চুল পড়ার ১২ কারণ

চুল পড়ার ১২ কারণ

প্রতিদিন কিছু চুল পড়া স্বাভাবিক ব্যাপার। বেশিরভাগ মানুষের প্রতিদিন গড়ে ৫০ থেকে ১০০টি চুল পড়ে। এটি ভালো একটি বিষয়। কারণ, যদি এমনটা না হতো, তবে আমাদের মাথা বিশালাকার চুলের গুচ্ছে পরিণত হতো! সাধারণত চুল পড়ে গেলে একই স্থানে নতুন চুল গজায়। তবে সত্যিকারের চুল পড়ার সমস্যা তখনই ঘটে, যখন সেই চুলগুলো আর গজায় না, অথবা গজালেও তা পর্যাপ্ত পরিমাণে নয়, যা আগের চুলগুলোর জায়গা পূরণ করতে পারে।

চুল পড়া বলতে মাথার ত্বক বা স্কাল্প থেকে চুল ঝরে পড়াকে বোঝায়। এর আরেকটি নাম হলো অ্যালোপেসিয়া। এটি এমন একটি ব্যাপক পরিভাষা, যা চুলের পাতলা হয়ে যাওয়া বা পরিমাণে কমে যাওয়াকেও বোঝায়। এই সমস্যাটি নারী-পুরুষ উভয়ের মধ্যে দেখা যায় এবং এতে বংশগতির বড় ভূমিকা রয়েছে। তবে শুধু জেনেটিক কারণেই নয়, আরও অনেক কারণেই চুল পড়ার সমস্যা দেখা দেয়।

এই সমস্যা সম্পর্কে ভালোভাবে জানতে হলে চুলের বৃদ্ধি প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপ সম্পর্কে ধারণা থাকা প্রয়োজন। চুলের বৃদ্ধি সাধারণত তিনটি পর্যায়ে সম্পন্ন হয়:

(এক) অ্যাজেন ফেজ (Anagen Phase): এটি চুলের সক্রিয় বৃদ্ধি পর্যায়, যা প্রায় ২ থেকে ৭ বছর স্থায়ী হয়। এই পর্যায়ে চুলের গঠন ও লম্বা হওয়ার প্রক্রিয়া দ্রুতগতিতে চলে।

(দুই) ক্যাটাজেন ফেজ (Catagen Phase): এই পর্যায়টি অ্যাজেন ফেজের পরপরই ঘটে এবং প্রায় ১০ থেকে ১৪ দিন স্থায়ী হয়। এসময় চুলের রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায় এবং চুল মরে যায়।

(তিন) টেলোজেন ফেজ (Telogen Phase): এটি বিশ্রামের পর্যায়। এই সময়ে মৃত চুল পড়ে যায়। চুলের ফলিকল ২ থেকে ৩ মাস পর্যন্ত বিশ্রামে থাকে।

এই তিনটি পর্যায় শেষ হলে পুরো চক্রটি আবার নতুন করে শুরু হয়। মাথার সব চুল এই পর্যায়গুলোর মধ্য দিয়ে পৃথকভাবে যায়, অর্থাৎ প্রতিটি চুলের বৃদ্ধি চক্র একে অপরের থেকে স্বতন্ত্র। সাধারণত, যে কোনো সময় মাথার প্রায় ৯০ ভাগ চুল অ্যাজেন ফেজে থাকে এবং মাত্র ১০ শতাংশ থাকে টেলোজেন ফেজে। কিন্তু যখন এই অনুপাত ব্যাহত হয়, তখনই অতিরিক্ত চুল পড়ার সমস্যা দেখা দেয়।

চুল পড়ার সমস্যা যেকোনো বয়সে এবং নারী-পুরুষ উভয়ের মধ্যেই হতে পারে। এটি নিজেই কোনো রোগ নয়, বরং অনেক রোগের একটি লক্ষণ। চুল পড়া বিভিন্ন কারণে হতে পারে এবং এর ধরণও ভিন্ন হতে পারে।

চুল পড়ার কারণগুলো হলো:

১। হরমোনাল পরিবর্তন (যেমন: গর্ভধারণ, প্রসবের পর, মেনোপজ)।

২। পুষ্টিহীনতা (যেমন: আয়রন বা প্রোটিনের অভাব)।

৩। স্ট্রেস বা মানসিক চাপ।

৪। উচ্চ জ্বর, ইনফেকশন বা গুরুতর অসুস্থতা থেকে সুস্থ হওয়া।

৫। ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।

৬। অটোইমিউন ডিজঅর্ডার।

৭। স্কাল্পের বিভিন্ন রোগ (যেমন: সোরিয়াসিস, ফাঙ্গাল ইনফেকশন)।

৮। অত্যধিক চুল বাঁধা বা স্টাইলিংয়ের কারণে ট্র্যাকশন অ্যালোপেসিয়া।

চুল পড়ার বিভিন্ন কারণ বা প্রভাবক

১) মাথার ত্বকের বিভিন্ন রোগ: স্কাল্পের ফাঙ্গাল সংক্রমণ (যেমন: টিনিয়া ক্যাপিটিস), সেবোরিয়া (খুশকি), স্কাল্পের একজিমা, অথবা লাইখেন প্ল্যানাসের মতো চর্মরোগের কারণে চুল পড়তে পারে।

২) জেনেটিক কারণ: বংশগতির ভূমিকা রয়েছে, যা চুল পড়ার অন্যতম প্রধান কারণ।

৩) হরমোনাল পরিবর্তন: প্রসবের পরবর্তী সময় বা মেনোপজের মতো সময়ে হরমোনের পরিবর্তনের ফলে চুল পড়তে পারে।

৪) পুষ্টিহীনতা: আয়রনের অভাবে রক্তশূন্যতা (অ্যানিমিয়া) এবং প্রোটিনের অভাবে চুলের স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা চুল পড়ার কারণ হতে পারে।

৫) তীব্র জ্বর থেকে সেরে ওঠা: টাইফয়েড, এরিসিপেলাসের মতো তীব্র জ্বর থেকে সুস্থ হওয়ার পর চুলের ব্যাপক ঝরে পড়া দেখা যায়।

৬) ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: উচ্চ রক্তচাপ, জয়েন্টের ব্যথা, ক্যান্সার বা বিষণ্নতা নিরাময়ের ওষুধের কারণে চুল পড়তে পারে। কেমোথেরাপির ফলে ক্যান্সার রোগীর চুল পড়ার অবস্থাকে অ্যাজেন এফ্লুভিয়াম বলা হয়।

৭) শারীরিক আঘাত বা ট্রমা: মাথায় আঘাত বা দুর্ঘটনার ফলে চুল পড়া দেখা দিতে পারে।

৮) মানসিক আঘাত: দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ বা পরিবারের কোনো সদস্য বা প্রিয়জনকে হারানোর শোকের ফলে চুল পড়তে পারে।

৯) সাধারণ শারীরিক অসুস্থতা: ডায়াবেটিস, টিউবারকিউলোসিস, হাইপোথাইরয়েডিজম, বা এইডসের মতো রোগের কারণে চুল পড়া হতে পারে।

১০) অটোইমিউন-সম্পর্কিত চুল পড়া: এ অবস্থায় শরীরের ইমিউন কোষগুলো ভুলবশত চুলের কোষগুলোকে বিদেশি পদার্থ মনে করে ধ্বংস করে ফেলে।

১১) চুল বাঁধার স্টাইল এবং রাসায়নিকের ব্যবহার: টাইট ব্রেইড বা পনিটেলের মতো স্টাইলিংয়ের ফলে চুলের গোড়ায় অতিরিক্ত টান পড়ায় ট্র্যাকশন অ্যালোপেসিয়া হতে পারে। এছাড়াও, চুল রং করা বা স্ট্রেইটনারের অযাচিত ব্যবহারে চুল দুর্বল হয়ে যায়।

১২) ট্রাইকোটিলোম্যানিয়া: এটি একটি মানসিক ব্যাধি, যেখানে আক্রান্ত ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে নিজের মাথার চুল টেনে বের করেন।

চুল পড়া রোধ করতে যুগান্তকারী সমাধান পেতে ফোন করুন 01521398941