Tag: ক্যানসার

  • ক্যানসার দমনে বিজ্ঞানীদের নতুন অস্ত্র ‘ইরাডেক’

    ক্যানসার দমনে বিজ্ঞানীদের নতুন অস্ত্র ‘ইরাডেক’

    বিজ্ঞানীরা ক্যানসারসহ দুরারোগ্য ব্যাধি নিরাময়ে কোষের ভেতরের এক প্রাকৃতিক ‘প্রোটিন ধ্বংসকারী’ ব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছেন। ‘ইরাডেক’ নামক এই নতুন কৌশলে কোষের নিজস্ব ‘এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম-সম্পর্কিত ডিগ্রেডেশন’ প্রক্রিয়াকে ব্যবহার করে সুনির্দিষ্ট রোগসৃষ্টিকারী ক্ষতিকর প্রোটিন ধ্বংস করা সম্ভব।

    গবেষণায় দেখা গেছে, একটি ক্ষুদ্র অণুর সাহায্যে এই প্রাকৃতিক ব্যবস্থাকে ‘হাইজ্যাক’ করে ক্যানসার কোষের সুরক্ষাকবচ হিসেবে পরিচিত পিডি-এল১ প্রোটিনকে টার্গেট করা যায়। প্রচলিত ইনজেকশন বা অ্যান্টিবডি থেরাপির চেয়ে এই পদ্ধতিতে টিউমার সংকুচিত করার হার অনেক বেশি কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে। বিজ্ঞানীরা একে বিশেষ করে ‘ট্রান্সমেমব্রেন প্রোটিন’ ধ্বংসে গেম-চেঞ্জার হিসেবে দেখছেন।

    সবচেয়ে আশার কথা হলো, এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ভবিষ্যতে ইনজেকশনের বদলে মুখে খাওয়ার ওষুধ বা ট্যাবলেট তৈরি করা সম্ভব হবে। ফলে আলঝেইমার বা দীর্ঘস্থায়ী ব্যথার মতো রোগের চিকিৎসা রোগীরা ঘরে বসেই করতে পারবেন। এতে হাসপাতালের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং চিকিৎসার খরচও সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে চলে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

  • ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়ক যে ৩ সবজি

    ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়ক যে ৩ সবজি

    পরিবেশে দূষণের মাত্রা বৃদ্ধি এবং দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসে অস্বাস্থ্যকর উপাদানের ব্যবহার বাড়ার ফলে ক্যানসারের ঝুঁকি এখন অনেকটাই বেশি। চিকিৎসকদের মতে, অনেক সময় আমাদের কিছু দৈনন্দিন অভ্যাসই ক্যানসারের জন্য দায়ী। তাই সচেতন হয়ে এখন থেকেই ক্যানসার প্রতিরোধের অভ্যাস গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।

    বাজারে সহজে পাওয়া যায় এমন কিছু সবজি রয়েছে, যেগুলোর মধ্যে প্রাকৃতিকভাবেই ক্যানসার প্রতিরোধী ক্ষমতা বিদ্যমান। এই সবজিগুলো নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখলে রোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। নিচে এমন তিনটি সবজির উপকারিতা তুলে ধরা হলো:

    ১. গাজর: গাজরে প্রচুর পরিমাণে বিটা ক্যারোটিন থাকে, যা মূলত এক ধরনের ভিটামিন ‘এ’। এই উপাদানটি দেহের ‘অক্সিডেটিভ স্ট্রেস’ কমাতে সাহায্য করে, ফলে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এছাড়াও, গাজরে উচ্চ মাত্রায় ফাইবার বা আঁশ থাকে, যা পেট পরিষ্কার রাখতে সহায়ক। এর ফলে পাকস্থলী ও মলাশয়ের ক্যানসারের ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায়।

    ২. রসুন: রসুনের অসংখ্য স্বাস্থ্যগুণের মধ্যে অন্যতম হলো এর ক্যানসার প্রতিরোধী ক্ষমতা। এতে থাকা ‘অ্যালিসিন’ নামের একটি যৌগ ক্যানসার কোষ ধ্বংসে সাহায্য করে এবং শরীরের ডিএনএ-এর গঠন অক্ষুণ্ণ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে এর গুণাগুণ ধরে রাখার জন্য রান্নার প্রক্রিয়া জরুরি। বেশি আঁচে রান্না করলে রসুনের এই উপকারী গুণ নষ্ট হয়ে যায়। তাই কাঁচা রসুন বা থেঁতো করে নেওয়ার ১০ মিনিটের মধ্যে এটি গ্রহণ করা সবচেয়ে উপকারী।

    ৩. ব্রকলি: সবুজ সবজিগুলোর মধ্যে ব্রকলি হলো অন্যতম পুষ্টিকর একটি সবজি। এর মধ্যে সালফোরাফেন নামক একটি যৌগ থাকে, যা ক্যানসার কোষের বৃদ্ধি রোধ করতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। গবেষণা অনুসারে, বড় আকারের ব্রকলির তুলনায় ছোট ব্রকলিতে এই উপাদানের পরিমাণ বেশি থাকে। তাই নিয়মিত খাদ্যতালিকায় ছোট ব্রকলি রাখা আরও বেশি উপকারী।

  • যে ৫ রোগের চিকিৎসায় বাংলাদেশিরা বিদেশমুখী

    যে ৫ রোগের চিকিৎসায় বাংলাদেশিরা বিদেশমুখী

    বিদেশমুখী রোগীর ঢল: দেশের চিকিৎসায় আস্থা ফিরছে না কেন?
    বাংলাদেশে প্রতিবছর কয়েক লাখ রোগী উন্নত চিকিৎসার খোঁজে বিদেশে যাচ্ছেন। বিশেষ করে কিডনি ও লিভার প্রতিস্থাপন, ক্যানসার, হৃদরোগ ও বন্ধ্যত্বের মতো জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীরা দেশের চিকিৎসা সেবা নিয়ে আস্থা রাখতে পারছেন না। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, চিকিৎসার জন্য বিদেশে গিয়ে রোগীরা প্রতিবছর ব্যয় করছেন পাঁচ বিলিয়ন ডলারের বেশি—যা টাকার অঙ্কে দাঁড়ায় ৬০ থেকে ৭০ হাজার কোটি।

    বিদেশমুখীতার প্রধান কারণ
    স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বছরের পর বছর দেশের চিকিৎসা অবকাঠামো প্রসারিত হলেও গুণগত সেবা ও আধুনিক প্রযুক্তিতে উন্নতি হয়নি। জটিল চিকিৎসা ব্যবস্থায় আইনি জটিলতা, দক্ষ জনবলের ঘাটতি ও আত্মবিশ্বাসের অভাবই রোগীদের বিদেশমুখী করছে। সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে প্রাথমিক সেবা অনেকাংশে পাওয়া গেলেও জটিল রোগে তা যথেষ্ট নয়।

    ভারতের ভিসা বন্ধ, নতুন গন্তব্য চীন
    ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত বিদেশগামী রোগীদের ৮০ শতাংশই যেতেন ভারতে। তবে বিপ্লব-উত্তর সময়ে মেডিকেল ভিসা জটিলতায় ভারতগামী রোগীর পথ বন্ধ হয়ে যায়। এখন অনেকেই চিকিৎসার জন্য যাচ্ছেন থাইল্যান্ড ও সিঙ্গাপুরে। সম্প্রতি নতুন গন্তব্য হিসেবে যুক্ত হয়েছে চীনের কুনমিং। দেশটির সরকার ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশি রোগীদের জন্য বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে। মার্চ থেকে প্রতি মাসে ৪০-৫০ জন বাংলাদেশি সেখানে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

    আস্থাহীনতার কাহিনি
    কিডনি বিকল হওয়া মোক্তার হোসেন দেশে ডোনার পেলেও আইনি জটিলতায় অস্ত্রোপচার সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত গত বছর ভারতে গিয়ে কিডনি প্রতিস্থাপন করাতে হয় তাকে। একইভাবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী জাহিদ শেখ মলদ্বারের ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে রোবটিক সার্জারির প্রয়োজন পড়লেও দেশে সেই সুবিধা না থাকায় বাধ্য হয়ে ভারতে চিকিৎসা নেন। খরচ হয় ৩৬ লাখ টাকা।

    অপচিকিৎসা আর সময় না দেওয়ার অভিযোগও রোগীদের মধ্যে অনাস্থা বাড়াচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, অযথা ইনজেকশন প্রয়োগের কারণে অঙ্গহানি ও মৃত্যুর শিকার হয়েছে শিশু তানভীর।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ৮১ শতাংশ রোগী মনে করেন চিকিৎসকরা যথাযথ সেবা দেন না, ৮৯ শতাংশ রোগীর অভিযোগ চিকিৎসকরা পর্যাপ্ত সময় দেন না, আর ৮৪ শতাংশের দৃষ্টিতে চিকিৎসকদের প্রতি সামগ্রিক ধারণা নেতিবাচক।

    হাসপাতাল মালিকদের অভিযোগ
    ল্যাবএইড হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এএম শামীমের মতে, বাংলাদেশ ক্যানসার ও হৃদরোগ চিকিৎসায় যথেষ্ট উন্নত হলেও সমস্যাটা হলো আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি। তিনি বলেন, আগে এমপি-মন্ত্রীরাও দেশের বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতেন। এখন অনেকেই চিকিৎসার পাশাপাশি ভ্রমণের উদ্দেশ্যে বিদেশে যাচ্ছেন। তবে কিডনি ও লিভার প্রতিস্থাপনে আইনি জটিলতা বড় প্রতিবন্ধক।

    তিনি আরও অভিযোগ করেন, পোশাক শিল্পের মতো স্বাস্থ্য খাত কোনো প্রণোদনা পায় না। উল্টো নানা নিয়ন্ত্রক জটিলতার কারণে বড় বিনিয়োগে অনীহা তৈরি হয়েছে।

    সংস্কার কমিশনের সুপারিশ
    স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশন বলছে, বিদেশমুখিতা কমাতে হলে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। যন্ত্রপাতি আমদানিতে শূন্য শুল্ক, কর ছাড় এবং আর্থিক প্রণোদনা দিতে হবে ঠিক যেমনটি গার্মেন্টস খাত পায়। কিন্তু কমিশনের সুপারিশ এখনো বাস্তবায়ন হয়নি।

    অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আকরাম হোসেন বলেন, এককভাবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষে এই সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। সমন্বিত জাতীয় উদ্যোগ ছাড়া রেমিট্যান্স, পোশাক শিল্প কিংবা ওষুধ খাতের অর্জিত অর্থ বিদেশে চলে যাবে।

    সরকারের অবস্থান
    স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান জানিয়েছেন, বিদেশমুখী প্রবণতা রোধে ইতোমধ্যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে কেবল যন্ত্রপাতি নয়, দক্ষ জনবল তৈরি করাও জরুরি। তিনি বলেন, “যেখানে ঘাটতি আছে, সেখানে হাত দেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্য খাতে এগিয়ে থাকা দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনাও চলছে।”

    সমাধানের পথ কোথায়?
    স্বাস্থ্য অর্থনীতিবিদ ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদের মতে, বিদেশমুখিতা দীর্ঘদিনের সঙ্কট ও আস্থাহীনতার ফল। তাই রাতারাতি এর সমাধান সম্ভব নয়। সরকারের পক্ষ থেকে দূরদর্শী পরিকল্পনা ছাড়া এ প্রবণতা কমানো কঠিন।