Tag: ডায়াবেটিস

  • হার্ট অ্যাটাকে দিনে ৭০০ মানুষের মৃত্যু হয়

    হার্ট অ্যাটাকে দিনে ৭০০ মানুষের মৃত্যু হয়

    দেশে প্রতিদিন হার্ট অ্যাটাকে অন্তত সাতশ মানুষের মৃত্যু। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসসহ অসংক্রামক রোগ (এনসিডি) নিয়ে মানুষের মধ্যে এখনও পর্যাপ্ত সচেতনতা নেই। সংক্রামক রোগের পাশাপাশি এসব অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধেও সমান গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।

    বুধবার (২২ এপ্রিল) সকালে খুলনা সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে ‘খুলনা জেলায় ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে কেন্দ্র করে এনসিডি মোকাবিলা মডেলের প্রচার ও বাস্তবায়ন’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

    সেমিনারে বক্তারা উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে প্রতিদিন এক চামচের বেশি লবণ ও পাঁচ চামচের বেশি চিনি গ্রহণ না করার পরামর্শ দেন। পাশাপাশি প্রতিদিন তিন বেলা খাবারের পর ১০ মিনিট করে মোট ৩০ মিনিট হাঁটার অভ্যাস গড়ে তোলার ওপর জোর দেন।

    খুলনা সিভিল সার্জন কার্যালয় ও এশিয়া আর্সেনিক নেটওয়ার্কের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মো. মুজিবুর রহমান। তিনি বলেন, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ক্যান্সার, প্রতিবন্ধিতা ও মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যাসহ অসংক্রামক রোগ বর্তমানে বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি হিসেবে দেখা দিয়েছে।

    এসব রোগ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থাপনা ছাড়া অকালমৃত্যু কমানোর কোনো বিকল্প নেই।

    মুজিবুর রহমান আরও বলেন, একসময় সংক্রামক রোগ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে মনে করে কিছুটা উপেক্ষা করা হয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতি হাম পরিস্থিতি প্রমাণ করে-স্বাস্থ্যখাতে কোনো বিষয়ই অবহেলা করার সুযোগ নেই। এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া, যেখানে নিয়মিত কার্যক্রম, মনিটরিং ও টেকসই বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

    খুলনা বিভাগীয় এই স্বাস্থ্য পরিচালক জানান, খুলনা বিভাগে চলমান হাম টিকাদান কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী প্রায় ১৬ লাখ শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৯৬-৯৭ শতাংশ অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শতভাগ কভারেজ নিশ্চিত করতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

    এশিয়া আর্সেনিক নেটওয়ার্কের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. শেখ আখতার আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন ডা. মো. এ সালাম, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এনসিডি প্রোগ্রামের ফোকাল পারসন ডা. রাহাত ইকবাল চৌধুরী এবং বাংলাদেশে জাপানি মিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি শিনজু কারাওয়াসা। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন খুলনার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মো. মিজানুর রহমান প্রমুখ।

  • ক্ষুধা বৃদ্ধির কারণ-লক্ষণ, নিয়ন্ত্রণ যেভাবে

    ক্ষুধা বৃদ্ধির কারণ-লক্ষণ, নিয়ন্ত্রণ যেভাবে

    ক্ষুধা বৃদ্ধি (Increased appetite) একটি স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া হলেও এটি যদি নিয়মিত বা অস্বাভাবিকভাবে দেখা যায়, তবে তা উদ্বেগের বিষয় হতে পারে। চিকিৎসা বিজ্ঞানে এটিকে হাইপারফ্যাজিয়া (Hyperphagia) অথবা পলিফ্যাজিয়া (Polyphagia) বলা হয়। সাধারণত, শরীরের শক্তি চাহিদা বৃদ্ধি পেলে ক্ষুধা বৃদ্ধি পায়। তবে, অনেক ক্ষেত্রে এটি কোনো অন্তর্নিহিত রোগের লক্ষণ হিসেবেও প্রকাশ পায়। এই প্রতিবেদনে ক্ষুধা বৃদ্ধির কারণ, উপসর্গ, চিকিৎসা পদ্ধতি (বিশেষত হোমিওপ্যাথিক) এবং প্রতিরোধমূলক দিক নিয়ে আলোচনা করা হলো।

    ক্ষুধা বৃদ্ধির সাধারণ কারণসমূহ
    ক্ষুধা বৃদ্ধি মাঝে মাঝে হরমোন, জীবনধারা, বা খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনের ফলে হয়ে থাকে। নিচে ক্ষুধা বৃদ্ধির সম্ভাব্য কিছু সাধারণ কারণ তুলে ধরা হলো:

    1. শারীরিক পরিশ্রম: অতিরিক্ত ব্যায়াম বা পরিশ্রমের ফলে শরীর অধিক ক্যালোরি চায়, ফলে ক্ষুধা বাড়ে।
    2. অপর্যাপ্ত ঘুম: ঘুমের অভাবে লেপ্টিন এবং ঘ্রেলিন নামক হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়, যা ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ করে।
    3. মানসিক চাপ: কর্টিসোল হরমোন বৃদ্ধি পেলে ক্ষুধাও বেড়ে যায়।
    4. খাদ্যতালিকাগত ত্রুটি: কম প্রোটিন বা কম ফ্যাটযুক্ত খাদ্য ক্ষুধা তাড়াতাড়ি বাড়িয়ে দিতে পারে।
    5. বয়ঃসন্ধি ও বৃদ্ধির সময়: বাচ্চা ও কিশোর-কিশোরীদের জন্য এটি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।
    6. অস্ত্রোপচারের পর: পুনরুদ্ধারের সময় শরীর অধিক পুষ্টি চায়।

    ক্ষুধা বৃদ্ধির পেছনে গোপন চিকিৎসাগত কারণসমূহ
    ১. হাইপারথাইরয়েডিজম ও গ্রেভস রোগ
    থাইরয়েড গ্রন্থি অতিরিক্ত থাইরক্সিন হরমোন উৎপন্ন করলে বিপাকক্রিয়া বেড়ে যায়, ফলে ক্ষুধা বেড়ে যায়। উপসর্গের মধ্যে রয়েছে:
    • ওজন হ্রাস
    • নার্ভাসনেস
    • ঘাম
    • অনিয়মিত হৃদস্পন্দন
    • ক্লান্তি
    ২. ডায়াবেটিস মেলিটাস
    রক্তে শর্করার ভারসাম্যহীনতা ক্ষুধা বৃদ্ধি করে। ডায়াবেটিসের অন্যান্য লক্ষণ:
    • অতিরিক্ত তৃষ্ণা
    • ঘন ঘন প্রস্রাব
    • দুর্বলতা
    • ওজন হ্রাস
    ৩. বুলিমিয়া নার্ভোসা
    এটি একটি খাওয়া-সংক্রান্ত মানসিক ব্যাধি যেখানে একজন ব্যক্তি অতিরিক্ত খাবার খেয়ে নিজেকে বমি করিয়ে দেন। উপসর্গ:
    • বিষণ্ণতা
    • ওজন নিয়ে আতঙ্ক
    • দাঁতের ক্ষতি
    • গ্যাস্ট্রিক সমস্যা
    ৪. মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা
    • বিষণ্ণতা: অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়।
    • উদ্বেগ: ক্ষুধা বেড়ে যেতে পারে।
    ৫. হাইপোগ্লাইসেমিয়া
    রক্তে শর্করার মাত্রা কমে গেলে ক্ষুধা বাড়ে, যা জীবনঘাতীও হতে পারে।
    ৬. নারীদের বিশেষ শারীরবৃত্তীয় অবস্থা
    • গর্ভাবস্থা
    • স্তন্যদান
    • PMS (প্রিমেনস্ট্রুয়াল সিনড্রোম)
    ৭. ওষুধজনিত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
    • অ্যান্টিডিপ্রেসেন্টস
    • কর্টিকোস্টেরয়েড

    ক্ষুধা বৃদ্ধির উপসর্গসমূহ
    ক্ষুধা বৃদ্ধির পাশাপাশি অন্যান্য কিছু উপসর্গ প্রকাশ পেতে পারে, যেমন:
    • পেট ফুলে থাকা
    • বারবার খাওয়ার ইচ্ছা
    • উদ্বেগ বা মানসিক অস্থিরতা
    • তৃষ্ণা বৃদ্ধি
    • ঘাম
    • মাথাব্যথা
    • বুক জ্বালা
    • ঘন ঘন প্রস্রাব
    • বমি বা বমি বমি ভাব
    • ওজন হ্রাস বা বৃদ্ধি
    • ক্লান্তি

    হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা: ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে বিকল্প পদ্ধতি
    হোমিওপ্যাথি একটি প্রাকৃতিক ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন চিকিৎসা পদ্ধতি যা ব্যক্তির সামগ্রিক লক্ষণ বিবেচনা করে চিকিৎসা প্রদান করে। নিচে ক্ষুধা বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে প্রমাণিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ হোমিওপ্যাথিক ওষুধের তালিকা দেওয়া হলো:
    ১. আয়োডাম (Iodum)
    • ক্ষুধা অত্যধিক এবং ঘন ঘন খাওয়ার প্রয়োজন হয়।
    • খাওয়ার পর ভালো বোধ করেন, কিন্তু ওজন হ্রাস পায়।
    • হাইপারথাইরয়েডিজমের ক্ষেত্রে উপকারী।
    ২. চীন (China)
    • খাওয়ার পরপরই ক্ষুধা অনুভব হয়।
    • পেটে শূন্যতার অনুভূতি থাকে।
    • অতিরিক্ত খাওয়ার পরও ওজন বৃদ্ধি পায় না।
    ৩. লাইকোপোডিয়াম (Lycopodium)
    • অতিরিক্ত খাওয়ার পর পেট ফুলে যায়।
    • নির্দিষ্ট সময়ে না খেলে মাথাব্যথা হয়।
    • তীব্র খাবারের আকাঙ্ক্ষা দেখা যায়।
    ৪. ব্রায়োনিয়া (Bryonia)
    • ঘন ঘন খাওয়ার ইচ্ছা এবং ঠান্ডা পানির তৃষ্ণা।
    • মিষ্টি ও টক জাতীয় খাবারে আকর্ষণ।
    ৫. সালফার (Sulphur)
    • খাওয়ার দেরি হলে মাথাব্যথা হয়।
    • দুর্বলতা, শুয়ে থাকার ইচ্ছা, মিষ্টির প্রতি আকর্ষণ।
    ৬. অ্যালুমিন (Alumina)
    • পেট ভরা থাকা সত্ত্বেও ক্ষুধা থাকে।
    • মুখ শুষ্ক ও ঠান্ডা জল খেতে ইচ্ছা হয়।
    ৭. ফসফরাস (Phosphorus)
    • বিশেষত রাতে ক্ষুধা বৃদ্ধি পায়।
    • ঠান্ডা খাবার ও মশলাদার খাবারের আকর্ষণ।
    ৮. ন্যাট্রাম মুর (Natrum Mur)
    • বিষণ্ণতার সঙ্গে ক্ষুধা বৃদ্ধি।
    • দুপুরের দিকে তীব্র ক্ষুধা, তারপর দুর্বলতা।
    ৯. হিং (Asafoetida / Hing)
    • পেটের উপরিভাগে ব্যথা ও গ্যাসের সমস্যা।
    • ঢেকুরের মাধ্যমে গ্যাস নির্গত হয়।
    ১০. ম্যাগনেসিয়া মুর (Magnesia Mur)
    • অতিরিক্ত ক্ষুধা থাকলেও কী খেতে হবে তা বুঝতে না পারা।
    • বমি বমি ভাব।
    ১১. ক্যালি ফস (Kali Phos)
    • বিষণ্ণতা ও ক্লান্তির সাথে ক্ষুধা বৃদ্ধি।
    • প্রতি ঘণ্টায় খাওয়ার ইচ্ছা।

    ক্ষুধা বৃদ্ধি রোধে বা নিয়ন্ত্রণে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ:
    • পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা
    • হাই প্রোটিন ও হেলদি ফ্যাট সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া
    • নিয়মিত ব্যায়াম করা
    • স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট (যেমন মেডিটেশন, যোগ)
    • পানি খাওয়ার পরিমাণ বাড়ানো
    • খাবার সময় নির্ধারণ করে খাওয়া
    • মুঠোফোন বা টিভি ছাড়াই খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা যাতে মস্তিষ্ক খাওয়ার পরিপূর্ণতা অনুভব করতে পারে

    উপসংহার
    ক্ষুধা বৃদ্ধি একটি জটিল প্রক্রিয়া যা শরীরের ভেতরে এবং বাইরে উভয় উপাদান দ্বারা প্রভাবিত হতে পারে। যদিও এটি কখনো কখনো স্বাভাবিক, তবে এটি যদি দীর্ঘস্থায়ী, তীব্র বা অন্যান্য উপসর্গের সাথে যুক্ত হয়, তবে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। হোমিওপ্যাথি এই সমস্যায় এক নিরাপদ, প্রাকৃতিক এবং ব্যক্তিকেন্দ্রিক সমাধান প্রদান করতে পারে। তবে কোনো গুরুতর রোগের সম্ভাবনা থাকলে প্রচলিত চিকিৎসার সহায়তা গ্রহণ অত্যাবশ্যক।

  • দেশের ৪ কোটি মানুষ ব্যথাজনিত সমস্যায় ভুগছেন

    দেশের ৪ কোটি মানুষ ব্যথাজনিত সমস্যায় ভুগছেন

    দিনকে দিন বিশ্বজুড়ে বাড়েছে ব্যথার কষ্টে ভোগা মানুষের সংখ্যা। এছাড়াও ১ কোটি ৬ লাখ মানুষ লাম্বার স্পন্ডাইলোসিসে ভুগছেন। গ্লোবাল বার্ডেন অফ ডিজিজের সাম্প্রতিক এক গবেষণা বলছে, বিশ্বে প্রতি পাঁচজন মানুষের মধ্যে একজন কোনো না কোনো ধরনের ব্যথাজনিত সমস্যায় ভুগছেন—হোক তা গিরা, পেশী কিংবা হাড়ের। প্রতি বছর নতুন করে যুক্ত হচ্ছেন প্রায় ৩ কোটিরও বেশি মানুষ। বাংলাদেশও পিছিয়ে নেই এই উদ্বেগজনক চিত্র থেকে। ‘কমিউনিটি ওরিয়েন্টেড প্রোগ্রাম ফর কন্ট্রোল অব রিউমেটিক ডিসিজ’ (কপকর্ড)-এর গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে প্রায় ৪ কোটি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ এ ধরনের ব্যথাজনিত সমস্যায় আক্রান্ত।

    আজ শনিবার (৯ আগস্ট) রাজধানীর শহীদ আবু সাইদ কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এক সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানে বাতব্যথা সংক্রান্ত এই ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরা হয়।

    বাত-ব্যথা সংক্রান্ত তথ্য-উপাত্ত নিয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পিএনআরএফআর ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান ও এম এইচ শমরিতা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. নীরা ফেরদৌস।

    বাত-ব্যথা রোগীদের জন্য কাজ করা সংগঠন প্রফেসর নজরুল রিউমাটোলজি ফাউন্ডেশন অ্যান্ড রিসার্চ (পিএনআরএফআর) ট্রাস্টের পক্ষ থেকে নবমবারের মতো এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে দিনভর বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ, প্রশ্ন উত্তরের মাধ্যমে সমস্যার সমাধানসহ রোগীদের হাতে কলমে ব্যায়াম শেখানো হয়।

    চিকিৎসকরা বলেন, দেশে দিনে দিনে বাতব্যথাজনিত রোগী বাড়লেও সেই তুলনায় বাতরোগ বিশেষজ্ঞ দক্ষ চিকিৎসক নেই। ফলে অনেক রোগী অপচিকিৎসার শিকার হচ্ছেন। সরকারের উচিত এই দিকে নজর দেয়া।

    তথ্য অনুযায়ী, দেশে রিউমাটয়েড আর্থারাইটিসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা সাড়ে ১৭ লাখের মতো। বিশ্বে প্রতি বৎসর এই রোগে প্রতি লাখে প্রায় ৪০ জন নারী ও ২০ জন পুরুষ আক্রান্ত হচ্ছেন। সে হিসেবে দেশে প্রতি বৎসর প্রায় রিউমাটয়েড সাড়ে ৬ হাজার নতুন রোগী বাড়ছে।

    গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে মানসিক রোগীর পর শারীরিক অক্ষমতা নিয়ে যারা বেঁচে থাকে তাদের মধ্যে বাতরোগের অবস্থান দ্বিতীয়।

    অন্যদিকে মূল প্রবন্ধের তথ্য অনুযায়ী, স্পন্ডাইলো আর্থ্রাইটিসের প্রাদুর্ভাবও দেশে কম নয়। এই রোগে সাড়ে ১২ লাখের মতো মানুষ ভুগছে। সোরিয়েটিক আর্থ্রাইটিসের সমস্যাও উদ্বেগজনক। প্রতিবছর এই সমস্যার রোগী বাড়ছে। আর গাউট রোগের প্রাদুর্ভাবও কম নয়। দেশে প্রায় সাড়ে ৫ লাখ মানুষ গাউট রোগে ভুগছেন। আর হাইপার ইউরেসেমিয়াতে (ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে যাওয়া) ভুগছেন প্রায় দেড় কোটি মানুষ।

    এদিকে বয়সজনিত বাতের রোগ হাঁটুর অস্টিওআর্থ্রাইটিসে ভুগছেন দেশের প্রায় সোয়া কোটি মানুষ। গবেষণার পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশে এই রোগে আক্রান্ত প্রায় সোয়া ১ কোটি মানুষ। আর নতুন করে প্রতি বছরে আক্রান্ত হচ্ছেন কমপক্ষে ১৩ লাখ মানুষ।

    অন্যদিকে, কোমড় বাতব্যথা (লাম্বার স্পন্ডাইলোসিস) দেশে বয়সজনিত কোমরের বাত এর প্রাদুর্ভাব ১০ভাগ। অর্থাৎ ১ কোটি ৬ লাখ মানুষ এই সমস্যায় ভুগছেন। আর নতুন করে প্রতিবছর আক্রান্ত হচ্ছেন ৩ লাখের মতো রোগী।

    ২০২২ সালের গণশুমারি অনুযায়ী বর্তমানে দেশে ৫০ বছরের ঊর্ধ্বে প্রায় ৩ কোটি মানুষ বসবাস করছে। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে প্রায় ২০ শতাংশ মানুষ অস্টিওপোরোসিস রোগে ভুগছেন। সে হিসেবে দেশে প্রায় ৬০ লাখ মানুষ এই রোগে ভুগছে।

    হাড়ক্ষয় রোগের ভয়াবহতা নিয়ে বৈজ্ঞানিক সেমিনারে জানানো হয়, বিশ্বে প্রতি ৩ সেকেন্ডে হাড়ক্ষয়জনিত রোগে একটি হাড় ভেঙ্গে যাচ্ছে। এই রোগে আক্রান্ত ৫০ বছরের বেশি প্রতি ৩ জন নারীর ১ জন এবং প্রতি ৫ জন পুরুষের ১ জনের এ রোগে হাড় ভেঙ্গে যাচ্ছে। প্রতি বৎসর হাড় ভাঙ্গার প্রকোপ প্রায় ৯০ লাখ। যা খুবই উদ্বেগের বিষয়। কারণ এই রোগীদের মধ্যে মেরুদণ্ডের হাড় ভাঙ্গার প্রকোপ সবচেয়ে বেশি।এই রোগের কারণে মৃত্যু ঝুঁকি প্রায় ৮ গুন বেড়ে যায়।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পিএনআরএফআরের চেয়ারম্যান, এশিয়া প্যাসিফিক লীগ অব অ্যাসোসিয়েশন ফর রিউমাটোলজি ভাইস প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম।

    তিনি বলেন, দেশে প্রতি ৪ জন মানুষে ১ জন নানা কারণে দরিদ্র হচ্ছেন। এরমধ্যে চিকিৎসায় মানুষের ব্যয় অনেক বেশি। অথচ এই ক্ষেত্রে সহযোগিতা নেই বললেই চলে। ব্যথার কষ্টে ভোগা মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চিন্তা থেকে আমাদের যাত্রা শুরু। এই কার্যক্রমে যারা পাশে থেকে অনুপ্রাণিত করছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা।

    অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন মেডিসিন ও ডায়াবেটিস, থাইরয়েড রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. নাসিম আক্তার চৌধুরী, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সদস্য মো. মুনির হোসেন, মেজর জেনারেল কাজী ইফতেখার-উল-আলম, রোটারি ক্লাব ঢাকার সাবেক প্রেসিডেন্ট শেখ নাহার মাহমুদ, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) এর চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম, ফাউন্ডেশনের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক আমিনুর রহমান সাব্বির, পিএনআরএফআরের সেক্রেটারি জেনারেল ড. পিযুষ কান্তি বিশ্বাস।

    এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম, যুগ্ম সচিব ড. আমিনুল ইসলাম, ডেপুটি-সেক্রেটারি ডা. বর্ষা ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ বাধন দাস, কার্যনির্বাহী সদস্য মো. এনামুল হক, এম এফ ইসলাম মিলন, বোরহান উদ্দিন, সামিউল হক, জোবায়ের আহমেদ, মো. খোকন প্রমুখ ।

    অনুষ্ঠানে মেধাবী শিক্ষার্থীদের হাতে শিক্ষা বৃত্তির চেক, একজন কিডনি রোগীর জন্য আর্থিক অনুদানের চেক তুলে দেয়া হয়।

    এছাড়াও গ্রামীণ পিছিয়ে পরা জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে অবদান রাখা সংগঠন ‘হ্যাডস’র নির্বাহী পরিচালক মো. বদরুদ্দোজাকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

  • সন্তান না হওয়ার বা বন্ধ্যাত্বের ২০ কারণ

    সন্তান না হওয়ার বা বন্ধ্যাত্বের ২০ কারণ

    কোনো ধরনের জন্মবিরতিকরণ পদ্ধতি ছাড়া স্বামী-স্ত্রী যদি পূর্ণ এক বছর একসঙ্গে বসবাসের পরও সন্তান ধারণে ব্যর্থ হন, তাকে বন্ধ্যত্ব (ইনফার্টিলিটি) বলা হয়।

    বন্ধ্যত্ব দুই ধরনের। প্রাইমারি— যাদের কখনো সন্তান হয়নি। সেকেন্ডারি— যাদের আগে গর্ভধারণ হয়েছে, কিন্তু পরে আর হচ্ছে না।

    দম্পতিরা বন্ধ্যত্ব মোকাবেলায় কোন চিকিৎসা পদ্ধতি অনুসরণ করা উচিত তা নিয়ে দ্বিধায় পড়েন। আপনি কি এমন পরিস্থিতিতে আছেন, যেখানে সন্তান ধারণ করতে পারছেন না এবং কোন চিকিৎসা পদ্ধতি নিতে হবে তা ঠিক করতে পারছেন না? তাহলে, হোমিওপ্যাথিক ওষুধের মাধ্যমে অনেক আশা এবং স্পষ্ট সুবিধা পাওয়া যেতে পারে।

    হোমিওপ্যাথি বন্ধ্যত্বের চিকিৎসায় নিরাপদ, সফল এবং কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়া একটি ভালো পদ্ধতি। কারণ এই ওষুধগুলো শরীরের নিজস্ব প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে বন্ধ্যত্বের সমস্যাকে মোকাবেলা করতে সহায়ক, যা সাধারণ চিকিৎসার তুলনায় তুলনামূলকভাবে নিরাপদ এবং কম আক্রমণাত্মক। এর প্রধান সুবিধা হলো যে এই ওষুধগুলো প্রাকৃতিক উপাদান থেকে প্রস্তুত করা হয়, যা টক্সিনমুক্ত।

    তবে, প্রথমে এই সমস্যাটি চিহ্নিত করা জরুরি। বন্ধ্যত্বকে সাধারণভাবে এমন একটি অবস্থা হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়, যেখানে একজন দম্পতি এক বছর বা তার বেশি সময় ধরে নিয়মিত অরক্ষিত যৌন সম্পর্ক সত্ত্বেও গর্ভবতী হতে পারেন না (যদি মহিলার বয়স ৩৫ বছরের বেশি হয়, তাহলে ৬ মাসের মধ্যে চিকিৎসা নেওয়া উচিত)। এই সময়ের মধ্যে গর্ভধারণ না হলে, চিকিৎসা সহায়তা নেওয়া প্রয়োজন। বন্ধ্যত্বের কারণ পুরুষ বা মহিলার মধ্যে যেকোনো একজনে হতে পারে, আবার ২০ শতাংশ ক্ষেত্রে উভয়েরই কারণ থাকতে পারে। এই সমস্যার সবচেয়ে বড় পরিণতি হলো মানসিক এবং সামাজিক অক্ষমতা, যেটি একটি দম্পতি সন্তানের অভাবে ভোগে। হোমিওপ্যাথি একটি দম্পতির জন্য বন্ধ্যত্বের সমস্যায় অনেক আশা প্রদান করে।

    বন্ধ্যত্বের হোমিওপ্যাথিক ওষুধ: হোমিওপ্যাথি বন্ধ্যত্বের চিকিৎসা মূলত একটি বিস্তারিত কেস বিশ্লেষণের পরে সবচেয়ে উপযুক্ত সংবিধানগত হোমিওপ্যাথিক ওষুধের মাধ্যমে করা হয়। একটি বিস্তারিত কেস বিশ্লেষণে রোগীর সাধারণ শারীরিক এবং মানসিক সংবিধান, যৌন অঙ্গের উপসর্গ এবং এমনকি সেই মৌলিক কারণগুলি অন্তর্ভুক্ত থাকে যা বন্ধ্যত্বের প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করছে এবং সেগুরো ঠিক করতে হবে। হোমিওপ্যাথি বন্ধ্যত্বের জন্য প্রাকৃতিক ওষুধ যা রোগীর ইমিউনিটি বাড়িয়ে এবং শরীরের অঙ্গগুলিকে সচল করে বন্ধ্যত্বের বাঁধাগুলো দূর করতে সহায়ক।

    নারী বন্ধ্যত্বের জন্য হোমিওপ্যাথিক ওষুধ:

    অ্যাসিড ভ্যাজিনাল ডিসচার্জের কারণে নারীদের বন্ধ্যত্ব:

    বোরাক্স এবং নাট্রাম ফস হলো সেরা ওষুধ।

    বোরাক্স ব্যবহৃত হয় যখন ভ্যাজিনাল ডিসচার্জ অ্যাক্রিড, ক্ষতিকর এবং শুক্রাণু হত্যা করে।

    নাট্রাম ফস ব্যবহৃত হয় যখন মধুর এবং স্যাঁতসেঁতে, ক্রীমি গন্ধযুক্ত, অ্যাক্রিড এবং দূর্গন্ধযুক্ত ভ্যাজিনাল ডিসচার্জ থাকে।

    প্রচুর বা দীর্ঘকালীন মাসিকের কারণে নারী বন্ধ্যত্ব:

    ক্যালসেরিয়া কার্ব এবং আলেট্রিস ফারিনোসা হলো উপযুক্ত ওষুধ।

    ক্যালসেরিয়া কার্ব ব্যবহৃত হয় যখন মাসিক প্রচুর এবং দীর্ঘস্থায়ী হয়।

    আলেট্রিস ফারিনোসা ব্যবহৃত হয় যেখানে প্রাথমিক এবং প্রচুর মাসিক হয় এবং বন্ধ্যত্বের সমস্যা থাকে।

    সংক্ষিপ্ত বা অল্প মাসিকের কারণে নারীদের বন্ধ্যত্ব:

    পালসেটিলা এবং সিপিয়া হলো উপযুক্ত ওষুধ।

    পালসেটিলা ব্যবহৃত হয় যখন মহিলাদের মাসিক নিয়মিত নয় এবং তা খুবই কম।

    সিপিয়া ব্যবহৃত হয় যখন মাসিক কম এবং বন্ধ্যত্বের সমস্যা হয়।

    যৌন ইচ্ছার অভাবের কারণে নারীদের বন্ধ্যত্ব:

    অ্যাগ্নাস কাস্টাস এবং সিপিয়া ব্যবহৃত হয়।

    অ্যাগ্নাস কাস্টাস ব্যবহৃত হয় যখন যৌন ইচ্ছা কম থাকে।

    সেপিয়া ব্যবহৃত হয় যখন যৌন ইচ্ছা কম এবং যোনি শুষ্ক এবং যৌন সম্পর্কের সময় ব্যথা থাকে।

    শুক্রাণু ধারণে অক্ষমতার কারণে নারীদের বন্ধ্যত্ব:

    নাট্রাম কার্ব ব্যবহৃত হয়। এটি শুক্রাণু ধারণ করতে অক্ষম মহিলাদের জন্য কার্যকরী।

    পুরুষদের বন্ধ্যত্বের জন্য হোমিওপ্যাথিক ওষুধ:

    পুরুষদের ইরেক্টাইল ডিসফাংশনের কারণে বন্ধ্যত্ব:

    অ্যাগ্নাস কাস্টাস, ক্যালাডিয়াম এবং সেলেনিয়াম হলো সেরা ওষুধ।

    অগ্নাস কাস্টাস ব্যবহৃত হয় যখন যৌন ইচ্ছা এবং শারীরিক সক্ষমতা উভয়ই অনুপস্থিত থাকে।

    পুরুষদের কম শুক্রাণু সংখ্যা:

    এক্স রে সবচেয়ে কার্যকরী।

    পুরুষদের অর্কাইটিসের কারণে বন্ধ্যত্ব:

    কনিয়াম সেরা ওষুধ।

    পুরুষদের অণ্ডকোষের অপচয় (ওয়েস্টিং) কারণে বন্ধ্যত্ব:

    সাবাল সেরুলাটা সেরা ওষুধ।

    বন্ধ্যত্বের কারণ:

    পুরুষদের মধ্যে:

    ১। ছোট বা অবনমিত অণ্ডকোষ,
    ২। অণ্ডকোষে আঘাত,
    ৩। অস্বাভাবিক/কম শুক্রাণু সংখ্যা,
    ৪। ইরেক্টাইল ডিসফাংশন,
    ৫। অকাল বীর্যপাত,
    ৬। প্রস্টেটাইটিস,
    ৭। অর্কাইটিস,
    ৮। ভেরিকোসিল,
    ৯। যৌন সংক্রমণ (যেমন ক্ল্যামিডিয়া, গনোরিয়া),
    ১০। বীর্যনাল নালী/এজাকুলেটরি ডাক্ট অবস্ট্রাকশন।

    নারীদের বন্ধ্যাত্বের কারণ-

    ১। জরায়ু/গর্ভাশয়ের গঠনগত ত্রুটি,
    ২। এন্ডোমেট্রিয়োসিস,
    ৩। পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম (PCOS),
    ৪। অনিয়মিত মাসিক,
    ৫। হরমোনের অস্বাভাবিকতা,
    ৬। পেলভিক ইনফ্ল্যামেটরি ডিজিজ (যেমন ক্ল্যামিডিয়া, গনোরিয়া),
    ৭। জরায়ু ফাইব্রয়েড,
    ৮। পেলভিক টিবি,
    ৯। পেলভিক অ্যাডহেসন,
    ১০। থাইরয়েড সমস্যা।

    নারী/পুরুষের দুজনের কারণে বন্ধ্যত্ব-

    ক। বয়সের পরিবর্তন,
    খ। স্থূলতা,
    গ। অ্যালকোহল সেবন,
    ঘ। ধূমপান,
    ঙ। ডায়াবেটিস,
    চ। মানসিক চাপ,
    ছ। রেডিয়েশনে এক্সপোজার,
    জ। কিছু ওষুধের সেবন।