হরমোনাল ভারসাম্যের অনিয়ম: হরমোনের পরিবর্তন বা ভারসাম্যহীনতার কারণে সিস্টের সৃষ্টি হতে পারে।
পেলভিক সংক্রমণ: সংক্রমণ ডিম্বাশয়ের বিভিন্ন অংশকে প্রভাবিত করতে পারে।
পারিবারিক ইতিহাস: পরিবারের সদস্যদের মধ্যে যদি ওভারিয়ান সিস্টের ইতিহাস থাকে, তবে এটি একটি প্রভাব ফেলতে পারে।
মোটাদশা বা দ্রুত ওজন বৃদ্ধি: অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি ও স্থূলতার ফলে সিস্টের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়।
লক্ষণসমূহ
অনেক ক্ষেত্রে ওভারিয়ান সিস্ট নির্ণয় করা হয় যে কোন লক্ষণ প্রকাশ না করলেও, কিছু নারীতে নিম্নলিখিত উপসর্গ দেখা দিতে পারে:
নিচের পেটে ব্যথা: সিস্টের পাশে হঠাৎ বা ক্রমাগত ব্যথা।
ফোলা ভাব বা ভার অনুভূতি: পেটে অতিরিক্ত চাপ বা ভার অনুভূতি।
অনিয়মিত মেনস্ট্রুয়েশন: মাসিকের সময় অসামঞ্জস্যতা, অতিরিক্ত বা কম রক্তপাত।
যৌন মিলনের সময় ব্যথা: যৌন মিলনের সময় ব্যথা অনুভব।
প্রায়ই প্রস্রাবের সমস্যা: প্রস্রাবের সময় অস্বস্তি বা ব্যথা।
পাকস্থলী বা বাথরুম ব্যবহারের সময় ব্যথা: অন্ত্রের ক্রিয়া চলাকালীন ব্যথা।
নিচের পিঠ বা থাই এ ব্যথা: পিঠ বা উরুর নীচের অংশে ব্যথা।
বমি বমি ভাব ও বমি হওয়া: পাচনতন্ত্রের সমস্যার কারণে।
বীজনাশক সমস্যা: কখনো কখনো ওভারিয়ান সিস্টের কারণে গর্ভধারণে সমস্যা দেখা দিতে পারে।
পিসিওএসের ক্ষেত্রে অন্যান্য লক্ষণ: ব্রণ, অনিয়মিত মাসিক, অস্বাভাবিক লোমস্হিতি ও চুল পড়া।
জরুরি প্রশ্নাবলী
ওভারিয়ান সিস্টের জটিলতা কী কী?
প্রধানত, ওভারিয়ান টর্সন (অঙ্গের মোচড়) এবং ফাটল এই সিস্টের জটিলতার প্রধান কারণ। হঠাৎ তীব্র পেট ব্যথা, বমি, জ্বর, মাথা ঘোরা ও দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাসের মতো লক্ষণ দেখা দিলে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা জরুরি।
ওভারিয়ান সিস্ট ক্যান্সারাস হতে পারে?
অধিকাংশ ক্ষেত্রে, ওভারিয়ান সিস্ট ক্যান্সারাস নয়। তবে, খুব অল্প সংখ্যক ক্ষেত্রে, বিশেষ করে মেনোপজ পরবর্তী নারীদের মধ্যে, এগুলি ক্যান্সারাস হতে পারে।
ওভারিয়ান সিস্ট কি বীজনাশকে প্রভাবিত করতে পারে?
সাধারণত, বেশিরভাগ সিস্ট বীজনাশক প্রভাবিত করে না। তবে পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (PCOS) বা এন্ডোমেট্রিওমাসের ক্ষেত্রে, গর্ভধারণে সমস্যা দেখা দিতে পারে।
এই সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদনে ওভারিয়ান সিস্টের কারণ, লক্ষণ এবং সম্ভাব্য জটিলতা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে, যা পাঠকদের স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।