Category: জ্বর

  • ডেঙ্গু ও এর ওষুধ

    ডেঙ্গু ও এর ওষুধ

    যেহেতু গত সপ্তাহ থেকে আমি প্রতিদিন ডজন ডজন মেইল ​​পাচ্ছি, যেখানে জানতে চাওয়া হচ্ছে ডেঙ্গু জ্বরে হোমিওপ্যাথি কীভাবে সাহায্য করতে পারে; তাই আমি প্রতিটি মেইলের আলাদাভাবে উত্তর না দিয়ে এই পোস্টটি প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এছাড়াও, আমি একটি নির্দিষ্ট হোমিওপ্যাথিক ওষুধ ইউপেটোরিয়াম পারফিওলেটাম (Eupatorium Perfiolatum)-কে ডেঙ্গু জ্বরের প্রতিরোধক হিসেবে ব্যবহারের বিষয়েও প্রশ্ন পাচ্ছি।

    ডেঙ্গুর প্রতিরোধক হিসেবে কি ইউপেটোরিয়াম ব্যবহার করা উচিত?

    ডেঙ্গু জ্বরের প্রতিরোধক ওষুধ হিসেবে ইউপেটোরিয়ামের কোনো অকাট্য প্রমাণ নেই। যদিও ডেঙ্গুর লক্ষণগুলো এই ওষুধের সাথে বেশ মিলে যায়, তবুও এটিকে কোনোভাবেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। আমি বরং মানুষকে এই ধরনের অতিরঞ্জিত দাবি থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেব, কারণ এটি অনেককে তাদের নিয়মিত সতর্কতা শিথিল করতে এবং মশার কামড়ের প্রতি আরও বেশি সংবেদনশীল করে তুলবে।

    ডেঙ্গুর হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা কী?

    আমি মানুষকে হোমিওপ্যাথিক ওষুধের পাশাপাশি, ডেঙ্গু ধরা পড়লেই হাসপাতালের সাথে যোগাযোগ রাখার পরামর্শ দেব। দয়া করে হাসপাতালের চিকিৎসার পরিবর্তে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা গ্রহণ করবেন না, কারণ প্লেটলেট কাউন্ট প্রায়শই পরীক্ষা করার প্রয়োজন হয়। এক্ষেত্রে ইউপেটোরিয়ামের একটি ভালো ভূমিকা রয়েছে। ইউপেটোরিয়াম ব্যবহারের প্রধান লক্ষণগুলি হলো উচ্চ জ্বর, সাথে তীব্র পেশী এবং জয়েন্টের ব্যথা। প্রথম কয়েক ঘন্টার জন্য প্রতি ঘন্টায় ৩০সি পোটেন্সি ব্যবহার করা যেতে পারে এবং পরে এর ব্যবহার কমিয়ে দিনে চারবার করা যেতে পারে। বমিও উপসর্গের একটি অংশ হতে পারে। যদি রোগীর রক্তপাত শুরু হয়, তবে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান, কারণ প্লেটলেট সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে এবং এর প্রয়োজন হতে পারে। যদি প্লেটলেট সংখ্যা একটি সংকটজনক স্তরের (৪০,০০০/সেমি) নিচে নেমে যায়, তবে তাজা রক্ত ​​বা প্লেটলেট সমৃদ্ধ প্লাজমা (পিআরপি) সঞ্চালনের প্রয়োজন হতে পারে। এই পর্যায়ে যে হোমিওপ্যাথিক ওষুধগুলি খুব উপকারী সেগুলি হলো ল্যাকেসিস, হ্যামেমেলিস, মিলেফোলিয়াম।

  • দেশে লাফিয়ে বাড়ছে হামের প্রকোপ, মৃত্যু আরও ১২

    দেশে লাফিয়ে বাড়ছে হামের প্রকোপ, মৃত্যু আরও ১২

    দেশে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে হামের প্রকোপ। গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত হয়ে ২ জন এবং এই রোগের উপসর্গ নিয়ে আরও ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। রোববার (৫ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

    শনিবার সকাল ৮টা থেকে রবিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশের হাম সংক্রমণ পরিস্থিতির বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয় এই বিজ্ঞপ্তিতে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে একজন রোগী ঢাকা বিভাগে এবং অন্য একজন ময়মনসিংহ বিভাগে মারা গেছে। এ ছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে খুলনা বিভাগে ৫ জন, রাজশাহী বিভাগে ৩ জন এবং চট্টগ্রাম বিভাগে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ৫৪ জন এবং সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৯৭৪ জন। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে আজ ৫ এপ্রিল (সকাল ৮টা) পর্যন্ত সারা দেশে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯২৯ জন এবং সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৪৭০ জন।

    এ ছাড়া গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৩ হাজার ৩৮০ জন রোগী।

  • দেশের প্রায় দুই কোটি মানুষ সিওপিডিতে ভুগছেন

    দেশের প্রায় দুই কোটি মানুষ সিওপিডিতে ভুগছেন

    ক্রনিক অবস্ট্রাক্টিভ পালমোনারি ডিজিজ বা সিওপিডি হলো শ্বাসতন্ত্রের জটিল রোগ। এটি একটি গুচ্ছ রোগ যা ক্রনিক ব্রংকাইটিস, এমফাইসিমা ও ক্রনিক অ্যাজমার যেকোনো একটি, দুটি বা তিনটির সহাবস্থান। রোগটিকে একসঙ্গে বলে সিওপিডি।

    সিওপিডিকে অনেকে অ্যাজমা বলে ভুল করে থাকেন। আসলে সিওপিডি আর অ্যাজমা এক নয়। অসংক্রামক রোগগুলোর মধ্যে সিওপিডি অন্যতম। হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের পর পৃথিবীব্যাপী এটি মৃত্যুর তৃতীয় কারণ। বাংলাদেশে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে প্রায় ১২.৫ ভাগ লোক সিওপিডিতে ভুগছেন যা মোট জনসংখ্যার প্রায় দুই কোটি। শহরাঞ্চলের তুলনায় গ্রামীণ এলাকায় সিওপিডির প্রাদুর্ভাব বেশি।

    তবে ধুমপান পরিহার, দুষণমুক্ত পরিবেশে বসবাস, মুখে মাস্ক ব্যবহার করা, ফুসফুসের পুনর্বাসন কার্যক্রম গ্রহণ, ব্যালেন্স ডায়েট গ্রহণ, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগটি সনাক্তকরণ এবং যথাযথ চিকিৎসার মাধ্যমে রোগটি প্রতিরোধসহ রোগীর জীবনমান উন্নত করা যায়।

    বিশ্ব সিওপিডি দিবস ২০২৫ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১৯ নভেম্বর) এভারকেয়ার হসপিটাল ঢাকার রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগের আয়োজনে শ্বাসতন্ত্রের রোগ প্রতিরোধ ও চিকিৎসা বিষয়ক বৈজ্ঞানিক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

    অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন এভারকেয়ার হসপিটালের সিইও ও এমডি ডা. রত্নদ্বীপ চাস্কার। বিশ্ব সিওপিডি দিবসের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন গ্রুপ ডিরেক্টর, মেডিকেল সার্ভিসেস ডা. আরিফ মাহমুদ।

    দিবসের প্রেক্ষাপট নিয়ে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন এভারকেয়ার হসপিটাল ঢাকার রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ও চিফ কো-অর্ডিনেটর ডা. এস. এম. আবদুল্লাহ আল মামুন।

    তিনি বলেন, সিওপিডি দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসকষ্টজনিত রোগ, যা উপেক্ষা করলে জীবনমান দ্রুত কমে যায়। অথচ অনেক রোগীই জানেন না যে তারা সিওপিডিতে ভুগছেন।

    অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. দেলোয়ার হোসেন এবং জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক কালের কণ্ঠের সম্পাদক কবি হাসান হাফিজ।

    সেমিনারের বৈজ্ঞানিক সেশনে Role of NIV in COPD— বিষয়ের উপর বিশেষ প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এভারকেয়ার হসপিটাল ঢাকার রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. জিয়াউল হক এবং Surgical Management of COPD বিষয়ের উপর প্রবন্ধ উপস্থাপনা করেন থোরাসিক সার্জারির সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. মো. শাহিনুর রহমান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ডা. ফয়সাল ও ডা. তিসা। সমন্বয় করেন ডা. মাহফুজ আহমেদ চৌধুরী।

    অনুষ্ঠানে বক্তারা আরো বলেন, সিওপিডি প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, উন্নত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা এবং নিয়মিত চেক-আপ অত্যন্ত জরুরি। এছাড়াও ধূমপান ত্যাগ, বাসস্থানের ধোঁয়া কমানো, সময়মতো চিকিৎসা নেওয়া এবং নিয়মিত ফুসফুসের কার্যক্রম পরীক্ষা করা অপরিহার্য।

  • টাইফয়েড টিকার কার্যকারিতা ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে গবেষণায় ভয়াবহ তথ্য

    টাইফয়েড টিকার কার্যকারিতা ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে গবেষণায় ভয়াবহ তথ্য

    দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো শুরু হয়েছে জাতীয় টাইফয়েড টিকাদান কর্মসূচি। গত রোববার (১২ অক্টোবর) আনুষ্ঠানিকভাবে এ কর্মসূচির শুরু হয় । ৯ মাস থেকে ১৫ বছরের কম বয়সি প্রায় ৫ কোটি শিশুকে এ টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার। মাসব্যাপী এ ক্যাম্পেইনে শিশুদের বিনামূল্যে ইনজেকটেবল টাইফয়েড টিকা দেওয়া হচ্ছে।

    এ কর্মসূচিটি সফলের জন্য স্বাস্থ্য বিভাগ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফ ব্যাপক প্রচার চালাচ্ছে। স্বাস্থ্য বিভাগের প্রচারে বলা হয়েছে— ‘টিকাটি নিরাপদ ও কার্যকর। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার যাচাই করা এবং সৌদি হালাল সেন্টার কর্তৃক হালাল সনদপ্রাপ্ত’।

    এর আগে পাকিস্তান ও নেপালেও শিশুদের এই টিকা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে নেপালে এই টিকার কার্যকরিতা নিয়ে ২০ হাজার শিশুর মধ্যে একটি গবেষণা চালানো হয়েছে। বিশ্বখ্যাত মেডিকেল জার্নাল ল্যানসেট গ্লোবাল হেলথ গবেষণাপত্রটি প্রকাশ করেছে। সেখানে বিস্ময়কর তথ্য উঠে এসেছে।

    ল্যানসেটের গবেষণায় বলা হয়েছে— দক্ষিণ এশিয়ায় বিশেষ করে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও নেপালে টাইফয়েডের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। সম্প্রতি পাকিস্তানে সেফালোস্পোরিন অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্ট টাইফয়েড ছড়িয়েছিল। এ পরিস্থিতিতে টাইফয়েড থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় হতে পারে ভ্যাকসিন।

    অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং নেপালের পাটান অ্যাকাডেমি অব হেলথ সায়েন্সেসের গবেষকরা যৌথভাবে নেপালের ললিতপুর মেট্রোপলিটন শহরে এ গবেষণা চালান। এতে ৯ মাস থেকে ১৬ বছর বয়সি সুস্থ প্রায় ২০ হাজার ১৪ জন শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। শিশুদের দৈবচয়নের ভিত্তিতে দুটি দলে ভাগ করা হয়। একটি দলকে ভারত বায়োটেক ইন্টারন্যাশনালের তৈরি টাইফয়েড কনজুগেট টিকা (টিসিভি) দেওয়া হয়। অন্য দলটিকে দেওয়া হয় মেনিনজাইটিস ‘এ’ রোগের টিকা।

    টিকা দেওয়ার পর প্রায় এক বছর ধরে সব শিশুর স্বাস্থ্যের ওপর নিবিড়ভাবে নজর রাখা হয়। রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া টাইফয়েড রোগীদের তথ্য সংগ্রহ করে দুদলের মধ্যে তুলনা করা হয়। গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, যারা টাইফয়েড কনজুগেট টিকা (টিসিভি) পেয়েছিল, তাদের মধ্যে টাইফয়েডে আক্রান্ত হওয়ার হার নাটকীয়ভাবে কম, মাত্র ৭ জনের টাইফয়েড শনাক্ত হয়। বিপরীতে মেনিনজাইটিস টিকা পাওয়া কন্ট্রোল গ্রুপের মধ্যে ৩৪ জন টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়। এ তথ্য বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হন যে, এই টিকার কার্যকারিতা ৭৯ শতাংশ। অর্থাৎ টিকাটি টাইফয়েড হওয়ার ঝুঁকি বহুলাংশে কমিয়ে আনে।

    গবেষণার ফলাফলে বলা হয়েছে, টিকাটি প্রথম বছরে ৮১ শতাংশ এবং দ্বিতীয় বছরে ৭৯ শতাংশ কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে। ‘টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন (টিসিভি)’ নামের এই টিকা ৯ মাস বয়সি শিশু থেকে শুরু করে ১৬ বছর বয়স পর্যন্ত সবার জন্য নিরাপদ। টিকা দেওয়ার পর সামান্য জ্বর বা ইনজেকশনের স্থানে ব্যথা ছাড়া বড় কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা যায়নি।

    টাইফয়েড একটি ব্যাকটেরিয়াজনিত মারাত্মক সংক্রামক রোগ, যা মূলত দূষিত খাবার ও পানির মাধ্যমে ছড়ায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) ২০১৯ সালের তথ্যমতে, বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর প্রায় ৯০ লাখ মানুষ টাইফয়েডে আক্রান্ত হন এবং তাদের মধ্যে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার মানুষ মারা যায়। আক্রান্তদের একটি বড় অংশই শিশু ও কিশোর বয়সি।

    টাইফয়েড টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
    টিকা দেওয়ার পর কিছু মৃদু ও সাময়িক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। টিসিভি টিকা পাওয়া শিশুদের মধ্যে ৯ শতাংশের সামান্য জ্বর এসেছিল। এ ছাড়া ইনজেকশনের জায়গায় হালকা ব্যথা, ফোলাভাব বা লাল হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনাও দেখা যায়। তবে কোনো চিকিৎসা ছাড়াই এসব উপসর্গ সেরে যায়। এ গবেষণার ওপর ভিত্তি করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ইতিমধ্যে টাইফয়েড-প্রবণ দেশগুলোকে তাদের জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিতে টিসিভি অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করেছে।

    প্রসঙ্গত, এ টাইফয়েট টিকা নিয়ে বিভ্রান্তিকর প্রচার চালাচ্ছে একশ্রেণির মানুষ। এটি ঠিক নয়। অনেকের মধ্যে শিশুকে টিকা দেওয়া নিয়ে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিও পাওয়া যাচ্ছে। সামাজিক মাধ্যমে টিকাবিরোধী কিংবা টিকা না নিতে উদ্বুদ্ধ করে এক ধরনের প্রচারও দৃষ্টিতে এসেছে। শিশুর জন্য এখনই এ টিকা নেওয়া ঠিক হবে কিনা’ কিংবা ‘পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কেমন হবে’— এ ধরনের নানা উদ্বেগের কারণে অনেক অভিভাবক তার শিশুর নাম টিকার জন্য নিবন্ধন করানো থেকে বিরত রয়েছেন বলে জানা গেছে।

    এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোভিডের জন্য বুস্টার ডোজ পর্যন্ত নিয়েও অনেকে কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন। সে কারণেই টিকা নিয়ে ‘এক ধরনের অনাস্থা’ কারও কারও মধ্যে দেখা যাচ্ছে। তবে টাইফয়েডের টিকা নিয়ে ‘উদ্বেগ কিংবা অনাস্থার’ কোনো কারণ নেই বলেও জানিয়েছেন তারা।

    উল্লেখ্য, দেশে ৯ মাস থেকে ১৫ বছর বয়সি শিশু, কিশোর-কিশোরীদের বিনামূল্যে এ টিকা দেওয়ার কর্মসূচি নিয়েছে সরকার এবং ১৮ দিনের এই টিকাদান ক্যাম্পেইনের লক্ষ্য হচ্ছে— ৪ কোটি ৯০ লাখ শিশুকে টাইফয়েডের টিকা দেওয়া।

  • সর্দির কারণ, সর্দি ও ফ্লু কি একই? কীভাবে ছড়ায়, কারা ঝুঁকিতে, জটিলতা

    সর্দির কারণ, সর্দি ও ফ্লু কি একই? কীভাবে ছড়ায়, কারা ঝুঁকিতে, জটিলতা

    সাধারণ সর্দি হলো এক ধরনের ভাইরাসজনিত সংক্রমণ যা নাক এবং গলার শ্লেষ্মার স্তরকে আক্রান্ত করে। সাধারণ সর্দি প্রায় ২০০ প্রকারের ভাইরাস দ্বারা হতে পারে, যার মধ্যে রাইনোভাইরাস সবচেয়ে বেশি দায়ী। সাধারণত, প্রাপ্তবয়স্করা বছরে তিন থেকে চারবার সর্দিতে আক্রান্ত হতে পারেন। তবে ছোট শিশুদের সংক্রমণের হার আরও বেশি হতে পারে। শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা পুরোপুরি না গড়ে ওঠার ফলে সহজেই সংক্রমণের ঝুঁকিতে থাকে।

    প্রশ্ন: সর্দির হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা কী?
    হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা সর্দি-কাশির ক্ষেত্রে অনেক কার্যকরী প্রমাণিত হয়েছে। প্রাকৃতিক উপাদান থেকে তৈরি হোমিওপ্যাথিক ওষুধগুলো সরাসরি সংক্রমণের মূল সমস্যা লক্ষ্য করে কাজ করে, সংক্রমণের কারণটি নির্মূল করতে সাহায্য করে এবং শরীরের নিজস্ব সেলফ-হিলিং (self-healing) বা স্ব-সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। সর্দির ক্ষেত্রে অনেক সময় দ্রুত উপশম চাইতে এলোপ্যাথিক ওষুধের উপর নির্ভর করা হয়, যা শুধু সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে; তবে ভাইরাসটি শরীর থেকে পুরোপুরি দূর হয় না। এতে সর্দি বারবার ফিরে আসে এবং আরও বিরক্তিকর হতে পারে। এখানে হোমিওপ্যাথিক ওষুধ সহায়ক ভূমিকা পালন করে এবং ভাইরাসটিকে পুরোপুরি শরীর থেকে দূর করতে সহায়তা করে।

    প্রশ্ন: হোমিওপ্যাথি কী শরীরের স্বাভাবিক নিরাময় প্রক্রিয়াকে উদ্দীপিত করে?
    মানব শরীরের ভেতরে ভাইরাস ও অন্যান্য জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই করার স্বাভাবিক সেলফ-হিলিং ক্ষমতা থাকে। হোমিওপ্যাথিক ওষুধ এই স্বাভাবিক নিরাময় ক্ষমতাকে বৃদ্ধি করে এবং শরীরকে শক্তিশালী করে তোলে। ফলে, সংক্রমণ সহজে শরীর থেকে দূর হয়। এভাবে হোমিওপ্যাথিক ওষুধগুলো শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতাকে উদ্দীপিত করে ভাইরাসকে শরীর থেকে নির্মূল করে এবং রোগমুক্তিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

    প্রশ্ন: হোমিওপ্যাথি ওষুধ কী সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি?
    সর্দি এবং কাশির জন্য ব্যবহৃত হোমিওপ্যাথিক ওষুধগুলো প্রাকৃতিক উৎস থেকে প্রাপ্ত এবং এতে কোনো ধরনের রাসায়নিক উপাদান বা বিষাক্ত পদার্থ থাকে না। তাই এগুলো ব্যবহারে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকে না এবং সব বয়সের মানুষের জন্য এটি নিরাপদ। তাছাড়া, এই ওষুধগুলো শরীরকে স্বাভাবিকভাবে সুস্থ করে তোলে এবং জীবাণু প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক।

    লক্ষণভিত্তিক হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা
    হোমিওপ্যাথি এক ধরনের লক্ষণভিত্তিক চিকিৎসা পদ্ধতি, যা ব্যক্তি অনুযায়ী আলাদা ওষুধ নির্বাচন করে। সর্দি-কাশির ক্ষেত্রে প্রতিটি ব্যক্তির আলাদা লক্ষণ থাকায়, হোমিওপ্যাথি প্রতিটি লক্ষণ অনুযায়ী ভিন্ন ওষুধ প্রয়োগ করে। ওষুধের মাত্রা ও প্রয়োগের পুনরাবৃত্তি ব্যক্তির বয়স, রোগের অবস্থা এবং সর্দির তীব্রতা অনুযায়ী ভিন্ন হয়। তাই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া সেল্ফ-মেডিকেশন এড়ানো উচিত এবং উপযুক্ত মাত্রায় ওষুধ প্রয়োগ করা উচিত।

    বার বার সর্দিতে আক্রান্তদের জন্য হোমিওপ্যাথি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
    অনেক সময় তীব্র সর্দির পাশাপাশি বারবার সর্দিতে আক্রান্ত হয়। এমন প্রবণতা দেখা যায়। পুনরাবৃত্ত সর্দির জন্য দীর্ঘমেয়াদী হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা কার্যকর হতে পারে, যা সংক্রমণের হার কমিয়ে দিতে সহায়ক। চিকিৎসার মাধ্যমে ধীরে ধীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং সর্দি হওয়ার প্রবণতা কমে যায়। এভাবে পুনরাবৃত্ত সংক্রমণ রোধ করতে হোমিওপ্যাথি সহায়ক।

    প্রশ্ন: সর্দির কারণ কী?
    সাধারণ সর্দির কারণ প্রায় ২০০ প্রকারের শ্বাসযন্ত্র-সংক্রান্ত ভাইরাস। এর মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ ভাইরাস হলো রাইনোভাইরাস, এছাড়াও অ্যাডেনোভাইরাস এবং রেসপিরেটরি সিনসাইটিয়াল ভাইরাসও এই রোগের কারণ হতে পারে। ভাইরাস নাক বা গলায় প্রবেশ করে শ্লেষ্মার স্তরে লেগে যায় এবং বংশবিস্তার করতে শুরু করে। আমাদের দেহ এই সংক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া জানায়, যার ফলে নাক ও গলায় প্রদাহ তৈরি হয় এবং অতিরিক্ত শ্লেষ্মা উৎপন্ন হয়।

    প্রশ্ন: সাধারণ সর্দি ও ফ্লু কি একই রোগ?
    যদিও এই দুই অবস্থার লক্ষণগুলো অনেকটা একরকম, কিন্তু এরা দুটি আলাদা রোগ। সাধারণ সর্দি সাধারণত রাইনোভাইরাস দ্বারা হয় এবং ফ্লু ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস দ্বারা হয়। ফ্লুতে সাধারণত জ্বর, কাঁপুনি এবং মাথাব্যথার মতো আরও তীব্র লক্ষণ দেখা যায়, যা সাধারণ সর্দির তুলনায় অনেক বেশি গুরুতর।

    প্রশ্ন: সাধারণ সর্দি কীভাবে ছড়ায়?
    সাধারণ সর্দি খুবই সংক্রামক এবং এটি সরাসরি সংস্পর্শের মাধ্যমে ছড়ায়। এটি নাক, মুখ বা চোখের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করতে পারে।

    ১. প্রথমত, সংক্রমিত ব্যক্তির হাঁচি বা কাশির মাধ্যমে বাতাসে ভাইরাসযুক্ত ড্রপলেট ছড়ায়। যা পাশাপাশি অবস্থান করা ব্যক্তিরা শ্বাসের মাধ্যমে আক্রান্ত হয়।

    ২. দ্বিতীয়ত, সর্দিতে আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে সরাসরি হাত মেলানোর মাধ্যমে ছড়ায়।

    ৩. তৃতীয়ত, কোনো সংক্রামিত বস্তু (যেমন: বাসন, তোয়ালে) স্পর্শ করলে এবং তারপর চোখ, নাক বা মুখ স্পর্শ করলে ভাইরাস ছড়াতে পারে।

    প্রশ্ন: সর্দির লক্ষণ কী?
    সাধারণ সর্দির ভাইরাস শরীরে প্রবেশের ১-৩ দিনের মধ্যে লক্ষণগুলো প্রকাশ পায়। এর মধ্যে নাক বন্ধ বা সর্দি ঝরা, হাঁচি, গলা ব্যথা এবং কাশি রয়েছে। কিছু সাধারণ লক্ষণ যেমন: মাথাব্যথা, হালকা জ্বর, সাধারণ ক্লান্তি, এবং শরীর ব্যথা থাকতে পারে। ঘ্রাণ বা স্বাদ হারানো, এবং পোস্ট-নাসাল ড্রিপ (PND) থাকতে পারে। সাধারণত শুরুতে সর্দি পাতলা এবং স্বচ্ছ থাকে, তবে পরে এটি ঘন এবং হলুদ বা সবুজ হয়ে যায়। এই লক্ষণগুলো এক সপ্তাহ থেকে ১০ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে, এবং ব্যক্তি অনুযায়ী লক্ষণগুলো ভিন্ন হতে পারে।

    প্রশ্ন: কোন বয়সের মানুষ বা কারা সর্দির ঝুঁকিতে থাকে?
    যদিও সাধারণ সর্দি যে কেউ পেতে পারে, কিছু কারণ এই ঝুঁকি বাড়ায়:

    ১. বয়স: সর্দি যেকোনো বয়সের মানুষকে প্রভাবিত করতে পারে, তবে শিশুদের ঝুঁকি বেশি। শিশুদের প্রতিরোধ ক্ষমতা কম এবং তারা সহজেই সংক্রমণের ঝুঁকিতে থাকে। যারা ডে-কেয়ারে যায়, তাদের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বেশি থাকে।

    ২. কোন ঋতুতে বেশে হয়: সাধারণ সর্দি যে কোনো সময় হতে পারে, তবে শরৎকাল, শীতকাল এবং বর্ষাকালে এর ঝুঁকি বেশি।

    ৩. দুর্বল প্রতিরোধ ক্ষমতা: দীর্ঘস্থায়ী স্বাস্থ্য সমস্যার কারণে যাদের প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল, তাদের সর্দি হওয়ার প্রবণতা বেশি।

    ৪. পরিবেশ: স্কুল, বাজার, শপিং সেন্টার, পর্যটন কেন্দ্রের মতো জনবহুল স্থানে থাকা ব্যক্তিরা সাধারণ সর্দি-জনিত ভাইরাসের ঝুঁকিতে বেশি থাকে।

    প্রশ্ন: সাধারণ সর্দির জটিলতা কী?
    সাধারণত এক সপ্তাহ থেকে দশ দিনের মধ্যে সর্দি সেরে যায়। তবে দুর্বল প্রতিরোধ ক্ষমতার ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে কিছু জটিলতা দেখা দিতে পারে, যেমন কানের সংক্রমণ বা সাইনাস সংক্রমণ। কিছু ক্ষেত্রে সংক্রমণ শ্বাসনালীতে ছড়িয়ে যায় এবং তীব্র ব্রঙ্কাইটিস (বুকের ঠান্ডা, যেখানে ফুসফুসের শ্বাসনালীতে প্রদাহ তৈরি হয়), অ্যাজমা (প্রদাহজনিত শ্বাসযন্ত্রের রোগ, যেখানে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, শ্বাসকষ্ট, বুকের আঁটসাঁট অনুভূতি এবং কাশি দেখা দেয়) এবং নিউমোনিয়া (ফুসফুসের বায়ুকোষে প্রদাহ) হতে পারে যা চিকিৎসকের পরামর্শে চিকিৎসা করা প্রয়োজন, এবং সেক্ষেত্রে নিজে থেকে ওষুধ সেবন করা উচিত নয়।

    সর্দির শীর্ষ ৬টি হোমিওপ্যাথিক ওষুধ
    ১. আর্সেনিক অ্যালবাম – পাতলা জলীয় নির্গমন থাকলে এই ওষুধ কার্যকর। এই অবস্থায় নাক দিয়ে পাতলা, জ্বলনীয় নির্গমন হয় এবং ঠান্ডা পরিবেশে লক্ষণগুলো বেড়ে যায়।

    ২. আকোনাইট – হঠাৎ ঠান্ডা বাতাসের সংস্পর্শে সর্দি হলে আকোনাইট সবচেয়ে কার্যকর। এই ওষুধ নাকের গোড়ায় ব্যথা, মাথাব্যথা ও জ্বরের উপশম দিতে সাহায্য করে।

    ৩. নেট্রাম মিউর – সর্দি হাঁচি দিয়ে শুরু হলে নেট্রাম মিউর কার্যকরী। এতে পাতলা জলীয় নির্গমন হয় এবং নাক বন্ধ হয়ে গন্ধের অনুভূতি কমে যেতে পারে।

    ৪. হিপার – নাকের বন্ধভাব থাকলে হেপার সালফ নাক খুলে দেয় এবং নিঃসরণে সহায়ক। শীতল বাতাসে নাক বন্ধ হলে এই ওষুধটি কার্যকর।

    ৫. বেলেডোনা – গলার ব্যথাসহ সর্দি হলে বেলাডোনা ব্যবহৃত হয়। এর মাধ্যমে গলা লাল হয়ে ব্যথা অনুভূত হলে উপশম পাওয়া যায়।

    ৬. পালসেটিলা – ঘন হলুদ বা সবুজ নাসারন্ধ্র থেকে নির্গমন হলে এটি ব্যবহার করা হয়। সর্দির শেষ পর্যায়ে, যখন নাসারন্ধ্রের নিঃসরণ ঘন হয়ে হলুদ-সবুজ হয়ে যায়, তখন এটি কার্যকরী।

    বি. দ্র. হোমিওপ্যাথ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ না নিয়ে ওষুধ খেলে মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। সর্দিসহ যে কেনো রোগে আক্রান্ত হলে যোগাযোগ করুন 01710050200