Tag: উচ্চ রক্তচাপ

  • হার্ট অ্যাটাকে দিনে ৭০০ মানুষের মৃত্যু হয়

    হার্ট অ্যাটাকে দিনে ৭০০ মানুষের মৃত্যু হয়

    দেশে প্রতিদিন হার্ট অ্যাটাকে অন্তত সাতশ মানুষের মৃত্যু। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসসহ অসংক্রামক রোগ (এনসিডি) নিয়ে মানুষের মধ্যে এখনও পর্যাপ্ত সচেতনতা নেই। সংক্রামক রোগের পাশাপাশি এসব অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধেও সমান গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।

    বুধবার (২২ এপ্রিল) সকালে খুলনা সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে ‘খুলনা জেলায় ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে কেন্দ্র করে এনসিডি মোকাবিলা মডেলের প্রচার ও বাস্তবায়ন’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

    সেমিনারে বক্তারা উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে প্রতিদিন এক চামচের বেশি লবণ ও পাঁচ চামচের বেশি চিনি গ্রহণ না করার পরামর্শ দেন। পাশাপাশি প্রতিদিন তিন বেলা খাবারের পর ১০ মিনিট করে মোট ৩০ মিনিট হাঁটার অভ্যাস গড়ে তোলার ওপর জোর দেন।

    খুলনা সিভিল সার্জন কার্যালয় ও এশিয়া আর্সেনিক নেটওয়ার্কের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মো. মুজিবুর রহমান। তিনি বলেন, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ক্যান্সার, প্রতিবন্ধিতা ও মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যাসহ অসংক্রামক রোগ বর্তমানে বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি হিসেবে দেখা দিয়েছে।

    এসব রোগ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থাপনা ছাড়া অকালমৃত্যু কমানোর কোনো বিকল্প নেই।

    মুজিবুর রহমান আরও বলেন, একসময় সংক্রামক রোগ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে মনে করে কিছুটা উপেক্ষা করা হয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতি হাম পরিস্থিতি প্রমাণ করে-স্বাস্থ্যখাতে কোনো বিষয়ই অবহেলা করার সুযোগ নেই। এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া, যেখানে নিয়মিত কার্যক্রম, মনিটরিং ও টেকসই বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

    খুলনা বিভাগীয় এই স্বাস্থ্য পরিচালক জানান, খুলনা বিভাগে চলমান হাম টিকাদান কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী প্রায় ১৬ লাখ শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৯৬-৯৭ শতাংশ অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শতভাগ কভারেজ নিশ্চিত করতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

    এশিয়া আর্সেনিক নেটওয়ার্কের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. শেখ আখতার আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন ডা. মো. এ সালাম, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এনসিডি প্রোগ্রামের ফোকাল পারসন ডা. রাহাত ইকবাল চৌধুরী এবং বাংলাদেশে জাপানি মিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি শিনজু কারাওয়াসা। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন খুলনার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মো. মিজানুর রহমান প্রমুখ।

  • ৭ ঘণ্টার কম ঘুমালে যেসব ক্ষতি হয়

    ৭ ঘণ্টার কম ঘুমালে যেসব ক্ষতি হয়

    অনেকেই মনে করেন প্রতিদিন ছয় ঘণ্টা ঘুমই যথেষ্ট এবং এর চেয়ে বেশি ঘুমানোর প্রয়োজন নেই। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধারণা মোটেই স্বাস্থ্যকর নয়। এটি আমাদের শরীরের, বিশেষ করে হৃদযন্ত্রের ওপর মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। এই বিষয়ে ভারতীয় কার্ডিওলজিস্ট ডা. অমিত কুমার নিশ্চিত করেছেন, ছয় ঘণ্টার ঘুম একেবারেই যথেষ্ট নয়। দীর্ঘ দিন ধরে এমন অভ্যাস ঘুমের অভাব সৃষ্টি করে, যা শেষ পর্যন্ত হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

    কেন পর্যাপ্ত ঘুম হৃদযন্ত্রের জন্য জরুরি?
    ডা. কুমার ব্যাখ্যা করেন, ঘুমের সময় আমাদের শরীর একটি ‘মেরামত যন্ত্রের’ মতো কাজ করে। এ সময় শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া ধীর হয়ে আসে, যেমন:

    ১। রক্তচাপ কমে যায়।

    ২। হৃদস্পন্দন স্বাভাবিকের চেয়ে ধীর হয়।

    ৩। স্ট্রেস হরমোনের পরিমাণ হ্রাস পায়।

    এই প্রক্রিয়াগুলো হৃদপিণ্ডকে বিশ্রাম নিতে সাহায্য করে। একই সময়ে, আমাদের শরীরের টিস্যুগুলো মেরামত হয়, রক্তনালীগুলো সুস্থ থাকে এবং প্রদাহ কমে আসে। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে এই ‘মেরামত চক্র’ ব্যাহত হয়, যার ফলে হৃদপিণ্ডকে অতিরিক্ত চাপের মধ্যে কাজ করতে হয়।

    সাত ঘণ্টার কম ঘুমালে কী হতে পারে?
    ডা. কুমার বলেন, যখন আপনি নিয়মিত সাত ঘণ্টার কম ঘুমান, তখন হৃদপিণ্ড পর্যাপ্ত বিশ্রাম পায় না এবং এর ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। এর ফলে দীর্ঘ মেয়াদে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে, যেমন:

    উচ্চ রক্তচাপ: পর্যাপ্ত ঘুম না হলে রাতের বেলাও রক্তচাপ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকে, যা হৃদপিণ্ডের জন্য ক্ষতিকর।

    বর্ধিত প্রদাহ: কম ঘুম রক্তনালীতে প্রদাহ বাড়ায়, যা হৃদরোগের অন্যতম প্রধান কারণ।

    হরমোনের ভারসাম্যহীনতা: ঘুমের অভাবে স্ট্রেস হরমোন বেড়ে যায় এবং ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়। এর ফলে ওজন বাড়তে পারে, যা হৃদপিণ্ডের ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করে।

    অ্যাট্রিয়াল ফাইব্রিলেশন: ঘুমের অভাব হৃদপিণ্ডের বৈদ্যুতিক সংকেতে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে, যা হার্টের অনিয়মিত স্পন্দন বা অ্যারিথমিয়ার ঝুঁকি বাড়ায়।

    হৃদপিণ্ড সুস্থ রাখতে কতটা ঘুম প্রয়োজন?
    ডা. কুমার পরামর্শ দেন যে, বেশিরভাগ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য প্রতি রাতে ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুমানো জরুরি। তবে শুধু সময়ের হিসাব নয়, ঘুমের গুণগত মানও গুরুত্বপূর্ণ। গভীর ঘুম ও আরইএম (Rapid Eye Movement) সাইকেলগুলো শরীরের মেরামতের জন্য অপরিহার্য।

    আপনার ঘুমের মান উন্নত করতে কিছু বিষয় মেনে চলতে পারেন:

    ১। প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যান এবং ঘুম থেকে উঠুন।

    ২। ঘুমানোর আগে মোবাইল বা ল্যাপটপের মতো স্ক্রিন ব্যবহার কমিয়ে দিন।

    ৩। শোবার ঘরকে অন্ধকার ও শান্ত রাখুন।

    সুতরাং, ছয় ঘণ্টা ঘুমানোর পর আপনি হয়তো সকালে সতেজ অনুভব করতে পারেন, কিন্তু আপনার হৃদপিণ্ড নীরবে এর মূল্য দিচ্ছে। সুস্থ থাকতে পর্যাপ্ত ও মানসম্মত ঘুমকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।

  • উচ্চ রক্তচাপ: তরুণ বয়সেই মৃত্যুঝুঁকি বাড়াচ্ছে

    উচ্চ রক্তচাপ: তরুণ বয়সেই মৃত্যুঝুঁকি বাড়াচ্ছে

    একসময় ধারণা ছিল উচ্চ রক্তচাপ বয়স্কদের রোগ, কিন্তু সাম্প্রতিক বৈজ্ঞানিক গবেষণা প্রমাণ করেছে—এই নীরব ঘাতক জীবনের অনেক আগেই, এমনকি শৈশব থেকেই শরীরে ছায়া ফেলে দিতে শুরু করে। প্রাথমিক লক্ষণ না থাকায় অনেকেই বুঝতেই পারেন না যে তারা উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকিতে রয়

    একটি ছয় বছরব্যাপী আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা গেছে, হৃদরোগ ও স্ট্রোকের মতো মারাত্মক সমস্যা রক্তচাপের অনেক কম মাত্রা থেকেই শুরু হতে পারে। গবেষণায় বলা হয়েছে, ১২০/৮০ mmHg রিডিং পার হলেই হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়তে শুরু করে। এই অবস্থাকে ‘প্রি-হাইপারটেনশন’ বলা হচ্ছে, যা ১২০/৮০ থেকে ১৩৯/৮৯ পর্যন্ত রক্তচাপের পরিসরকে বোঝায়।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পর্যায়েই সতর্কতা অবলম্বন না করলে ভবিষ্যতে তা পরিণত হতে পারে পূর্ণমাত্রার উচ্চ রক্তচাপে—যার মাত্রা ১৪০/৯০ mmHg বা তার বেশি।

    তরুণদের মাঝেও বাড়ছে উচ্চ রক্তচাপ

    বর্তমানে তরুণদের মাঝেও উচ্চ রক্তচাপের হার উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, তরুণদের উচ্চ রক্তচাপের অন্যতম কারণ হলো ত্রুটিপূর্ণ জীবনযাপন— যেমন:

    • অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস
    • অতিরিক্ত লবণ ও প্রক্রিয়াজাত খাবারের গ্রহণ
    • বসে বসে কাজ করার প্রবণতা
    • ধূমপান ও মাদকাসক্তি
    • দীর্ঘ সময় ধরে মানসিক চাপ
    • ঘুমের অভাব

    এছাড়া, বংশগত কারণকিছু শারীরিক রোগ যেমন কিডনি রোগ, অ্যাড্রিনাল টিউমার ইত্যাদিও রক্তচাপ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।

    ঝুঁকি কোথায়?

    উচ্চ রক্তচাপকে বলা হয় “নীরব ঘাতক”—কারণ এটি ধীরে ধীরে হৃদপিণ্ডকে দুর্বল করে, ধমনীগুলোকে শক্ত করে তোলে এবং পরিণতিতে ঘটায় হৃদরোগ, স্ট্রোক, কিডনি ব্যর্থতা, এমনকি অন্ধত্ব পর্যন্ত।

    চিকিৎসা ও প্রতিরোধ: জীবনধারায় পরিবর্তন ও হোমিওপ্যাথিক সহায়তা

    গবেষকরা বলছেন, জীবনধারার পরিবর্তনই হলো প্রাথমিক প্রতিরোধের মূল উপায়। এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত:

    • লবণ ও চর্বি কম খাওয়া
    • ধূমপান ও অ্যালকোহল থেকে বিরত থাকা
    • নিয়মিত ব্যায়াম করা
    • ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা
    • স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট (যেমন: মেডিটেশন, যোগব্যায়াম)

    তাছাড়া, হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা মাধ্যম হিসেবেও একটি বিকল্প পথ হতে পারে—বিশেষ করে যখন চিকিৎসার মূল উদ্দেশ্য হয় শুধু উপসর্গ নয়, বরং রোগীর সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় এনে সঠিক সমাধান খুঁজে বের করা।

    নাক্স ভুমিকা, ইগনাটিয়া, ক্যালি ফস, ন্যাট্রাম মিউর—এই হোমিওপ্যাথিক ওষুধগুলো কিছু নির্দিষ্ট জীবনীভিত্তিক কারণ অনুযায়ী উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হতে পারে। তবে এগুলো কখনোই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া গ্রহণ করা উচিত নয়।

  • শিশুর মুটিয়ে যাওয়ার কারণ, নিয়ন্ত্রণের উপায়

    শিশুর মুটিয়ে যাওয়ার কারণ, নিয়ন্ত্রণের উপায়

    শিশুর মুটিয়ে যাওয়া
    শিশুদের স্থূলতা বলতে এমন একটি অবস্থাকে বোঝায়, যখন কোনো শিশুর ওজন তার বয়স ও উচ্চতা অনুযায়ী স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি থাকে। BMI (বডি মাস ইনডেক্স) একটি উপায়, যার মাধ্যমে বোঝা যায় কোনো শিশু স্বাভাবিক, কম ওজনের, বেশি ওজনের না কি স্থূলতায় আক্রান্ত। শিশুর উচ্চতা ও ওজন বিবেচনায় নিয়ে BMI নির্ধারণ করা হয়। যদি কোনো শিশুর BMI একই বয়স ও লিঙ্গের অন্যান্য শিশুর তুলনায় ৯৫ শতাংশ পারসেন্টাইল বা তার বেশি হয়, তাহলে তাকে স্থূল হিসেবে ধরা হয়।

    শিশুকালে স্থূলতা পরবর্তী জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ এটি প্রাপ্তবয়স্ক বয়সেও স্থূলতা বহন করে আনার সম্ভাবনা তৈরি করে।

    শৈশবে স্থূলতা শিশুর আত্মসম্মানবোধ হ্রাস, বিষণ্নতা এবং উদ্বেগের মতো মানসিক সমস্যার কারণ হতে পারে। এটি শিশুর মধ্যে সময়ের আগেই বয়ঃসন্ধিকালে পৌঁছানোর আশঙ্কাও বাড়িয়ে দেয়।

    দীর্ঘমেয়াদে শিশুদের স্থূলতা নানা শারীরিক জটিলতার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। উদাহরণস্বরূপ, এটি হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, টাইপ ২ ডায়াবেটিস, উচ্চ কোলেস্টেরল, হাঁপানি, নাক ডেকে ঘুমানো, স্লিপ অ্যাপনিয়া (ঘুমের সময় শ্বাস-প্রশ্বাসে বিরতি), অ্যালকোহলবিহীন ফ্যাটি লিভার ডিজিজ (NAFLD), অস্থি ও জয়েন্টের ব্যথা এবং কিছু ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়।

    শিশুর স্থূলতার কারণ
    শিশুর স্বাভাবিক শারীরিক বিকাশের চাহিদার চেয়ে অতিরিক্ত পরিমাণে খাবার খাওয়া এবং পর্যাপ্ত শারীরিক পরিশ্রম না করার ফলে শরীরে অতিরিক্ত ক্যালোরি জমে যায়। এই অতিরিক্ত, অপ্রয়োজনীয় ক্যালোরি যখন শরীরে বার্ন হয় না, তখন তা চর্বি আকারে জমতে শুরু করে। দীর্ঘদিন যদি শিশুর খাদ্যাভ্যাসে মাত্রাতিরিক্ত খাওয়া এবং খুব কম শারীরিক কার্যক্রম চালু থাকে, তাহলে ধীরে ধীরে স্থূলতা তৈরি হতে পারে।

    বর্তমান সময়ে শিশুদের মধ্যে বাইরের খেলাধুলা, দৌড়ঝাঁপের জায়গা দখল করে নিচ্ছে বিভিন্ন ইলেকট্রনিক গ্যাজেট — যেমন: স্মার্টফোন, ট্যাবলেট, টেলিভিশন ইত্যাদি। এই প্রযুক্তিপণ্যের ব্যবহারের সময় অনেক শিশু খাবার খেতে খেতে স্ক্রিনে মগ্ন থাকে, যার ফলে শরীরে আরও বেশি ক্যালোরি জমে। প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ক্যালোরি গ্রহণ এবং কম শারীরিক কার্যকলাপ — এই দুটি মিলেই শিশুদের স্থূলতার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত।

    এর বাইরে আরও নানা বিষয় শিশুর স্থূলতায় ভূমিকা রাখে। পরিবারের মধ্যে স্থূলতার ইতিহাস থাকলে, সেই শিশুরও স্থূলতা হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। দ্বিতীয়ত, খাদ্যাভ্যাস যদি অনিয়ন্ত্রিত ও অস্বাস্থ্যকর হয়, তাহলে তা স্থূলতার কারণ হতে পারে।

    অস্বাস্থ্যকর খাদ্য বলতে বোঝায়— অতিরিক্ত চিনি ও চর্বি-যুক্ত এবং পুষ্টিহীন খাবার, যেমন: ফাস্ট ফুড, চিপস, পিজ্জা, বার্গার, ক্যান্ডি, চকলেট, ক্যান বা ফ্রোজেন খাবার, বেক করা আইটেম, কুকিজ ও সফট ড্রিংক।

    এর পাশাপাশি, কিছু শারীরিক রোগও শিশুদের স্থূলতার জন্য দায়ী হতে পারে। যেমন:

    হাইপোথাইরয়েডিজম: এটি এমন এক সমস্যা যেখানে থাইরয়েড গ্রন্থি প্রয়োজনীয় পরিমাণ হরমোন তৈরি করতে পারে না, ফলে শরীরের বিপাকক্রিয়া কমে যায় এবং ওজন বেড়ে যেতে পারে।

    কুশিং’স সিনড্রোম: শরীরে কর্টিসল হরমোন অতিরিক্ত মাত্রায় থাকলে এই অসুখ দেখা দেয়, যা ওজন বৃদ্ধির কারণ হতে পারে।

    মনস্তাত্ত্বিক সমস্যা যেমন উদ্বেগ, চাপ বা বিষণ্নতাও অনেক সময় অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা বাড়িয়ে দিয়ে স্থূলতার দিকে নিয়ে যেতে পারে।
    অবশেষে, কিছু ওষুধ যেমন স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ গ্রহণও শিশুদের স্থূলতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে।

    শিশুর স্থুলতা নিয়ন্ত্রণে হোমিওপ্যাথি
    শিশুদের স্থূলতা নিয়ন্ত্রণে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা যথেষ্ট কার্যকর হতে পারে, তবে এটি শুধু ওষুধ দিয়ে সম্ভব নয় — এর সঙ্গে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন ও শারীরিক পরিশ্রম বাড়ানোর প্রয়োজন হয়। হোমিওপ্যাথিক ওষুধ শরীরের বিপাকক্রিয়া (মেটাবলিজম) বাড়াতে সাহায্য করে, ফলে জমে থাকা চর্বি কমে যেতে পারে।

    তবে একটি কথা মনে রাখা জরুরি — হোমিওপ্যাথিতে স্থূলতার জন্য কোনো নির্দিষ্ট ওষুধ নেই যা সবার জন্য প্রযোজ্য। প্রতিটি শিশুর শারীরিক ও মানসিক গঠন অনুযায়ী পৃথক ওষুধ নির্বাচন করা হয়। এই শারীরিক ও মানসিক গঠনকে একত্রে ‘কনস্টিটিউশন’ বলা হয়। একজন অভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক শিশুর কনস্টিটিউশন বিশ্লেষণ করে উপযুক্ত ওষুধ নির্বাচন করেন।

    নির্দেশিকা- সবচেয়ে ভালো বিষয় হলো— হোমিওপ্যাথিক ওষুধগুলো প্রাকৃতিক, নিরাপদ এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন। তবে এসব ওষুধ কখনোই নিজে নিজে গ্রহণ করা উচিত নয়। অবশ্যই প্রশিক্ষিত চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খাওয়া উচিত।