইল ফ্যাট জাতীয় খাদ্য হজমে সাহায্য করে। বাইলের মূল উপাদান তিনটি—কোলেস্টেরল, বাইল পিগমেন্ট ও বাইল সল্ট। কোনো কারণে এই কোলেস্টরল ও বাইল সল্টের অনুপাতের হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটলে কোলেস্টরল থিতিয়ে পড়ে জমতে জমতে পাথর সৃষ্টি হয়। একে ‘লিথোজেনিক বাইল’বলে।
গলব্লাডারের পাম্প করার ক্ষমতা হ্রাস পেলে বা অতিরিক্ত গর্ভনিরোধক বড়ি খেলেও একই ঘটনা ঘটতে পারে। এগুলোকে কোলেস্টেরল স্টোন বলে।
আবার হিমোলাইটিক অ্যানিমিয়া রোগে রক্তকণিকার বিভাজন বেশি হলে বাইল পিগমেন্টের মাত্রা বেড়ে গিয়ে পিগমেন্ট স্টোন তৈরি হয়। এটিও এক ধরণের গলস্টোন।
কিডনি স্টোন: কিডনির ভেতর যে তরল পরিশ্রুত হয়, তাতে ক্যালসিয়াম অক্সালেট, ইউরিক অ্যাসিড, ফসফেট ইত্যাদি খনিজ পদার্থ থাকে। জল কম খেলে বা শরীরে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেশি থাকলে এই খনিজ লবনগুলো ঘনীভূত হয়ে স্টোন সৃষ্টি করে। আবার প্যারাথাইরয়েড হরমোনের গন্ডগোল থাকলে ক্যালসিয়াম মেটাবলিজম বিঘ্নিত হয়ে স্টোন ফর্মেশন হয়। বারবার কিডনিতে পাথর হলে বা বাচ্চাদের কিডনিতে পাথর দেখা গেলে এই কারণটির দিকে লক্ষ্য রেখে ওষুধ দিতে হবে। না হলে অনর্থক অপারেশন করে হয়রান হতে হবে।
ব্লাডার স্টোন: ঘনঘন প্রস্রাবের ইনফেকশন, প্রস্টেটের বৃদ্ধি বা নার্ভের সমস্যার জন্য প্রস্রাব ঠিকমতো বার না হলে মিনারেল জমে ব্লাডারে পাথর তৈরি হয়। স্যালাইভারি স্টোন : এই স্টোন সাধারণত ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় তৈরি হয়। মুখের বা গলার ক্যানসারে রেডিয়েশন থেরাপির পর, কিছু অ্যালার্জি, এপিলেপ্সি বা সাইকিয়াট্রিক ওষুধ দীর্ঘদিন খেলে লালাগ্রন্থী থেকে লালারস ঠিকমতো বেরোতে না পেরে জমে গিয়ে স্টোন সৃষ্টি করে। তাই এক্ষেত্রে বারবার জল খেয়ে মুখ ভিজিয়ে রাখতে হবে।
প্যাংক্রিয়াস স্টোন : কোনো কারণে প্যাংক্রিয়াসের নালী ছোট হয়ে গেলে প্যাংক্রিয়াটিক এনজাইমগুলো জমে গিয়ে পাথরের আকার নেয়। প্যাংক্রিয়াসের টিউমার, গলস্টোন থেকে প্যাংক্রিয়াসের নালীর অবস্ট্রাকশন, মদ্যপান, গলব্লাডার বা প্যাংক্রিয়াসের প্রদাহ, রক্তে ক্যালসিয়ামের মাত্রা বৃদ্ধি ইত্যাদি কারণে এই জাতীয় স্টোন তৈরি হয়।
সাধারণ মানুষের মনে একটা প্রশ্ন প্রায়ই ঘোরাফেরা করে—গলস্টোন হলে হোমিওপ্যাথির মাধ্যমে তা কি ভালো করা সম্ভব? বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় মূল ধারায় চিকিৎসা পদ্ধতির পক্ষ থেকে একটা ধারণা প্রচার করা হয় যে হোমিওপ্যাথির মাধ্যমে স্টোনের চিকিৎসা অবাস্তব এবং সঙ্গে সঙ্গে সার্জারি না করালে অবহেলার কারণে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। এই গোয়েবলসীয় প্রচারের ঢক্কানিনাদে জন্ম নেয় একটি অবৈজ্ঞানিক ধারণা—গলস্টোন হলেই বুঝি ক্যানসার অবশ্যম্ভাবী। কিন্তু কারোর গলস্টোন হলে সেখান থেকে ক্যানসারের সম্ভাবনা শতাংশের ভিত্তিতে কত, সাইলেন্ট বা উপসর্গহীন গলস্টোনের ক্ষেত্রে সার্জারির অথেন্টিক টেক্সট বইগুলোতে কী মতামত দেওয়া হয়েছে—এই অপ্রিয় বিষয়গুলো সযত্নে এড়িয়ে যাওয়া হয়।
আসলে সাধারণ মানুষকে মৃত্যুভয় দেখিয়ে চিকিৎসা- ব্যবসা করাটা খুব সহজ। একজন হোমিওপ্যাথ হিসাবে প্রথমেই একটা কথা স্পষ্ট করে দিতে চাই— হ্যাঁ, শরীরের যেকোন অংশে স্টোন হলে তা হোমিওপ্যাথির মাধ্যমে স্থায়ীভাবে নির্মূল করা সম্ভব।
অবশ্যই চিকিৎসকের ব্যক্তিগত ব্যর্থতা থাকতে পারে। স্টোনের আকার অত্যাধিক বড় হলে ওষুধের মাধ্যমে চিকিৎসা সম্ভব নাকি সার্জারি করাতে হবে—সেটা অবশ্যই চিকিৎসককে মাথায় রাখতে হবে। কিন্তু এটাও মনে রাখতে হবে যে, স্টোন মানেই সার্জারি নয়—হোমিওপ্যাথিক ওষুধের মাধ্যমে চিকিৎসাই হওয়া উচিত প্রথম স্বাভাবিক পছন্দ।
মাছে-ভাতে বাঙালি। মাছ খেতে অনেকের গলায় কাঁটা বিধে যায়। খেতে বসে গলায় মাছের কাঁটা ফোটেনি এমন বাঙালি খুঁজে পাওয়া মুশকিল। অনেকে এখনও আছেন মাছের কাঁটা ঠিকমতো বেছে খেতে পারেন না। খেতে বসে অনেক কথা বলেন। আবার খুব তাড়াহুড়ো করে খান।
ফলে অসাবধানে মাছের কাঁটা গলায় ফুটে যায়। আর তারপরই শুরু হয় যত বিপত্তি। গলায় মাছের কাঁটা বিঁধলে অসম্ভব অস্তস্তি শুরু হয়। তাই মাছের কাঁটা নামানোর সহজ উপায় হোমিওপ্যাথি ওষুধ। এক-দুবার খেলেই গলা থেকে কাঁটা নেমে যায়। এর চেয়ে সহজ উপায় চিকিৎসা জগতে আর হয় না। একে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার আশঙ্কাও নেই। তাই যে কেউ এ সমস্যায় পরুলে কল করুন। এছাড়াও ওষুধটি নিয়ে ঘরে রাখতে পারেন। প্রয়োজনে কাজে দেবে। এছাড়া গলার যে কোনো সমস্যায় পরামর্শ নিতে ফোন করুন- ০১৭১০০৫০২০০
অবস্থান অনুযায়ী পাইলস বিভিন্ন ধরনের হয়। যেমন- বাহ্যিক পাইলস, অভ্যন্তরীণ পাইলস, প্রসারিত বা প্রল্যাপ্সড পাইলস, ব্লাইন্ড পাইলস। পাইলসের লক্ষণ পাইলসের ধরনের ওপর নির্ভর করে।
১. বহিরাগত পাইলস মলদ্বারের চারপাশে ত্বকের পৃষ্ঠে দৃশ্যমান এবং বাইরে থেকে দেখা বা অনুভব করা যায়। বাহ্যিক পাইলসের প্রধান লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে মলদ্বারের চারপাশে বেদনাদায়ক ফোলাভাব এবং শক্ত পিণ্ড। এই হেমোরয়েডগুলো জ্বালা করে, কখনও কখনও চুলকায় বা রক্তপাত হয়।
২. অভ্যন্তরীণ পাইলস মলদ্বারের গভীরে থাকে এবং বাইরে অনুভব করা বা দেখা যায় না। এটি বেশিরভাগ বেদনাহীন। কারণ এই অঞ্চলে কোনো ব্যথা নেই যেখানে এটি প্রদর্শিত হতে থাকে। অভ্যন্তরীণ পাইলসের একমাত্র উপসর্গ হলো মলত্যাগের সময় রক্তপাত। যাইহোক, একটি অভ্যন্তরীণ হেমোরয়েড মলদ্বার দিয়ে প্রসারিত হতে পারে, যার ফলে জ্বালা এবং ব্যথা হতে পারে।
৩. প্রসারিত বা প্রল্যাপ্সড পাইলস হল এমন একটি অবস্থা যখন অর্শ মলদ্বারের দিকে ধাক্কা দেয় যখন মলত্যাগ করার জন্য বল প্রয়োগ করা হয়। তারা দেখতে গোলাপী, ত্বকের আর্দ্র প্যাডের মতো। মলদ্বারের অংশটি ব্যথা-সংবেদনশীল স্নায়ুর সাথে ঘন হওয়ার কারণে প্রল্যাপ্সড বা প্রসারিত হেমোরয়েডগুলো ব্যথা করে। হেমোরয়েডের সাধারণ লক্ষণ হলো শ্লেষ্মা নিঃসরণ, চুলকানি এবং ব্যথা।
৪. অন্ধ পাইলস বলতে রক্তপাতহীন অর্শ্বরোগ বোঝায়। মলত্যাগ করার পরে শনাক্ত করা যায় এমন প্রসারিত ভরের মতো অনুভব করে।
৫. মিশ্র/ইন্টারনো – বাহ্যিক পাইলস এমন একটি অবস্থাকে বোঝায় যেখানে একই সাথে অভ্যন্তরীণ এবং বাহ্যিক পাইলস।
৬. থ্রম্বোজড পাইলস বলতে বাহ্যিক অর্শ্বরোগকে বোঝায় যেখানে একটি রক্ত জমাট বাঁধে যা রক্ত প্রবাহকে বাধা দেয়। যার ফলে তীব্র ব্যথা সহ পায়ু টিস্যু ফুলে যায়।
পাইলসের কারণ ও লক্ষণ
প্রাথমিকভাবে, মলদ্বারে চাপ বৃদ্ধির কারণে পাইলসের মধ্যে ফোলা শিরা দেখা যায়। এটি মলদ্বারের দেয়ালকে সমর্থনকারী টিস্যুগুলির বিচ্ছিন্নতার কারণ হতে পারে। যার ফলে অর্শ্বরোগ হতে পারে। বিভিন্ন কারণ এই ধরনের চাপ সৃষ্টিতে অবদান রাখে যা এখানে গণনা করা হয়েছে:
১. অনিয়মিত মলত্যাগ (কোষ্ঠকাঠিন্য হলো পাইলসের প্রধান কারণ): কোষ্ঠকাঠিন্য, মল যাওয়ার জন্য চাপ, জোলাপ ওষুধের অতিরিক্ত ব্যবহার, টয়লেটে বেশি সময় কাটানোয় মলদ্বার এবং মলদ্বারে চাপ বাড়ায়, যার ফলে পাইলস হয়। অন্যদিকে, দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়ায় আক্রান্তদেরও কখনও কখনও পাইলস হতে পারে।
২. ডায়েট: ফাইবার-সমৃদ্ধ খাবারের অভাব, কম জল খাওয়া, অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণ এবং মশলাদার খাবার এবং জাঙ্ক ফুড খাওয়ায় পাইলস হয়।
৩. গর্ভাবস্থা: গর্ভাবস্থায় পেট এবং আশেপাশে চাপ বৃদ্ধি পায়, যা গর্ভাবস্থায় পাইলসের প্রধান কারণ। কিছু ক্ষেত্রে, মলদ্বার এবং মলদ্বারের ওপর অতিরিক্ত চাপের কারণে সন্তান প্রসবের ফলে অর্শ্বরোগ হয়।
৪. বয়স এবং বংশগতি: বয়স এবং বংশগতির মতো অন্যান্য কারণগুলোও মলদ্বার এবং মলদ্বারকে সমর্থনকারী টিস্যুগুলোর দুর্বলতার কারণে পাইলস হতে পারে।
৫. নিষ্ক্রিয় বসে থাকা জীবনধারা: শারীরিক কার্যকলাপ বা ব্যায়ামের অভাব সহ দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, এবং স্থূলতাও পাইলসের কারণ।
৬. পোর্টাল হাইপারটেনশন: পোর্টাল হাইপারটেনশন এমন একটি অবস্থাকে বোঝায় যেখানে পোর্টাল ভেনাস সিস্টেমের শিরাগুলির মধ্যে রক্তচাপ বৃদ্ধি পায়। প্লীহা, পাকস্থলী, অগ্ন্যাশয় এবং অন্ত্র থেকে আসা শিরাগুলি পোর্টাল শিরায় মিশে যায় যা লিভারের মধ্য দিয়ে যায়। কোনো জটিলতার ক্ষেত্রে যার কারণে লিভারের মাধ্যমে রক্ত সঠিকভাবে প্রবাহিত হতে পারে না। পোর্টাল সিস্টেমে উচ্চ চাপ তৈরি হয়। এই চাপ পেট, খাদ্যনালী এবং মলদ্বারে বড়, ফোলা শিরাগুলির বিকাশ ঘটাতে পারে। ফলস্বরূপ, পায়ু অঞ্চলে অর্শ্বরোগ হতে পারে।
অকাল দ্রুত বীর্যপাত, যা প্রিম্যাচুউর ইজেকুলেশন (Premature Ejaculation) নামে পরিচিত, অনেক পুরুষের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ যৌন সমস্যা। যৌন মিলনের সময় তিন মিনিটের মধ্যে বীর্যপাত হলে একে দ্রুত বীর্যপাত বলা হয়। এর পেছনে বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক কারণ থাকতে পারে। নিচে দ্রুত বীর্যপাতের প্রধান কারণগুলো সম্পর্কে আলোচনা করা হলো:
মনস্তাত্ত্বিক কারণ: উদ্বেগ, বিষণ্ণতা, এবং অতিরিক্ত মানসিক চাপ দ্রুত বীর্যপাতের সাধারণ কারণ হতে পারে। যৌন মিলনের সময় পারফর্মেন্স নিয়ে উদ্বেগ বা চাপ থাকলে পুরুষরা বীর্যপাতের সময় নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না।
হরমোনের ভারসাম্যহীনতা: টেস্টোস্টেরনের মতো হরমোনের ভারসাম্যহীনতা দ্রুত বীর্যপাতের জন্য দায়ী হতে পারে। শরীরে হরমোনের স্তর নিয়ন্ত্রণ না থাকলে যৌন উত্তেজনা দ্রুত বেড়ে যায়, যা দ্রুত বীর্যপাত ঘটাতে পারে।
স্নায়ুর সমস্যা: কিছু স্নায়ুবৈকল্য বা স্নায়ুর সমস্যার কারণে পুরুষরা যৌন উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হন। স্নায়ুর সংযোগে সমস্যা থাকলে বীর্যপাত সময়ের আগেই ঘটে যায়।
প্রস্টেট বা মূত্রাশয়ের সমস্যা: প্রস্টেট গ্রন্থির সংক্রমণ বা মূত্রাশয়ের সমস্যাগুলোও দ্রুত বীর্যপাতের কারণ হতে পারে। প্রস্টেট সমস্যাগুলো যৌন স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
জেনেটিক কারণ: কিছু পুরুষের দ্রুত বীর্যপাত জেনেটিক কারণে হতে পারে। পরিবারে অন্যান্য পুরুষ সদস্যদের এই সমস্যা থাকলে এটি বংশগতভাবে প্রভাবিত হতে পারে।
অপর্যাপ্ত যৌন অভিজ্ঞতা: যৌন অভিজ্ঞতার অভাব দ্রুত বীর্যপাতের অন্যতম কারণ। যৌন সম্পর্কের সময় উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে দ্রুত বীর্যপাত ঘটে যেতে পারে।
অতিরিক্ত হস্তমৈথুন: অত্যধিক হস্তমৈথুনের ফলে লিঙ্গের সংবেদনশীলতা বেড়ে যায়, যা দ্রুত বীর্যপাতের দিকে নিয়ে যেতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে এই অভ্যাস থাকলে যৌন সম্পর্কের সময়ও দ্রুত বীর্যপাতের সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
লিঙ্গের সংবেদনশীলতা: লিঙ্গের অতিরিক্ত সংবেদনশীল চামড়া দ্রুত উত্তেজনার কারণ হতে পারে, যা দ্রুত বীর্যপাত ঘটায়। এই সংবেদনশীলতা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হলে দ্রুত বীর্যপাতের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।
হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা
হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা দ্রুত বীর্যপাতের সমস্যার কার্যকর সমাধান প্রদান করতে পারে। হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা রোগীর শারীরিক ও মানসিক অবস্থা বিবেচনা করে প্রদান করা হয়, যা সমস্যার মূল কারণ দূর করতে সাহায্য করে।
অকাল বীর্যপাতের প্রধান কারণ এবং হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার কার্যকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন। সমস্যা সমাধানে যোগাযোগ করুন- ০১৭১০০৫০২০০
সামপ্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে যে, শতকরা ৯৫ জন পুরুষ এবং শতকরা ৮৯ জন নারী হস্তমৈথুন বা স্বমেহনে অভ্যস্ত। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় নারী এবং পুরুষ প্রথম যৌনমিলনের স্বাদ গ্রহণ করে স্বমেহনের মাধ্যমে। নিয়মিত যৌনসঙ্গীর অভাবে বহু পুরুষ এবং বহু নারী স্বমেহনে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। এটি খুবই সাধারণ যৌনতার আচরণ অনেক পুরুষ ও নারী ছোটবেলাতেই স্বমেহনে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। হয়তো তাদের মনের অজান্তেই তারা এই আনন্দটি উপভোগ করতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে।
হস্তমৈথুন কাকে বলে?
পুরূষের হস্তমৈথুনের সাধারন পদ্ধতি হল – লিঙ্গ হাতের মুঠোয় নিয়ে সামনে ও পিছনে সজোরে সন্চালন করা । ফলে হাতের আঙ্গুলের সাহায্যে লিঙ্গের মুন্ডে চাপ কমে ও বাড়ে ।
সেই সঙ্গে লিঙ্গকে মাঝখানে রেখে উরূদুটি সামনে ও পিছনে রগরানো । কখনো বালিশে, গোটানো বেডশিটে, তোশকে বা এ জাতীয় কোন বস্তুতে, তীব্র জলের ধারা দিয়েও হস্তমৈথুন
করে থাকে অনেকেই ।
হস্তমৈথুন শুধু কম বয়ষ্কদের জন্য নয়, এটি বিবাহ-পূর্ব জীবন পর্যন্ত সকল অবিবাহিত নারী পুরুষের জন্য একটি স্বাভাবিক যৌনাচার। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ৭০ থেকে ৯০ ভাগ নারী পুরুষ হস্তমৈথুন করে থকেন।
হস্তমৈথুন এমন একটি অভ্যাস যা একবার কাউকে পেয়ে বসলে ত্যাগ করা খুবই কষ্টকর হয়ে দাড়ায়। শুধু তাই না অভ্যাসটিই এক সময় অনেকের যৌন জীবন বিপর্যস্ত করে তুলে। যারা নিদারুন হস্তমৈথুন অভ্যাসে আসক্ত হয়ে পড়েছেন এবং ত্যাগ করার জন্য অপ্প্রান চেষ্টা করা সত্তেও ছাড়তে পারছেন না তাদের জন্য আমার আজকের লেখা।
অতিরিক্ত হস্তমৈথুনের পরিণাম
অনেকেই অতিরিক্ত হস্তমৈথুনের ফলে শক্তি হ্রাস সহ নানাবিদ শারীরিক সমস্যায় ভোগেন। তার মধ্যে উল্ল্যেখযোগ্য হলোঃ
১. শারীরিক ব্যথা এবং মাথা ঘোরা।
২. যৌন ক্রিয়ার সাথে জড়িত স্নায়ুতন্ত্র দুর্বল হওয়া অথবা ঠিক মত কাজ না করার পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়া।
৩. শরীরের অন্যান্য অঙ্গ যেমন: হজম প্রক্রিয়া এবং প্রসাব প্রক্রিয়ায় সমস্যা সৃষ্টি করে। দ্রুত বীর্যস্থলনের প্রধান কারণঅতিরিক্ত হস্তমৈথুন।
৪. হস্তমৈথুনের ফলে অনেকেই কানে কম শুনতে পারেন এবং চোঁখে ঘোলা দেখতে পারেন।
তবে, যারা হস্তমৈথুনে অভ্যস্ত, তাদের পক্ষে হঠাৎ করে হস্তমৈথুন ত্যাগ করা সম্ভব নয়। তাই ধীরে ধীরে হস্তমৈথুন ত্যাগ করুন এবং অকাল বীর্যপাত রোধ করুন।
হস্তমৈথুনের মারাত্মক সব ক্ষতিকর দিক
লাখ লাখ যুবকের উপর চালিত পর্যবেক্ষণ থেকে দেখা গেছে যে, হস্তমৈথুন এমন এক সমস্যা যাতে একবার কেউ আসক্ত হয়ে পড়লে প্রপার ট্রিটমেন্ট ছাড়া এ থেকে রেহাই পাওয়ার অন্য কোনো কার্যকর উপায় থাকে না বললেই চলে। আপনি অনলাইন সার্চ করলে হস্তমৈথুন অভ্যাস পরিত্যাগের বিষয়ে ভুরি ভুরি উপদেশ বাণী পেয়ে যাবেন। যার সবগুলিই অকার্যকর। তারপরও তাদের উপদেশ বাণীর যেন কোনো শেষ নেই।
কিন্তু তাদের অনেকেই বাস্তবতাটা বুঝতে পেরে কোথাও এর জন্য চিকিত্সা নেয়ার কথাটা বলে না।
কেন জানেন ??
ভালো করে শুনে নিন ** তাদের কাছে এ সমস্যা সমাধানের জন্য কোনো চিকিত্সা নেই **
তাই উপদেশ বাণী শোনানো ছাড়া তাদের আর কি-ই বা করার আছে। কিন্তু ঐসব চিকিত্সকদের নিকট চিকিত্সা নিতে গেলে ঐ অবস্থায় যখন একে একে সব গুলো উপদেশ বাণী ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয় তখন তাদের সর্বশেষ চিকিত্সা হলো – * বিয়ে করে ফেলেন *। বুঝেন অবস্থা !!!! আর এই সময়টাতে চিকিত্সার নাম করে আপনার কাছ থেকে যা নেয়ার সেটা কিন্তু তারা ঠিকই নিয়ে নিল। অথচ তারা নিজেরাই জানত তাদের কাছে এর কোনো কার্যকর ট্রিটমেন্ট নেই। শুধু তাই নয়, চিকিত্সার ব্যর্থতা ঢাকতে অবশেষে তারা এও বলেন যে – *হস্তমৈথুন কোনো ক্ষতিকর বিষয় নয় !!!!!!*
একটা বিষয় জেনে রাখা ভালো :-
অনেকেই শীতপ্রধান দেশের বিশেষজ্ঞদের গবেষণালব্ধ ফলাফল আমাদের উপমহাদেশের অর্থাৎ গ্রীষ্মপ্রধান দেশের বেলায় চালাতে চান। এক্ষেত্রে অবশ্যই আমাদের বাস্তবতা উপলগ্ধি করতে হবে। আমাদের দেশের ছেলেদের ১০-১২ বছরের মধ্যেই যৌন পরিপক্কতা চলে আসার কারণে তারা অনেকেই তখন থেকেই হস্তমৈথুন করা শুরু করে এবং বিয়ের সময় অর্থাৎ বয়স ২০-৩০ বছর হওয়ার পর দেখা যায় তারা নানা প্রকার যৌন সমস্যা সৃষ্টি করে ফেলেছেন। কিন্তু শীতপ্রধান দেশগুলির বিষয়টা আমাদের থেকে সম্পূর্ণ উল্টো। ঐসব দেশে ছেলেদের যৌন পরিপক্কতা আসে অনেক দেরিতে, অনেকের ১৬-১৮ বছর হয়ে যায়। তাছাড়া তারা যে কারো সাথে মেলামেশার সুযোগ পেয়ে থাকার কারণে হস্তমৈথুন ততটা করে না। তাই তারা এর জন্য ক্ষতির সম্মুখীন হয় না বললেই চলে। তাই আপনাদের অবশ্যই এ বিষয়টা বুঝতে হবে এবং তাদের ক্ষেত্রে যে থিওরি তাদের দেশের বিশেষজ্ঞরা দিয়ে থাকেন তা আমাদের দেশের ছেলেদের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করার চেষ্টা করা নিছক বোকামি ছাড়া আর কিছুই নয়। কারণ তারা যদি আমাদের দেশের ছেলেদের মত হস্তমৈথুনে আসক্ত হয়ে এটা করতে থাকত তাহলে তারাও এর কুফল গুলির সম্মুখীন হত।
যারা হস্তমৈথুন করাকে ক্ষতিকর না বলে ভালো বলে থাকেন তাদের কাছে প্রশ্ন ????
সর্ব কালের সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্ম হলো ইসলাম, যাকে বলা হয়ে থাকে *A complete code of life.* এ বিষয়ে হয়ত আপনারা সবাই আমার সাথে একমত হবেন আশা করি যদি আপনি মুসলিম হন। হস্তমৈথুন করাটা যদি মানুষের জন্য উপকারীই হত তাহলে সেই সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্ম ইসলামের অনেক মুফতীগণ রাসূলের হাদিসের আলোকে এটাকে কেন পাপ বলে অবহিত করলো। আশা করি বিষয়টি নিয়ে আর বেশি দূর বলার প্রয়োজন নেই। জেনে রাখুন হস্তমৈথুন অভ্যাসটা এমন কিছু মারাত্মক সমস্যার জন্ম দেয়, যা এক সময় একজন পুরুষের যৌন জীবন বিপর্যস্থ করে তুলে। এটা যুবকদের শারীরিক এবং মানুষিক উভয় সমস্যারই সৃষ্টি করে থাকে। আমাদের কাছে চিকিত্সা নিতে আসা হাজর হাজার যুবকরা নিজ মুখেই স্বীকার করেছে তাদের জীবনের অতীত কালের এ সকল অনাচারের কথা।
হস্তমৈথুনের ব্যাপারে ইসলাম কী বলে
ইসলামের দৃষ্টিতে এটা হারাম । শরীয়ত অনুযায়ী যারা হস্তমৈথুন করে তারা সীমালংগনকারী শারীরিক সমস্যা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। পুরুষ হস্তমৈথুন করলে প্রধান যে্সব সমস্যায় ভুগতে পারে সেগুলি হলো :-
o পুরুষ হস্তমৈথুন করতে থাকলে সে ধীরে ধীরে নপুংসক (Impotent) হয়ে যায়। অর্থাৎ যৌন সংগম স্থাপন করতে অক্ষম হয়ে যায় ।
o আরেকটি সমস্যা হল অকাল বীর্যপাত। ফলে স্বামী তার স্ত্রীকে সন্তুষ্ট করতে অক্ষম হয় । বৈবাহিক সম্পর্ক বেশিদিন স্থায়ী হয় না ।
o অকাল বীর্যপাত হলে বীর্যে শুক্রাণুর সংখ্যা কমে যায় । তখন বীর্যে শুক্রাণুর সংখ্যা হয় ২০ মিলিয়নের কম । যার ফলে সন্তান জন্মদানে ব্যর্থতার দেখা দেয় । (যে বীর্য বের হয় সে বীর্যে শুক্রাণুর সংখ্যা হয় ৪২ কোটির মত । স্বাস্থ্যবিজ্ঞান মতে কোন পুরুষের থেকে যদি ২০ কোটির কম শুক্রাণু বের হয় তাহলে সে পুরুষ থেকে কোন সন্তান হয়না। )
o অতিরিক্ত হস্তমৈথুন পুরুষের যৌনাঙ্গকে দুর্বল করে দেয়। Dr.Liu বলেন – “There is a huge change in body chemistry when one masturbates excessively”
হস্তমৈথুনের ফলে শরীরের অন্যান্য যেসব ক্ষতি হয় :-
o Nervous system, heart, digestive system, urinary system এবং আরো অন্যান্য system ক্ষতিগ্রস্ত হয় । পুরো শরীর দুর্বল হয়ে যায় এবং শরীর রোগ – বালাইয়ের যাদুঘর হয়ে যায় ।
o মাথা ব্যথা হয় ইত্যাদি আরো অনেক সমস্যা হয় হস্তমৈথুনের কারণে।
o স্মরণ শক্তি কমে যায় এবং চোখেরও ক্ষতি হয় ।
o আরেকটি সমস্যা হল সামান্য উত্তেজনায় যৌনাঙ্গ থেকে তরল পদার্থ বের হওয়া যাকে বলা হয় Leakage of semen । ফলে অনেক মুসলিম ভাই নামায পড়তে কষ্ট হয়।
মহান আল্লাহ্ তা’ আলার স্মরণ থেকে মুসলিমদের দূরে রাখে হস্তমৈথুন।
রসূলুল্লাহ্ ( সঃ ) বলেছেন-
“যে ব্যক্তি আমাকে তার দুই চোয়ালের মধ্যবর্তী জিনিস (জিহ্বার) এবং দুইপায়ের মধ্যবর্তী জিনিস (যৌনাঙ্গের) নিশ্চয়তা (সঠিক ব্যবহারের) দেবে আমি তার বেহেশতের নিশ্চয়তা দিব । “
-(বুখারী ও মুসলিম)
তাই কাউকে হস্তমৈথুন করার উপদেশ দিয়ে আপনি নিজে গুনাহ বা পাপের অংশীদার হবেন না। পারলে কেউ এতে আসক্ত হলে যথাযথ হোমিও চিকিত্সার মাধ্যমে তাকে এই পথ থেকে ফিরিয়ে আনুন। কারণ হোমিওপ্যাথিই একমাত্র কার্যকর চিকিত্সা বিজ্ঞান যা কোন প্রকার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া ছাড়াই যুবকদের হস্তমৈথুন অভ্যাস দূরীকরণে সফলতা দেখিয়ে আসছে।
বি.দ্র. এ বদ অভ্যাস ত্যাগ করতে ঔষধ লাগলে ফোন করুন 01710050200