আপনি কি প্রায়ই ঘন ঘন হাঁচি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ ও নাক চুলকানোর সমস্যায় ভুগছেন? সকালে ঘুম থেকে উঠে কি বারবার হাঁচি দিতে হয়? আবহাওয়ার পরিবর্তন হলেই কি এসব উপসর্গ তীব্র হয়ে ওঠে? তাহলে আপনি নাকের অ্যালার্জি—অথবা চিকিৎসা পরিভাষায় অ্যালার্জিক রাইনাইটিস—এ আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারেন।
কী এই অ্যালার্জিক রাইনাইটিস?
অ্যালার্জিক রাইনাইটিস, যাকে হে ফিভার বা পলিনোসিসও বলা হয়, হলো এক ধরনের অ্যালার্জি যা মূলত উপরের শ্বাসনালী ও চোখকে আক্রান্ত করে। এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার অতিরিক্ত সংবেদনশীল প্রতিক্রিয়া—যেখানে সাধারণত ক্ষতিকর নয় এমন উপাদানকেও শরীর শত্রু ভেবে প্রতিক্রিয়া জানায়। এই উপাদানগুলোকে বলে অ্যালার্জেন, যার মধ্যে রয়েছে:
- পরাগরেণু (pollen)
- ধুলো
- ছাঁচ (mold)
- পশুর লোম বা খুশকি
কেন হয় অ্যালার্জি?
অ্যালার্জি মূলত রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার একটি ‘ভুল প্রতিক্রিয়া’। অর্থাৎ, শরীর এমন কিছু উপাদানের প্রতি সাড়া দেয়, যেগুলো আসলে ক্ষতিকর নয়। গবেষণায় দেখা গেছে, শিল্পোন্নত বিশ্বের প্রতি ছয় জনে একজন মৌসুমী পরাগ অ্যালার্জিতে ভোগেন। শিল্পায়ন ও দূষণের ফলে এই সমস্যা আরও বেড়েছে। জাপানে দেখা গেছে, যেসব এলাকায় ডিজেল নির্গমন বেশি, সেখানে পরাগরেণুর প্রতি সংবেদনশীলতা তুলনামূলকভাবে বেশি।
জিনগত কারণও এর পেছনে ভূমিকা রাখে বলে ধারণা করা হয়।
হোমিওপ্যাথিতে চিকিৎসার সম্ভাবনা
হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা পদ্ধতি “সমান নিরাময় সমানের দ্বারা” নীতিতে বিশ্বাস করে। অর্থাৎ, যে উপাদান রোগের মতো লক্ষণ সৃষ্টি করে, তার পরিশোধিত রূপই একই ধরনের লক্ষণ নিরাময়ে সহায়তা করে। এই নীতির ভিত্তিতে অনেক গাছের পরাগ, যেগুলো অ্যালার্জির জন্য দায়ী, সেগুলোর থেকেই ওষুধ তৈরি করে হোমিওপ্যাথিতে সফলভাবে চিকিৎসা করা হচ্ছে।
কিছু কার্যকর হোমিওপ্যাথিক ওষুধ:
- গ্যালফিমিয়া গ্লাউকা: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একটি গবেষণায় এই ওষুধটি অ্যালার্জিক রাইনাইটিসে অত্যন্ত কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।
- হিস্টামিনাম হাইড্রোক্লো-রাইড: রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
- কার্ডিওস্পার্মাম হ্যালিকাকাবাম ও আমনি ভিসনাগা: উদ্ভিদ-ভিত্তিক নতুন ওষুধ, যেগুলো কার্যকারিতায় আশাব্যঞ্জক।
- অ্যালিয়াম সিপা, সাবাডিলা, অ্যামব্রোসিয়া, আরুন্দো মুর, আরালিয়া: প্রচলিত ওষুধ, যেগুলো লক্ষণভিত্তিক ব্যবহৃত হয়।
চিকিৎসায় সময় ও ধৈর্য
হোমিওপ্যাথি হলো ব্যক্তিকেন্দ্রিক চিকিৎসা। রোগীর উপসর্গ, শারীরিক ও মানসিক অবস্থা অনুযায়ী ওষুধ নির্বাচন করা হয়। ফলে, অ্যালার্জিক রাইনাইটিস সম্পূর্ণরূপে নিরাময় করতে এক বা দুই মৌসুম সময় লাগতে পারে। তবে সঠিক ও নিয়মিত চিকিৎসার মাধ্যমে এই সমস্যা সম্পূর্ণরূপে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।