পা ফাটার নেপথ্যে থাকতে পারে যে ৪ রোগপা ফাটা

সুন্দর সাজগোজের পরেও পায়ে যদি কালচে ছোপ বা ফাটা গোড়ালি থাকে, তবে তা পুরো সৌন্দর্যকেই ম্লান করে দিতে পারে। খালি পায়ে হাঁটা বা জুতো খুলে বসার সময়ে অনেকেই এই কারণে অস্বস্তিতে ভোগেন। বেশিরভাগ সময়ই আমরা মনে করি, পা ফাটার কারণ হলো শীতের মরসুম, যত্নের অভাব বা পুষ্টির ঘাটতি।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল মরসুম বদল বা অবহেলা নয়, পা ফাটা ও ত্বকের অস্বাভাবিকতার নেপথ্যে কিছু গুরুতর শারীরিক সমস্যাও থাকতে পারে।

পা ফাটার নেপথ্যে থাকতে পারে যে ৪ রোগ:
১. হেরিডিটরি পামোপ্লান্টার কেরাটোডার্মা (Hereditary Palmoplantar Keratoderma): এটি একটি জিনবাহিত রোগ। এই রোগে আক্রান্তদের ত্বক অস্বাভাবিকভাবে পুরু হয়ে যায়—স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি মোটা হয় এবং অনেকটা কাঠের মতো শক্ত মনে হয়। এর ফলে রোগীর হাত ও পা খুব বেশি পরিমাণে ফাটে। এর কোনো দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা নেই, তবে রেটিনয়েডস জাতীয় ওষুধ এবং ফিজিওথেরাপি দিয়ে রোগীর কষ্ট সাময়িকভাবে কমানো হয়।

২. এগজ়িমা (Eczema) বা অ্যাটপিক ডার্মাটাইটিস: এই চর্মরোগের প্রভাবেও পায়ের ত্বক ফাটতে পারে। এগজিমার সবচেয়ে পরিচিত উপসর্গটি হলো অ্যাটপিক ডার্মাটাইটিস, যা শরীরের যেকোনো স্থানে হতে পারে। যদিও এই রোগের সঠিক কারণ সম্পর্কে চিকিৎসকেরা নিশ্চিত নন, তবে এর কারণে পা ফাটার সমস্যা দেখা যায়।

৩. সোরিয়াসিস (Psoriasis): এটি সাধারণত একটি দীর্ঘস্থায়ী রোগ। সোরিয়াসিসে আক্রান্ত হলে পায়ের তালুতে খোসার মতো করে চামড়া উঠতে শুরু করে, যা ক্ষেত্রবিশেষে গোড়ালি পর্যন্ত ছড়িয়ে গিয়ে পা ফাটার সমস্যা তৈরি করে।

৪. পিটিরিয়াসিস রুবরা পাইলারিস (Pityriasis Rubra Pilaris – PRP): এটিও একটি জিনগত রোগ। পিআরপি-তে আক্রান্ত রোগীদের শীতকালে হাত-পা অত্যন্ত শুষ্ক হয়ে যায় এবং সোরিয়াসিসের মতোই পা ফাটতে থাকে।

মনে রাখবেন: যদি পর্যাপ্ত যত্ন নেওয়ার পরেও পা ফাটা বা পায়ের ত্বকে অস্বাভাবিকতা দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকে, তবে দেরি না করে একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।