গলস্টোনঃ গলস্টোনের ব্যাথা সাধারণত পেটের ওপর ডানদিক থেকে পিঠের দিকে ছড়িয়ে পড়ে। তবে বেশিরভাগ রোগীরই কোন ব্যথা থাকে না। গ্যাস-অম্বলের চিকিৎসার জন্য পেটের আলট্রাসনোগ্রাফি করাতে গিয়ে গলস্টোন ধরা পড়ে। এই অবস্থাকে সাইলেন্ট স্টোন বলে। বেলি অ্যান্ড লাভের মতো সার্জারির বিশ্ববিখ্যাত টেক্সট বইগুলো কিন্তু সাইলেন্ট স্টোনের ক্ষেত্রে অপারেশন না করারই পরামর্শ দিয়েছেন ৷ প্রতি একশত জন রোগীর ক্ষেত্রে ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা চারজন বা পাঁচজনের—তাও প্রায় শেষ বয়সে গিয়ে। তাই সেই ভয়ে গলস্টোন হলেই গলব্লাডার কাটার পরামর্শ কোন উদ্দেশ্য সাধন করে তা পাঠকরাই ভেবে দেখবেন। সাইলেন্ট স্টোনে হোমিওপ্যাথি অত্যন্ত ফলপ্রসু। অনেক হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকেরও ধারণা অন্য স্টোন ওষুধে ভালো হলেও গলস্টোন সারে না। কারণ বাইল ডাক্টের ডায়ামিটার ছোট বলে স্টোন বেরোনোর উপযুক্ত নয়। কিন্তু ঘটনা হল, গলব্লাডার ও বাইল ডাক্ট যেহেতু সার্কুলার মাসল ফাইবার দিয়ে তৈরি, তাই স্টোনের সাইজ নালীর ডায়ামিটারের থেকে বড় হলেও নালীর অত্যাধিক প্রসারণ ক্ষমতার জন্য স্টোন বার হওয়া সম্ভব হয়। সার্কুলার মাসল ফাইবারের প্রসারণ ক্ষমতা সুন্দর উদাহরণ হল অজগরের আস্ত হরিণ গিলে নিথোজেনিক বাইল তৈরির প্রবণতাও হোমিওপাথিক ওষুধ রোধ করে এবং গলস্টোন থেকে ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কমিয়ে দেয়। তবে একথা ঠিক যে ওষুধ দিয়ে গলস্টোন সারানোর সাফল্যের হার হলে তাকে অভিকর্ষের বিরুদ্ধে উপরের দিকে বেরোতে হয় কিছুটা পথ। তাই কিডনী স্টোনের তুলনায় কম, কারণ অ্যানাটমিক্যাল কারণে গলস্টোন বেরোতে কাজটা একটু জটিল। তবে ঘাবড়াবার কিছু নেই। বলডো, ফেল টাউরি, ক্যালকেরিয়া, ন্যাট্রাম সালফ, কার্ডয়াস ইত্যাদি ওষুধ গলস্টোন নিরাময় করতে সক্ষম। এরপরও বারবার ব্যথা হতে থাকলে অবশ্যই সার্জারির কথা ভাবতে হবে।
কিডনি স্টোন : এক্ষেত্রে পিঠ থেকে ব্যথা কোমর হয়ে কুঁচকির দিকে নামে, বমি হয়, জ্বর আসে। ব্যথা হলে ক্যালকেরিয়া কার্ব, বার্বারিস, ট্যাবেকাম ব্যবহৃত হয়। এরপর স্টোনের কারণ ও লক্ষণ অনুযায়ী লাইকো, ক্যান্থারিস, সার্সাপ্যারিলা, অসিমাম ক্যানাম, জেকিউরিটি, প্যারাথাইরয়েডিয়াম, ফ্যাবিয়ানা ইত্যাদি ওষুধ দিলে স্টোন বার হয়ে যায় ও বারবার স্টোন হওয়ার প্রবণতা দূর হয়। সঙ্গে অবশ্যই প্রচুর জল খেতে হবে।
ব্লাডার স্টোনঃ এক্ষেত্রে নাভির নীচে ব্যথা, প্রস্রাবে জ্বালা, ব্যথা, প্রস্রাবে তাজা রক্ত পড়া ইত্যাদি লক্ষণ থাকে। ইউভা আর্সি, চিমাফিলা, ফেরাম পিকরিক, ক্যালকুলি রেনালিস প্রভৃতি ব্লাডার স্টোনের ভালো ওষুধ। স্যালিভারি স্টোনঃ মুখের ভিতর বা বাইরে চোয়ালের কাছে ফোলা, ব্যথা মুখ শুকিয়ে যাওয়া ইত্যাদি এই স্টোনের লক্ষণ। জিকিউরিটি, জ্যান্থোজাইলাম, ক্যালকেরিয়া সিলিকাটা ইত্যাদি ওষুধ ব্যবহৃত হয়।
প্যাংক্রিয়াস স্টোন : ব্যথা পেটের বাঁদিকে নাভির ওপর থেকে শুরু হয়ে পিঠ অবধি যায়। বদহজম, পেটে জ্বালা, জনডিস, সুগার বেড়ে যাওয়ার সমস্যা থাকে। ওষুধের মাধ্যমে প্যাংক্রিয়াটিক স্টোন সারানো অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে চ্যালেঞ্জিং। রোগ শুরুর আগে রোগীর মানসিক স্থিতি ও বর্তমান লক্ষণ সমান গুরুত্বপূর্ণ। আইরিস ভার্স, কারকিউমা, অ্যাট্রোপিন সালফ, প্যানক্রিয়াটিনাম ভালো কাজ দেয়। বংশে টিবির ইতিহাস, ঘনঘন সর্দি হাঁচির প্রবণতার ওপর নাইজেলা সেটিভা ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যায়।
সূত্র- অসাধ্য রোগে হোমিওপ্যাথি
নারী-পুরুষের যৌনরোগসহ সব ধরনের শারীরিক সমস্যার জন্য নির্ভরযোগ্য হোমিও চিকিৎসা। যৌনস্বাস্থ্য, প্রজনন স্বাস্থ্য, এবং শারীরিক সুস্থতার উন্নত হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা ও পরামর্শের জন্য অভিজ্ঞ হোমিও ডাক্তারদের সাহায্য নিন। সঠিক ও নিরাপদ চিকিৎসার জন্য আজই আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন: ০১৭১০০৫০২০০
